নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অনির্দিষ্টকাল বন্ধ - ইংলিশ মিডিয়াম - Dainikshiksha

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অনির্দিষ্টকাল বন্ধ

বিভাষ বাড়ৈ |

ঈদের ছুটির পর এক মাস চলে গেলেও এখনও খোলেনি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো। গুলশানে জঙ্গী হামলার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়েই স্কুল কর্তৃপক্ষ দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়ে চলেছে। অথচ ঘোষণা ছিল ঈদের পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি খুলে দেয়া হবে স্কুলগুলো। এর মধ্যেই গুলশানে ঘটে যাওয়া জঙ্গীদের হত্যাযজ্ঞ আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে স্কুলগুলোতে। স্কলাসটিকার পাঁচটি ক্যাম্পাসেই গেল সপ্তাহে খোলার ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কথা তুলে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। একই অবস্থা মাস্টারমাইন্ড, সানিডেল, সানবিম, কানাডিয়ান ইন্টারন্যাশনাল, লন্ডন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মতো নামিদামি স্কুলগুলোরও। এদিকে খোলার কোন তারিখও জানাচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে চরম উদ্বেগে পড়েছেন হাজার হাজার অভিভাবক।

অভিভাবকরা অভিযোগ তুলেছেন কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি নিয়ে। দিনের পর দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধের যৌক্তিক কারণ ও খোলার তারিখ না জানানোয় অসন্তোষ বাড়ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। তারা বলছেন, বাড়তি নিরাপত্তা নিয়ে দেশের সকল স্তরের হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে চালু রাখা গেছে, সেখানে কেবল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কেন এভাবে দিনের পর দিন বন্ধ রাখা হবে? অভিভাবকরা হঠাৎ করে নিরাপত্তার অজুহাতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের কার্যক্রম বন্ধের তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, হাতেগোনা কিছু ছোট স্কুল খোলা আছে। নিরাপত্তা বাড়িয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিয়েছিল তারাও এখন ব্রিটিশ কাউন্সিলের ঘোষণায় নতুন করে আতঙ্কিত হয়ে বন্ধের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ ‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেলের হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর কথা কোন প্রতিষ্ঠান ভাবছে না। প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকলেও দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না ‘নিয়ন্ত্রণের’ বাইরে থাকা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এ সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো সরকারের নিয়ম মেনে চলছে না। কখন বন্ধ হয়, কখন খোলে তাও তারাই জানে। কিন্তু ইংলিশ মিডিয়ামের কোন স্কুল কর্তৃপক্ষ যদি অনিরাপদ বোধ করেন, তবে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারেন। আমি যতদূর জানি, এ ধরনের সহযোগিতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করছে। তাহলে তাদের তো সমস্যা থাকার কথা নয়। দেশের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানতো চলছে।

দেশের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সব সময়েই স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ছিল। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো তাদের ইচ্ছামতো চলে- এ অভিযোগ ছিল সব সময়ই। কারিকুলাম, সেশন ফি, শিক্ষক নিয়োগ তাদের ইচ্ছামতো করে। এ স্কুলগুলো এমপিওভুক্ত নয়। সরকার থেকে তারা কোন ধরনের সাহায্য নেয় না। তাই সরকারী নির্দেশাবলীও মানতে চায় না। বহু ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভুল ইংরেজী শিক্ষা দেয়া হয় বলেও অভিযোগ আছে। এখানে শিক্ষাপ্রদান এবং গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও আছে প্রশ্ন। সরকার এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, যার ফলে দেশের সংস্কৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থীরাও বেড়ে উঠছে দেশ, দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ না করেই। তারপরও কিছু ভালমানের প্রতিষ্ঠানও আছে। আন্তর্জাতিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে দিনে দিনে এ মাধ্যমে বেড়েছে শিক্ষার্থী। দেশে এ মাধ্যমের শিক্ষার্থী এখন কয়েক লাখ। সারাদেশে অন্তত ১৫ থেকে ২০ হাজার ইংরেজী মাধ্যমের স্কুল চালু রয়েছে। যদিও সত্যিকার অর্থেই ইংলিশ মিডিয়াম হিসেবে বিবেচনা করা যায় এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০০টি।

এদিকে শিক্ষার ব্যবস্থাপনা নিয়ে যতই প্রশ্ন থাকুক না কেন, এতদিন নিরবচ্ছিন্নভাবেই চলছিল শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু গুলশানে জঙ্গী হামলার পর পাল্টে গেছে পরিস্থিতি। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিদেশী নাগরিক।

