নির্বাচনের বছরে আগেভাগেই ৩৭ কোটি পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া শুরু - বই - Dainikshiksha

নির্বাচনের বছরে আগেভাগেই ৩৭ কোটি পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক |

চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের বছরে ছাপাখানা ব্যস্ত থাকে পোস্টার বানানোর কাজে। তাছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতারও সম্ভাবনা থাকে। এইসব  আশঙ্কা থেকেই এবার বিনামূল্যের ৩৭ কোটি পাঠ্যবই ছাপানোর  প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।চলতি মাসে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, মার্চ মাসে কাজ বন্টন ও জুলাই মাসের মধ্যে পাঠ্যবই ছাপা শেষ করে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে অক্টোবরের মধ্যে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড  (এনসিটিবির) সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী (রতন সিদ্দিকী) গত সপ্তাহে দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন, ইতিমধ্যে বেশ কিছু বইয়ের টেন্ডার হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে বাকি সব পাঠ্যবই ছাপার টেন্ডার আহ্বান শেষ হবে। এবার প্রাথমিক স্তরের বই শতভাগ নিজস্ব টাকায় বই ছাপাবে সরকার। আগে বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই টাকা দিতো এবং টাকা নিয়ে ঝামেলা করতো।

রতন সিদ্দিকী আরও বলেন, এবার নির্বাচনী বছর হওয়ায় আগে থেকেই বই ছাপার কাজটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আমরা সরকারে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ইতিমধ্যেই কাজে নেমে পড়েছি। ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বই ছাপিয়ে উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি এনসিটিবি চেয়ারম্যান দেশে ফেরার পর প্রথম বৈঠকে বেশ কয়েকটি আলোচ্যসূচি রাখা হয়েছে। অন্যান্য বছর ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে বই ছাপা ও পৌছাঁনোর কাজ শেষ করা হতো। গত বছর বই ছিল ৩৫ কোটি, এবার ৩৭ কোটি।

তিনি বলেন,  মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার এটিপিপি ২৩ জানুয়ারি অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর গত রোববার প্রাথমিক স্তরের বই ছাপার এটিপিপি অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের বই ছাপার টেন্ডার আহ্বান করা হবে আগামী মাসের ৫ মার্চ। টেন্ডারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বই ছাপার কাজ পাওয়া ঠিকাদারদের সঙ্গে ৬ জুন চুক্তি করা হবে। সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী (পিপিআর) ঠিকাদারদের ৪৯ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৯ আগস্টের মধ্যে অর্ধেক বই সরবরাহ করতে হবে। ৮৪ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই ঠিকাদারদের সরবরাহ করতে হবে।

মাধ্যমিক স্তরের (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) কাগজ ও আর্টবোর্ডসহ বই ছাপার টেন্ডার আহ্বান করা হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি হবে ১ জুলাই। আর ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই সরবরাহ করতে হবে। ঠিকাদারদের কাগজসহ মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার (এসএসসি ভোকেশনাল, দাখিল ও আলিম ভোকেশনাল) টেন্ডার ডাকা হবে ২৭ মার্চ। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে চুক্তি করা হবে ১১ জুলাই। আর ১৭ অক্টোবরের মধ্যে বই সরবরাহ করতে হবে। কাগজ ছাড়া (এসএসসি ভোকেশনাল, দাখিল ও আলিম ভোকেশনাল) বই ছাপার টেন্ডার ডাকা হবে ২ মার্চ। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে ১৫ জুন চুক্তি হবে। ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে বই সরবরাহ করতে হবে। ব্রেইল ও প্রাক-প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই ছাপার টেন্ডার ডাকা হবে ২০ এপ্রিল। কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে এনসিটিবির চুক্তি হবে ৮ আগস্ট। বই সরবরাহ করতে হবে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দৈনিকশিক্ষাডটকমকে জানান, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা পাঠাতে বলা হয়েছে।

বছরের প্রথমদিনে প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের বই তুলে দেয়া বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম সাফল্য। দেশীয় মূদ্রকার ও ঠিকাদারা মিলে জিম্মি করে রাখতো সরকার ও অভিভাবকদের। পুরনো সিন্ডিকেট ভাঙ্গার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাঠ্যবই ছাপানোর কাজটি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে করার সিদ্ধান্ত হয় ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে। ওই সময়ে বিএনপি-জামাতসহ কয়েকটি গণমাধ্যম সরকারের ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে।

মাধ্যমিক স্তরে বিনামূল্যে বই দেয়ার চিন্তা ও সিদ্ধান্তের পেছনে মূল ভূমিকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তাকেঁ  এ বিষয়ে সহায়তা করেছেন সাবেক শিক্ষাসচিব মো: নজরুল ইসলাম খান। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনের আগেই এনআই খান এ বিষয়টি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনেন। ক্ষমতায় গেলে মাধ্যমিকের বইও বিনামূল্যে দেয়া হবে বলে প্রচার করে আওয়ামী লীগ। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ক্ষমতায় এসেই ওই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে মাধ্যমিকেও বিনামূল্যের বই দেয়া শুরু হয়।

জানা যায়, পৃথিবীর সব সভ্য ও উন্নত দেশে বিনামূল্যে বইসহ অন্যান্য উপকরণ বিতরণ এবং সম্পূর্ণ বিনাবেতনে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাদান করা হয়। অনেক দেশেই পাঠ্যবই স্কুলেই থাকে, স্কুলেই পাঠ্যবইয়ের পড়া শেষ করানো হয়।বাড়ীতে কিছু কাজ দেয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের  কারিগরি শাখার একজন উপ-সচিব ও কয়েকটি অর্বাচীন সংবাদপত্র বাংলাদেশের পাঠ্যবই বিতরণ পৃথিবীতে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ইত্যাদি ইত্যাদি হাস্যকর প্রচার চালায়।

নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে এমপিও বাতিল হচ্ছে ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর - dainik shiksha এমপিও বাতিল হচ্ছে ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্ত হচ্ছেন কারিগরির ২২৮ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন কারিগরির ২২৮ শিক্ষক বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website