please click here to view dainikshiksha website

নন-ক্যাডারের সাড়ে ৪শ শিক্ষককে জেলাসদরে পদায়নের তোড়জোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ১০, ২০১৭ - ৮:৫৬ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

নোয়াখালীর হাতিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ২৫টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন মাত্র দু’জন। একই জেলার ওছখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন। এই স্কুলে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৩টি। চট্টগ্রামের সন্দীপে মোমেনা সেকান্দর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ১২টি পদ থাকলেও বর্তমানে শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন। একই জেলার কারগিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৫টি; কিন্তু কর্মরত শিক্ষক আছেন মাত্র তিনজন।

এছাড়া চাঁদপুরের হাইমচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ৯টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন দু’জন এবং হাইমচর বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০টি পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন তিনজন। উপজেলা পর্যায়ে সারাদেশের মোট ১৪৩টি সরকারি হাই স্কুলে শিক্ষক স্বল্পতার এই চিত্র উঠে এসেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এক প্রতিবেদনে। জাতীয়করণসহ দেশে মোট সরকারি হাই স্কুল রয়েছে ৩৩৩টি। এসব স্কুলে শিক্ষকের পদ রয়েছে মোট ১০ হাজার ২৬৫টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত শিক্ষক আছেন সাত হাজার ৯৯৭ জন। দুই হাজার ২৬৮টি শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে এগুলোর মধ্যে এক হাজারের বেশি পদই উপজেলা পর্যায়ের স্কুলের বলে মাউশি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে মোট ৪৫০ জনকে নন-ক্যাডার পদে সরকারি হাই স্কুলে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাদের নিয়োগের জন্য ২০১৬ সালের আগস্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠায় সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। কিন্তু প্রার্থীদের ব্যাপারে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হতে বিলম্ব হওয়ায় প্রায় এক বছর চলে গেছে। সম্প্রতি পুলিশের পক্ষ থেকে ৪৫০ জনের প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, শিক্ষক স্বল্পতায় উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাই স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত থাকলেও ৪৫০ জনকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পদায়নের তালিকা তৈরি করছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বড় শহরগুলোতে স্কুলে শিক্ষক স্বল্পতা খুব একটা নেই।

কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তদবিরের চাপে নন-ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষককে জেলা সদরের স্কুলে পদায়নের তোড়জোড় চলছে। আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের শহরের স্কুলে পদায়নের চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজ হয়নি।

এ ব্যাপারে মাউশি অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক এলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে কাকে কোথায় পদায়ন করবেন, সেটা তাদের বিষয়। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা কেবল মন্ত্রণালয়ের কাছে শূন্য পদের একটি তালিকা পাঠিয়েছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৩টি

  1. ABU SUFIAN.. assistant teacher..Patanusher high school. Kamalgonj.Moulvibazar says:

    ১৩/১১/১১ পরিপত্র বাতিল করে আগে সকল শাখা শিক্ষক দের এম,পি,ও দিন।
    ব্যবসায় শাখা কে প্যাটার্ন ভূক্ত শূন্য পদ করে commerce এর এম,পি,ও
    দিন।।।

  2. Kamal M Mostafa says:

    These BCS qualified teachers are eligible for being posted at district level Govt high schools. I welcome the efforts of the Ministry of Education.

আপনার মন্তব্য দিন