আবার গুলশানে জঙ্গী হামলায় জড়িত পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই ছিল নামকরা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। রোহান ইমতিয়াজ ও মীর সামিহ মোবাশ্বের পড়ত স্কলাসটিকা স্কুলে। নিরবাস ইসলাম পড়েছে ইন্টারন্যাশনাল টার্কিশ হোপ স্কুলে। গুলশান হামলায় নির্বিচারে বিদেশী নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় এখন বিদেশী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা আতঙ্কে রয়েছেন।

নিরাপত্তার কারণে ঈদের ছুটির পর আর প্রথমসারির ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো খোলেনি। মাঝে দু’একটি স্কুল খুললেও গত শুক্রবার আবার সেগুলো বন্ধের নোটিস দেয়া হয়েছে। বাইরে নিরাপত্তার কথা জানালেও নোটিসে বলা হয়েছে অনিবার্য কারণে স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। খুলেছিল ম্যাপললিপ, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড, সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড, অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। এগুলোই আবার বন্ধ করে নোটিস দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইংরেজী মাধ্যম স্কুলের অভিভাবকদের সমন্বয়ক এ্যাডভোকেট আমিনা রত্নব। তিনি বলছিলেন, অনেক অভিভাবক আমাকে ফোন করে স্কুল বন্ধের কারণ জানতে চাচ্ছেন। আমি নিজেও জানি না কেন খোলা স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আমরা রীতিমতো জিম্মি হয়ে গেছি। ইংলিশ মিডিয়ামে আমার সন্তানকে ভর্তি করিয়ে কী অন্যায় করেছি?

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলের নোটিস বোর্ড এবং স্কুলের ওয়েবসাইটে বন্ধের নোটিস দেয়া হচ্ছে। সেখানে স্কুল খোলার পরবর্তী তারিখ শিক্ষার্থীদের খুদেবার্তা এসএমএস করে জানিয়ে দেয়া হবে বলে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবকদের মধ্যে। তারা বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে এর কারণ জানার চেষ্টা করছেন। তবে ইংলিশ মিডিয়ামের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা না থাকার কারণে এসব জানতেও পারছেন না তারা।

এর আগে কয়েক দফা খোলার তারিখ দিয়ে স্কুল খুলতে পারেনি স্কলাসটিকা, মাস্টারমাইন্ড, সানিডেলসহ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপর মধ্যমসারির প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

ব্রিটিশ কাউন্সিল বন্ধ রয়েছে গত ৯ দিন ধরে। কবে নাগাদ খোলা হবে তা-ও নিশ্চিত নয়। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ইংলিশ মিডিয়ামে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড স্কুলের অভিভাবক হাসনা হেনা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে হাজার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলছে। তাহলে কেবল ইংলিশ মিডিয়াম কেন বন্ধ রাখা হবে? তিনি কর্তৃপক্ষের লুকোচুরির সমালোচনা করে বলেন, নিরাপত্তা বাড়ানো হোক। দরকার হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সদস্য রাখা হোক। কিন্তু এভাবে কোন প্রতিষ্ঠান দিনের পর দিন বন্ধ রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অভিভাবক সমালোচনা করেন ব্রিটিশ কাউন্সিলেরও। তিনি বলেন, আমার সন্তানের সামনে ‘এ’ লেবেল পরীক্ষা। অথচ কাউন্সিল জানিয়েছে, পরীক্ষার নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ খোলা রাখা হচ্ছে। কাউন্সিলের ঘোষণায় ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলো তাদের ছুটির মেয়াদও বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ এই অভিভাবকের।

জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার কথা ছিল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে। এরপর প্রায় আরও এক মাস কেটে গেলেও বেশির ভাগ ইংরেজী মাধ্যম স্কুল খোলেনি। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা থাকলেও ক্লাস হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কলাসটিকা, হার্ডস, ইউরোপিয়ান স্ট্যান্ডার্ড, হোপ ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান কয়েক দফা খোলার তারিখ দিয়েও খোলেনি। এর কারণ হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্প্রতি গুলশানে জঙ্গী হামলার পর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। এজন্য স্কুলের সিকিউরিটিসহ আরও কিছু বিষয় রিভিউ (পুনর্মূল্যায়ন) হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি ও কার্ডিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিএম নিজাম উদ্দিন বলেন, জঙ্গী হামলার পর একটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এজন্য অনেক স্কুলই একটু দেরি করে খুলছে। অনেকেই দেশের পরিস্থিতি অবজার্ভ করছে। কেউ কেউ নিরাপত্তার জন্য গেট তৈরি করছে, কেউ অন্যভাবে সিকিউরিটি বাড়াচ্ছে। তবে চলতি মাসের মধ্যেই সব স্কুল খোলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী জিএম নিজাম উদ্দিন।

