নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাক্ষেত্রে যা চাই - মতামত - Dainikshiksha

নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাক্ষেত্রে যা চাই

মু. মিজানুর রহমান মিজান |

আসছে ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে বা যৌক্তিক কোনো কারণে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ধার্যকৃত দিন-তারিখ পরিবর্তন না করলে উল্লেখিত দিনেই নির্বাচন হবে। সে হিসেবে এখন খুব বেশিদিন বাকি নেই। দেশে মাথা তোলা দলসমূহের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে, কোনো কোনো দলের হয়ত শেষ। বাকি আছে ইশতেহার ঘোষণার, যার মাধ্যমে দলগুলো জয়ী হলে কী কী কাজ করবে এবং এতে করে রাষ্ট্র এবং জনগণের কী ধরনের উপকার পাবে সে সবের একটি ধারণা উপস্থাপন করে থাকে। একটি জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ইশতেহার ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনেক ক্ষেত্রে বা মৌলিক দিকগুলোতে প্রায় একই রকম দেখা যায়।

দেশ ও জনগণের বেশ কিছু মৌলিক চাহিদার একটি হলো শিক্ষা। শিক্ষা ছাড়া কোনো ব্যক্তি যেমন সফল হতে পারে না, তেমনি একটি জাতি বা দেশের পক্ষেও সম্ভব নয় কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। আমরা বাংলাদেশিরা এখনও মনে করি শিক্ষা মানে হলো স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা এবং এই পড়াশোনার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য হলো একটি ভালো চাকরি। কিন্তু ভালো চাকরির কোনো সুস্পষ্ট ধারণা আমাদের নেই। কেউ হতে চায় প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা আবার কেউ যেকোনো পর্যায়ের একটি সরকারি চাকরি পেলেই বেজায় খুশি। আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে: ‘সরকারি চাকরির পানিও ভালো’। কিংবা ‘হাতি বাঁচলেও লাখ টাকা, মরলেও লাখ টাকা’। সরকারি চাকরিকে এখানে হাতির সাথে তুলনা করা হয়েছে। আবার কেউ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রত্যাশা করে থাকে। এইসব চিন্তাধারা যে শিক্ষার মূল ধারণা থেকে অনেক দূরে, চাকরি লাভের আশায় শিক্ষার্জন করা অনুচিত বা কর্মমুখী শিক্ষাই সর্বোত্তম শিক্ষা সে ব্যপারে লাখ লাখ বেকারের দেশে নির্বাচনী ইশতেহারের এমন একটি সমস্যা সমাধানে বিশেষ চ্যালেঞ্জ থাকা জরুরি, যদিও কর্মমুখী শিক্ষার ছোঁয়া আমাদের সোনার দেশে ইতোমধ্যেই লেগেছে। পাশাপাশি আমাদের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী/ প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষক/ প্রশিক্ষকের প্রত্যাশিত অনুপাত অনুপাত ১২:১ প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্যের নীতিগত তাগিদসমূহের মধ্যে একটি হলো- ‘মুখস্থবিদ্যার পরিবর্তে বিকশিত চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও অনুসন্ধিত্সু মননের অধিকারী হয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিস্তরে মানসম্পন্ন প্রান্তিক যোগ্যতা নিশ্চিত করা। যা বাস্তবায়নের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে চালু হয় সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি। ধারণা করা হয়েছিল শিক্ষার্থীরা মুখস্থবিদ্যার বালাই থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু সে আর হলো কোথায়? শিক্ষাক্ষেত্রে সত্যিকারের সৃজনশীলতা আনয়ন এখন সময়ের দাবি।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসারে ২০১৮ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১ :৩০ অর্জন করার কথা কিন্তু বিভিন্ন কারণে সরকার এখানে ব্যর্থ হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অতিদ্রুতই অর্জন করা দরকার। সময় এসেছে মাধ্যমিক শিক্ষাকেও প্রাথমিকের মত সরকারিকরণ করা।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার সময় এসেছে। শিক্ষাবর্ষ ও বার্ষিক বিদ্যালয় কর্মদিবস প্রণয়নে কোনো নির্দিষ্ট দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা অন্যতম প্রধান বিষয়। প্রত্যেকটি দেশের আবহাওয়া বিবেচনায় নিয়ে বছরের একেক সময় থেকে একেক সময় পর্যন্ত, শিক্ষাবর্ষ গণনা করা হয়। ষড়ঋতুর বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় নিলে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ধরে রাখার মতো তুলনামূলক বেশি উপযুক্ত সময়ে শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকে বিভিন্ন রকম কো-কারিকুলার কার্যক্রমে, না হয় পরীক্ষা নিয়ে। আর যে সময় প্রকৃতিতে থাকে বিরতিহীন দাবদাহ, বৃষ্টি, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মত বৈরী আবহাওয়া তখন ক্যালেন্ডারে থাকে বিরতিহীন শ্রেণি কার্যক্রম। তাইতো শিক্ষা বর্ষপঞ্জির প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সবগুলোকেই শতভাগ এই প্রযুক্তির আওতায় আনতে হবে। এমন ছোট-বড় অনেক চাওয়া রয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদে যারা আধিপত্য বিস্তার করবেন। আশা করছি উক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিলে শিক্ষাক্ষেত্রে যেমন উন্নতি আসবে তেমনি ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা সরকারি দলেরও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে। শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভালোর দিকে উন্নতি লাভ করুক। একাদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর হোক।

 

লেখক:শিক্ষার্থী, সরকারি টিচার্স, ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা

এমএ পাস ওসি দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা - dainik shiksha এমএ পাস ওসি দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা ভাষার জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু: শিক্ষা উপমন্ত্রী - dainik shiksha ভাষার জন্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু: শিক্ষা উপমন্ত্রী স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ১৪ মার্চ - dainik shiksha স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ১৪ মার্চ এমপিওভুক্তির নামে প্রতারণা, মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha এমপিওভুক্তির নামে প্রতারণা, মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি ফল পরিবর্তনের চার ‘গ্যারান্টিদাতা’ গ্রেফতার - dainik shiksha ফল পরিবর্তনের চার ‘গ্যারান্টিদাতা’ গ্রেফতার প্রাথমিকে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রার্থীদের ২০ শতাংশ কোটা - dainik shiksha প্রাথমিকে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রার্থীদের ২০ শতাংশ কোটা ১৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু - dainik shiksha ১৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ - dainik shiksha প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website