দপ্তরে ৬ বছরের বেশি চাকরি করা যাবে না, শিক্ষা ক্যডারে বদলির উদ্ভট নীতিমালা আসছে - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

দপ্তরে ৬ বছরের বেশি চাকরি করা যাবে না, শিক্ষা ক্যডারে বদলির উদ্ভট নীতিমালা আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক |

কোনো নীতিমালা আর বিধানই মানা হয় না। যখন যারা ক্ষমতায় বা ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে ফায়দা লোটার কৌশল রপ্ত করেছেন তারা যেকোনোভাবে ভালো পদে থাকতে পারেন। মোটাদাগে গত তিনি দশকে এটাই বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষকদের বদলির  ইতিহাস। তবে, এই তিন দশকের সবসময়ই কিন্তু বদলি/পদায়নের বিধান বা নীতিমালা ছিলো এবং আছে। কিছুদিন পরপর বদলির নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম না। নতুন উদ্যোগে করা খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা চাকরিজীবনে কলেজের বাইরে কোনো দপ্তরে ছয় বছরের বেশি দয়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এর মধ্যে সর্বোচ্চ টানা তিন দপ্তরে কাজ করতে পারবেন। এরপর দুই বছরের জন্য কলেজে চাকরি করতে হবে।

এবার এই নীতিমালার দুটি চেহারা থাকবে। সরকারি কলেজের শিক্ষক বদলি/পদায়ন নীতিমালা এবং আরেকটি সরকারি দপ্তরে বদলির নীতিমালা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মূলত সরকারি কলেজে শিক্ষকতার জন্য নিয়োগ করা হয়। কিন্তু অনেকেই চাকরিজীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে। এমন কর্মকর্তাও আছেন যিনি যোগদানের কিছুদিনের মধ্যে ঢাকাসহ বড় শহরের সরকারি দপ্তরে নিয়োগ পেয়েছেন। এরপর ভুলে গেছেন কলেজে শিক্ষকতার কথা। এমন অবস্থায় বদলি/পদায়নে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা আর তদবির বন্ধে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ই-মেইলে আবেদন নিয়ে বদলির ব্যবস্থা আছে। এর পরিবর্তে বদলি করা হবে অনলাইনে আবেদন নিয়ে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এ লক্ষ্যে সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে। এটি তৈরি শেষ হলেই জারি করা হবে নতুন বদলি নীতিমালা। তবে, বরাবরের মতোই সব সফটওয়্যার তৈরির দায়িত্ব জামাতী কোম্পানী। 

বলতে গেলে গত ২ মাস বন্ধ আছে শিক্ষক বদলি ও পদায়ন। মূলত এক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও নানা অভিযোগ ওঠায় মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এই অবস্থা কার্যকর আছে। নতুন নীতিমালা জারির পর ফের শুরু হবে বদলি প্রক্রিয়া।

শিক্ষা ক্যাডারের সংশ্লিষ্টরা জানান, মাউশি অধিদপ্তরে কর্মরত বেশির ভাগ কর্মকর্তা সরাসরি আরেক দপ্তর থেকে পদায়ন নিয়ে এসেছেন। যেমন- মহাপরিচালক এসেছেন নায়েমের মহাপরিচালক পদ থেকে। পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) এসেছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিবের পদ থেকে। তিনি ওই বোর্ডে একটানা নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন। এভাবে অন্য আরও কয়েক কর্মকর্তা এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে এসেছেন। অথচ বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী এসব কর্মকর্তার মাঝখানে কমপক্ষে ২ বছর যে কোনো কলেজে চাকরি করার কথা।

দপ্তরে বদলির ক্ষেত্রে খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মকর্তা ৬ বছরের বেশি দপ্তরে চাকরি করতে পারবেন না। একটানা ৩ বছরের বেশি দপ্তরে থাকবেন না। ৩ বছর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কলেজে পদায়ন করা হবে। একটি দপ্তর থেকে সরাসরি আরেক দপ্তরে বদলি করা যাবে না। মাঝখানে তাকে কমপক্ষে ২ বছর কলেজে চাকরি করতে হবে। সরকারি দপ্তরে চাকরিজীবনে তিনবারের বেশি পদায়ন করা যাবে না। তবে এই পদায়ন সবমিলে ৬ বছরের বেশি হবে না। ওএসডির সময়কে দপ্তরে পদায়ন হিসেবে ধরা হবে না।

অপরদিকে সরকারি কলেজে বদলি/পদায়ন সম্পর্কিত খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা (প্রভাষক) চাকরি দুই বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একই কর্মস্থলে ৩ বছর এবং পদায়ন পাওয়ার পরের পদে কমপক্ষে ২ বছর পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করতে পারবেন না। পিআরএলে (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) যাওয়ার এক বছর আগে সুবিধা মতো স্থানে আবেদন করা যাবে। দুই কর্মকর্তার পারস্পরিক সমঝোতার বদলি করা যাবে। বদলির আবেদনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না।

প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, বিদ্যমান ই-মেইলে বদলির ব্যবস্থা থাকবে না। সব বদলির আবেদন করতে হবে অনলাইনে নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে। বছরে চারবার আবেদন করা যাবে। প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকরা জানুয়ারি, এপ্রিল, জুলাই ও অক্টোবরে বদলির আবেদন করতে পারবেন। সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকরা ফেব্রুয়ারি, মে, আগস্ট এবং নভেম্বরে বদলির আবেদন করতে পারবেন। নির্ধারিত মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে আবেদন করবেন। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কিংবা অন্য কোনোভাবে দেয়া আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

খসড়ায় বলা হয়েছে, স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই চাকরিজীবী হলে স্বামী বা স্ত্রীর নিকটতম কর্মস্থলে বদলি বা পদায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। তবে যেহেতু এ ধরনের কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক, তাই বিষয়টি অধিকার হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

সারা দেশে বর্তমানে ৬২৯টি সরকারি কলেজ আছে। এর মধ্যে ৩২৭টি কলেজ পুরনো। এসব কলেজে ১৪ হাজারের মতো শিক্ষক আছেন। বাকি ৩০২টি নতুন সরকারিকৃত। তবে এগুলোর সরকারিকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এসব প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজারের বেশি শিক্ষক আছেন।

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৩৮১ - dainik shiksha করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৩৮১ দাখিলের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে - dainik shiksha দাখিলের ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন যেভাবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ - dainik shiksha এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ দাখিলে পাস ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ - dainik shiksha দাখিলে পাস ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ এসএসসি ভোকেশনালে পাস ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ - dainik shiksha এসএসসি ভোকেশনালে পাস ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ ১০৪টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি - dainik shiksha ১০৪টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ জুনের মধ্যে - dainik shiksha এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ জুনের মধ্যে এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী ৬ জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব - dainik shiksha ৬ জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে ৯ নির্দেশ - dainik shiksha নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে ৯ নির্দেশ কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website