গত জুনের শুরুতেই গ্রীষ্মকালীন ও ঈদের ছুটির জন্য বন্ধ হয়ে যায় স্কলাসটিকা স্কুলের পাঁচটি শাখা। ২৪ জুলাই তাদের স্কুল খোলার কথা ছিল, কিন্তু অভিভাবকদের জানিয়ে দেয়া হয় অনিবার্য কারণে স্কুল বন্ধ থাকবে। কবে খুলবে এখন তা-ও জানানো হয়নি। মাস্টারমাইন্ড স্কুলও গত ২৪ জুলাই খোলার কথা ছিল, কিন্তু তা পিছিয়ে ৩১ জুলাই করা হয়। তবে সেদিনও স্কুল খোলেনি, কবে খুলবে সেটাও জানানো হয়নি। সানিডেল স্কুল খোলার কথা ছিল গত ৩১ জুলাই। কিন্তু ওরিয়েন্টেশন শেষে জানিয়ে দেয়া হয় অভিভাবকদের উদ্বেগের কারণে আপাতত স্কুল বন্ধ থাকবে।

স্কলাসটিকা স্কুলের যোগাযোগ সমন্বয়কারী জিয়া হাসান বলেন, স্কুল খোলার এখনও কোন তারিখ ঠিক হয়নি। গুলশানে জঙ্গী হামলার পর নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। এজন্য স্কুলের সিকিউরিটিসহ আরও কিছু বিষয় রিভিউ (পুনর্মূল্যায়ন) হচ্ছে। সেগুলো ঠিক হওয়ার পর স্কুল খোলা হবে। ঠিক করতে আর কতদিন লাগবেÑ এমন প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা যাচ্ছে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি খোলা হতে পারে প্রতিষ্ঠান।

সানিডেল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের কিছু নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার ছিল। কিছু নতুন ইনিশিয়েটিভ নেয়া হয়েছে। এগুলোর কাজ সম্পন্ন হলেই স্কুল খোলা হবে। শিক্ষকরা বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সহায়তা চেয়েছি। তারা এখনও নিরাপত্তা দিচ্ছে। আর অভিভাবকদের আমরা মেসেজ করেছি। তবে স্কুল খোলার দিনক্ষণ নির্ধারণ না হওয়ায় তাদের ডেট দিতে পারছি না।[insid]

জঙ্গী হামলার পর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। অনেক স্কুল সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার পাশাপাশি প্রহরীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। একবার খুলেও আবার বন্ধ করা হয়েছে বারিধারায় অবস্থিত সিডনি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল কাজী নাসরিন সিদ্দিকা বলেন, ভয়ে ভয়ে স্কুল খুলেছিলাম। কিন্তু উপস্থিতি একেবারে কম ছিল। এর মধ্যে অভিভাবকরা নিরাপত্তা নিয়ে আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এজন্য স্কুল বন্ধ করে দিয়েছি।

অভিভাবকরা হতাশা প্রকাশ করে বলছেন, স্কুল কবে খুলবে তা জানানো হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা দেড়-দুই মাস ধরে বাসায় বন্দী থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এমনকি কেউ কেউ স্কুল পাল্টানোর কথাও ভাবছেন। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল বলে এর কোন দায়দায়িত্বই নিচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী বাংলাদেশের হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি অধিদফতর তাদের বিষয়ে দায়িত্ব নিতে চায় না। এমনকি এ স্কুলগুলোর বিষয়ে তাদের কাছে খুব বেশি তথ্যও নেই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক) চৌধুরী মুফাদ আহমেদ বলেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর বিষয়ে আমাদের কাছে ডে টু ডে সুপারভিশনের রিপোর্ট নেই। অনেক স্কুলই যে বন্ধ সে বিষয়ে ফরমালি রিপোর্টও আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা তাদের একটা নীতিমালার মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। অধিদফতরের সঙ্গে লিংকেজটা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ওদের (ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল) আমরা তদারকি করি না। ওরা আমাদের কথা শোনেও না। তারপরও আমাদের শিক্ষার্থীরাই তো পড়ে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। যদি এখনও বন্ধ থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই খোঁজ নেব। কেন বন্ধ আছে তা জানতে চেয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

ডিগ্রি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ - dainik shiksha ডিগ্রি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু - dainik shiksha আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি - dainik shiksha নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! - dainik shiksha শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! একাডেমিক স্বীকৃতি পেল ৪৭ প্রতিষ্ঠান - dainik shiksha একাডেমিক স্বীকৃতি পেল ৪৭ প্রতিষ্ঠান এমপিও কমিটির সভা ১৯ নভেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ১৯ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ১৮ নভেম্বর - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ১৮ নভেম্বর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website