ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর মূল্যায়ন - মতামত - Dainikshiksha

ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর মূল্যায়ন

সাঈদ সাহেদুল ইসলাম |

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীগণ monthly pay order পান মাস শেষ হওয়ার প্রায় পনেরো-বিশ দিন পরে। মানে গত মাসের বেতন পেতে চলতি মাসের পনেরো-বিশ দিন চলে যায়। আর বাজেট পাসে জুনের বেতন পেতে হয় আগস্টে। ২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জুনের বেতনও আগস্টে তুলতে হয়েছে আমাদের। পত্রিকায় বেতনের শেষ তারিখ যেদিনই উল্লেখ করা হোক না কেন, সেখানে অপেক্ষা করতে হয় আরো কয়েকদিন। বলা যায় যে, এমনটিই এখন রীতি হয়ে গেছে। এবার জুনের বেতনের জন্য জুলাইয়ের শেষদিকে আমার এক সহকর্মী যখন প্রতিষ্ঠানের পিয়নকে জিজ্ঞেস করলেন ‘কী রে, গত মাসের বিলের খবর কী? কিছু জানিস?’ পিয়ন একগাল হাসি দিয়ে জবাব দিল, ‘স্যার, এবার বন্যায় বিলে এখন শুধু পানি আর পানি...!’ কোনোক্রমেই এটি কৌতুক নয়—এমনটিই বাস্তবতা। যেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই অবস্থা, সেখানে ননএমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের অবস্থা অনুমান করতে সহজ হবে।

যে সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত নয়, সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানেও লেখাপড়া চলছে—শিক্ষকগণ শেখাচ্ছেন, শিক্ষার্থীগণ শিখছে এবং ঐসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থীগণ বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এটা থেকেও বলা যায় যে, শিক্ষাবিষয়ক কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেয়েই সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষকগণ বছরের পর বছর শিক্ষাপ্রদান করছেন এবং আশায় আছেন তাঁরা এমপিওভুক্ত হবেন।

বাংলাদেশে যেম হারে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, সে হারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের তুলনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অপ্রতুল। তাই নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বরং সাধুবাদ জানানোই উচিত। সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকদের যেমন দায়িত্ব সচেতনতা ফিরবে, তেমনি শিক্ষার হার বাড়বে। ননএমপিও এমন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যেখানে এমপিওভুক্ত বা সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে ভালো ফলাফল আসে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল থেকেও সেটা যাচাই করা যেতে পারে।

যিনি শিক্ষক তিনি হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। বছরের পর বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরতে ঘুরতে জুতা-স্যান্ডেল ক্ষয় হয়ে গেলেও, তার সে জুতা-স্যান্ডেল কেনা দূরে থাক মেরামতের কোনো অর্থ নেই। ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের যদি এমপিওভুক্ত করা না হয়, তবে তারা কতদিন এভাবে চলতে পারবেন? কেন তাদের মুখ থেকে শুনতে হয় ‘জীবনে মনে হয় বড় পাপ করেছি শিক্ষকতা পেশায় এসে।’ বিশেষ করে যখন উত্সব আসে তখন ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চিত্রটা আরো করুণ মনে হয়। তারা অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে উত্সবে তাদের পরিবারের জন্য কিছু করতে পারছেন না এটা বড়ই দুঃখজনক। মধ্যবিত্ত এমন অনেক পরিবারের কর্তা সবকিছুর বিনিময়ে হয়তো সন্তানকে মানুষ করেছেন, কিন্তু যাকে মানুষ করা হয়েছে তিনি তো সমাজে নিজেকে মানুষ বলে পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ করবেন শিক্ষক হিসেবে তার আয় রোজগার না থাকার কারণে। মানুষ উত্সাহ হারিয়ে ফেললে বেশিদিন টিকে থাকতে পারে কি?

আমাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু একটু আন্তরিক হলে ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য কিছু করা যেতেই পারে। কখনো দেখার সুযোগ হয়নি তবে একটি শোনা কথা যে, বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশে শিক্ষকদের বেতনই সর্বোচ্চ। তাদের সঙ্গে আমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে এমনটিও নয়। যারা শিক্ষাদানের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতি সবার দৃষ্টি থাকা চাই। প্রয়োজনে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ননএমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগ্যতমদের মেধার মূল্যায়ন করা যায়। শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের সামান্যটুকু মূল্যায়ন অবশ্যই শিক্ষার জন্য কল্যাণকর।

সৌজন্যে :দৈনিক  ইত্তেফাক

সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর - dainik shiksha সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু - dainik shiksha অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে - dainik shiksha ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ - dainik shiksha দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website