দেশে ফের সক্রিয় প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

দেশে ফের সক্রিয় প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

চাকরি বা ভর্তি পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধরন বুঝে নির্ধারিত হয় চুক্তির টাকার পরিমাণ। অঙ্কটা পাঁচ থেকে ১৫ লাখ টাকা। পরীক্ষার প্রার্থী নির্বাচন, ডিভাইস সরবরাহের প্রক্রিয়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সমাধানপত্র সরবরাহ—সব বিষয় নিয়ে যোগাযোগ চলে ইন্টারনেটের বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে। বনিবনা হলে প্রার্থী পরীক্ষার হলে ঢুকে কানে খুদে ইয়ারপিস আর শরীরে রাবার দিয়ে আটকানো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে। সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয় বাইরে থেকে। রোববার (৮ ডিসেম্বর) কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন রেজোয়ান বিশ্বাস।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, বিসিএস ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় এভাবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থলোভী শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্র। চক্রের সদস্যদের বেশির ভাগই উচ্চশিক্ষিত। তাদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এমন তথ্য পেয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ।

ডিএমপির ডিসি মিডিয়া মাসুদুর রহমান বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই দেশজুড়ে সক্রিয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে তাদের অনেককে গ্রেফতার করেছে। অনেকেই সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে। এর পরও চক্রের অপতৎপরতা থেমে নেই।

ডিবি সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাহমুদুল হাসান আজাদ, রাসেল আলী, রুহুল আমীন, খালেকুর রহমান টিটু, আহমেদ জুবায়ের সাইমন, ইব্রাহিম ও নাহিদ নামের সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে মাহমুদুল হাসান আজাদ ৩৬তম বিসিএসের মাধ্যমে অডিটে (নন-ক্যাডার) চাকরি পান। অর্থের লোভে তিনি এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জনতা ব্যাংকের অ্যাসিস্টেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার (এইও) পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষার হল থেকে সংগ্রহ করে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে পরীক্ষার্থীর কাছে সরবরাহ করে চক্রের সদস্যরা। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষাসহ স্কুল-কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় টাকার বিনিময়ে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর সরবররাহ করত তারা। এদের গ্রেফতারের কয়েক দিন আগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে এই চক্রের আরো ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনএসআইয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশই ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এঁদের অনেকেই প্রকৃত চাকরিপ্রার্থীর সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তিতে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

সূত্র জানায়, ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৯ অক্টোবর গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের অন্যতম সদস্য ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন রানা ও অমর একুশে হল থেকে আবদুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরদিন পরীক্ষার হল থেকে ইশরাক হোসেন নামের এক পরীক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর প্রায় দুই বছর তদন্ত করে সিআইডি প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের অন্যতম সদস্য ইব্রাহিম ও তাঁর সহযোগী পাঁচ সদস্যসহ ৪৭ জনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের কারাগারে পাঠান আদালত।

ডিবি ও সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠনের নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে প্রশ্ন ফাঁসের মতো অপকর্ম করছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের সদস্যদের বেশির ভাগই এখন জামিনে মুক্ত। এরা জামিনে থাকার কারণেই প্রশ্ন ফাঁস নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের অনেক সদস্যকে ইতোমধ্যে সিআইডি গ্রেফতার করেছে। তাদের অনেকেই জামিনে রয়েছে। তবে এই চক্রের অনেক সদস্য এখনো প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের রার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি - dainik shiksha জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website