দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

সরকার স্বীকৃত বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এমপিও’র (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে। তবে এমপিও পাবে নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত যোগ্য প্রতিষ্ঠানই। নতুন করে এমপিও পেতে পারে প্রায় দুই হাজার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যাতে সরকারের ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকারও বেশি। জানা গেছে, প্রায় ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও’র জন্য আবেদন করলেও তাদের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব বেশি নেই। এমপিও’র জন্য প্রযোজ্য চার শর্ত পূরণ করতে পেরেছে মাত্র এক হাজার ৫২৯ প্রতিষ্ঠান। তবে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিবেচনায় এনে দীর্ঘ ৮ বছর পর খুলছে এমপিও’র দ্বার। বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিভাষ বাড়ৈ ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের পর গত ৮ বছরে এমপিওভুক্ত হয়নি কোনো বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অথচ এই সময়ে ৭ হাজারেরও বেশি বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের আগে একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া ননএমপিও প্রতিষ্ঠানও আছে প্রায় তিন হাজার। সব মিলিয়ে ১০ হাজারেরও বেশি সরকার স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান আছে এমপিওর অপেক্ষায়। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক কর্মচারী বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করছেন এমপিও’র জন্য। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই চলছে এমপিও’র দাবির আন্দোলন। বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্যরাও নিজ এলাকার প্রতিষ্ঠান এমপিও’র জন্য একই দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন। তবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার এমপিও নিয়ে অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।

আগামী এক মাসের মধ্যেই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষাবিষয়ক রিপোর্টারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়েছে আড়াই হাজারের কিছু বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী তালিকার শীর্ষে থাকা এক হাজার ৫২৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে এমপিওভুক্ত করা সম্ভব হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা দিতে পারব বলে আমরা আশা করছি। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। অনেক দিন ধরেই শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আমরা অনেক আগেই কাজ শুরু করেছি। এমপিওভুক্তির জন্য চারটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আবেদন নেয়া হয়েছে। আবেদনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে আমরা তা যাচাই-বাছাই করব। আর যারা যোগ্যতায় টেকেনি, তাদের উৎসাহিত করব যোগ্যতা অর্জনের। তাদেরও পরবর্তী পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়ে রেখেছেন, একসঙ্গে সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে না দিলে বা যোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অন্যটি পেলে এ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হবে। এ কারণেই সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে একইসঙ্গে এমপিওভুক্তির চেষ্টা করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত শতভাগ নিশ্চিত না হলেও প্রায় দুই হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার চিন্তাভাবনা নিয়ে কাজ চলছে।

তবে সমস্যা হচ্ছে কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিওর অপেক্ষায় থাকলেও এমপিওর যোগ্যতা পূরণ করতে পারছে না অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই। ফলে অর্থ সঙ্কটের বাইরেও প্রতিষ্ঠানের অযোগ্যতাও এমপিওর পথে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যোগ্য এক হাজার ৫২৯ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরও কিছু ভালো মানের প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে এমপিও ঘোষণা করার চিন্তাভাবনা চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ বলেছেন, মোট এক হাজার ৫২৯ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। বাজেটের পর এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা অনলাইনে আবেদন করে এমপিওভুক্ত হবেন এবং নিয়মিত সরকারী বেতনভাতার অংশ পাবেন।

জানা গেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ এক হাজার ২৮ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্কুল এবং কলেজের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছে ৭৪৯ কোটি টাকা। বাকি টাকা মাদরাসা এমপিওভুক্ত করার জন্য চাওয়া হয়েছে।

গত বছরের ৫ থেকে ২০ আগস্ট বেসরকারি স্কুল ও কলেজের কাছ থেকে অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন নেয়া হয়েছিল। প্রায় ১০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনলাইনে আবেদন করে। নতুন এমপিও’র জন্য চারটি শর্ত দিয়ে আবেদন করার নির্দেশ দেয়া হয়। এই চারটি শর্ত হলো- প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার। যেসব প্রতিষ্ঠান এই শর্তগুলো পূরণ করেছে তাদের মধ্য থেকে স্বয়ংক্রিয় গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেয়ার জন্য বাছাই করা হয়।

বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ২৭ হাজার ৮১০। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। প্রতি মাসে এদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের খরচ হয় ৯৪২ কোটি টাকা। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি করার প্রক্রিয়ায় আছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলছিলেন, যারা যোগ্য সবারই তো এমপিও পাওয়ার কথা। কিন্তু অর্থ সঙ্কটের কারণে যদি এক হাজার প্রতিষ্ঠান এমপিও করা হয় তাহলে বাকি দেড় হাজারের দোষ কী? তাদের কেন বঞ্চিত করা হবে? যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার চিন্তাভাবনা চলছে। সবাইকে এমপিওভুক্তির শতভাগ সুবিধা না দিতে পারলেও এ সুবিধা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। সবাই অন্তত এমপিওভুক্ত হোক। অপেক্ষায় আছে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান। যেগুলো পরবর্তীতে এমপিওভুক্ত যোগ্য হবে। সেগুলোও তো বিবেচনায় আনতে হবে।

সর্বশেষ ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে এক হাজার ৬২৪ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর আর কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়নি। প্রতিষ্ঠান এমপিওর দাবিতে বহুদিন যাবত আন্দোলন করছে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের সংগঠন ‘ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন’। ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে আছেন অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভুষণ রায়। সম্প্রতি এ ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকও করেন সংগঠনটির নেতারা।

অধ্যক্ষ গোলাম মাহামুদুন্নবী ডলার বলেন, ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী ১০-১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করায় তাদের মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন চললেও সরকার তাদের দাবি বাস্তবায়ন করছে না। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি আমাদের দাবি পূরণ করবেন বলে আশা করছি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে তৈরি করা মার্কেট অপসারণের নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে তৈরি করা মার্কেট অপসারণের নির্দেশ নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা - dainik shiksha নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সভা ১৫ ডিসেম্বর - dainik shiksha এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সভা ১৫ ডিসেম্বর সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত - dainik shiksha সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে খোঁজ রাখেন’ - dainik shiksha ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে খোঁজ রাখেন’ এইচএসসি-আলিমের ফরম পূরণ শুরু - dainik shiksha এইচএসসি-আলিমের ফরম পূরণ শুরু জেএসসি-জেডিসির ফল ৩১ ডিসেম্বর - dainik shiksha জেএসসি-জেডিসির ফল ৩১ ডিসেম্বর লিফলেট ছড়িয়ে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তির গ্যারান্টি! - dainik shiksha লিফলেট ছড়িয়ে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তির গ্যারান্টি! এমপিওভুক্তিতে কর্তৃত্ব কমলো ডিডিদের, বাড়লো শিক্ষা ক্যাডারের - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে কর্তৃত্ব কমলো ডিডিদের, বাড়লো শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা এমপিদের চিঠিতে এমপিও কেলেঙ্কারি - dainik shiksha শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা এমপিদের চিঠিতে এমপিও কেলেঙ্কারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল বছরের শেষ দিনে - dainik shiksha প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল বছরের শেষ দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় - dainik shiksha দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন please click here to view dainikshiksha website