নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার করছে ১২ শতাংশ স্কুল - স্কুল - Dainikshiksha

নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার করছে ১২ শতাংশ স্কুল

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানে গত কয়েক বছরে দেশের প্রায় ২৪ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মাল্টিমিডিয়া সুবিধার আওতায় এনেছে সরকার। এছাড়া নিজস্ব উদ্যোগেও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। যদিও শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার অভাবে বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই তা অব্যবহূত থাকছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ বলছে, নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার করছে মাত্র ১২ শতাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।রোববার (১৪ জুলাই) বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাইফ সুজন ও মেহেদী হাসান।

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণে একটি অ্যাপ তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্মসূচি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার করে শ্রেণীকক্ষের একটি ছবি জিপিএস কানেক্টিভিটিসহ এ অ্যাপে আপলোড করতে হয় শিক্ষকদের। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এটুআই। অ্যাপের মাধ্যমে প্রাপ্ত মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ‘সেমি-অ্যানুয়াল মনিটরিং রিপোর্ট’-এ। সেখানে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে না মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতির ক্লাসরুম।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে ২৪ হাজার ৩৫২টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ৩৪ হাজার ৬১৩টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু রয়েছে। সবচেয়ে বেশি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু রয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৪ হাজার ৪৩৯টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় ৭ হাজার ৭৯৫টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম রয়েছে। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৮৫৯টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ হাজার ৯৯৫টি, খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৭৪০টি, রাজশাহী বিভাগে ৪ হাজার ৩১টি, রংপুর বিভাগে ৩ হাজার ৫১৭টি, সিলেট বিভাগে ১ হাজার ৯৯টি ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ হাজার ৬৭২টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু রয়েছে। দেশের ৫৮৭টি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় কোনো মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নেই।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে মাত্র ১২ শতাংশ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়মিত ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগ। এ বিভাগের মাত্র ৭ দশমিক ১০ শতাংশ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়মিত ব্যবহূত হচ্ছে। আর সবচেয়ে এগিয়ে আছে বরিশাল বিভাগ। বিভাগটির ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে।

এটুআইয়ের এডুকেশনাল ইনোভেশনের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মেহেদী হাসান এ প্রসঙ্গে  বলেন, বিদ্যালয়গুলোয় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার মনিটর করার জন্যই এ অ্যাপ তৈরি করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাপটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে এমএমসি ব্যবহারের রিয়েল টাইম ডাটা পাওয়া সম্ভব। এমনকি সারা দেশে কতটি বিদ্যালয়ে কয়টি ক্লাস মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে নেয়া হয়েছে, কোন অঞ্চলে বেশি, কোন অঞ্চলে কম—সব তথ্য পাওয়া সম্ভব এ অ্যাপের মাধ্যমে। যেসব বিদ্যালয় প্রতিদিন ন্যূনতম দুটি ক্লাস মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে নিয়ে থাকে, সেসব বিদ্যালয়কে নিয়মিত ক্যাটাগরিতে ফেলা হয়েছে। সে হিসাবে দেখা যায়, খুব কম প্রতিষ্ঠানই নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতিতে ক্লাস নিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে এর ব্যবহার কীভাবে আরো বাড়ানো যায়, আমরা সে বিষয়ে কাজ করছি। আসলে অ্যাপ চালু হয়েছে বেশিদিন হয়নি। ধীরে ধীরে এ হার আরো বাড়বে। নিয়মিত-অনিয়মিত সব আমলে নিলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ব্যবহার করা বিদ্যালয়ের হার আরো বাড়বে।

এদিকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এমন বেশকিছু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব ও অসচেতনতার কারণেই অব্যবহূত থাকছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ডিভাইসগুলো ব্যবহারের প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতির জন্য ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতেও অসমর্থ অধিকাংশ শিক্ষক। এর ফলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম থাকা সত্ত্বেও সনাতন পদ্ধতিতে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পাশাপাশি এর যন্ত্রপাতি ব্যবহার বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান খুবই জরুরি। পাশাপাশি এ পদ্ধতিতে পাঠদানের কন্টেন্ট বিষয়েও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যথায় বড় বরাদ্দের প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন ঠিকই হবে, তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে।

এদিকে নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় অনেকটা অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের বিভিন্ন ডিভাইস। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি স্থাপনের অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষকরাও ঠিকমতো কম্পিউটার ও প্রজেক্টরগুলোর সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারেন না। তাই সঠিক ব্যবহারের অভাবে এসব ডিভাইস নষ্ট হয়ে যায়।

পাঠদানে মাল্টিমিডিয়া পদ্ধতির অনিয়মিত ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এসেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণেও। এক্ষেত্রে বেশকিছু সমস্যার কথা বলা হয়েছে আইএমইডির মূল্যায়নে। প্রকল্পের অধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে আইএমইডি জানিয়েছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন সম্ভব হয়নি। ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে পাঠদানের বিষয়টি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত পরিলক্ষিত হয়েছে, যা কাম্য নয়। এছাড়া এক প্রতিষ্ঠানে একটি করে ল্যাপটপ বরাদ্দ সেখানকার শিক্ষার্থীর সংখ্যার অনুপাতে অপ্রতুল। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যাও পর্যাপ্ত নয় বলে আইএমইডি উল্লেখ করেছে।

ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমে শিক্ষাদানের উদ্যোগ যাতে সফলভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য একাধিক সুপারিশ করেছে আইএমইডি। এর মধ্যে রয়েছে সরবরাহ করা ল্যাপটপ, প্রজেক্টর ও মডেম যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পর্যাপ্ত তহবিল প্রদান। পরবর্তী সময়ে এ ধরনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে মানসম্মত কম্পিউটার সরবরাহের ওপরও জোর দিয়েছে আইএমইডি।

সরকারি হলো আরও ২ স্কুল - dainik shiksha সরকারি হলো আরও ২ স্কুল নতুন দুটি শিক্ষক পদ সৃষ্টি হচ্ছে সব স্কুলে - dainik shiksha নতুন দুটি শিক্ষক পদ সৃষ্টি হচ্ছে সব স্কুলে একাদশে ভর্তিকৃতদের তালিকা নিশ্চায়ন ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিকৃতদের তালিকা নিশ্চায়ন ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে ভর্তি কোচিং নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও) - dainik shiksha ভর্তি কোচিং নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী (ভিডিও) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির বিকল্প প্রয়োজন - dainik shiksha বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির বিকল্প প্রয়োজন এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৮০ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৮০ শিক্ষক একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha একাদশে ভর্তিকৃতদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha স্কুল-কলেজ খোলা রেখে বন্যার্তদের আশ্রয় দেয়ার নির্দেশ শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website