নিয়োগ দুর্নীতি, পিএসসি ও সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

নিয়োগ দুর্নীতি, পিএসসি ও সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

সম্প্রতি দুদকের জনবল কাঠামো বৃদ্ধি এবং অবসর, পদোন্নতির কারণে বেশ কিছু পদ শূন্য হওয়ায় নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। এর আগে দুই-তিনবার দুদকের যে নিয়োগ পরীক্ষা, তা সম্পন্ন হয়েছে আউটসোর্সিং (চুক্তিভিত্তিক) করে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। প্রতিবারে ব্যয় হয়েছে কোটিখানেক টাকা। অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়েই যদি করাতে হয় তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠান পিএসসিতে যাওয়াই ভালো! বিশেষত, এখন যেখানে পিএসসি বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদে নিয়োগে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে দিচ্ছে। কিন্তু আইনগত দিকগুলো পরীক্ষা করে দেখি অসহায় অবস্থা! রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়। 

এখনকার পিএসসি প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫৭ নম্বর অধ্যাদেশে এবং নিয়োগ পরীক্ষার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব সংবিধানের শুধু ১৪০(১)(ক) অনুচ্ছেদে দেওয়া 'প্রজাতন্ত্রের কর্ম' অর্থাৎ পুরোপুরি সরকারি চাকরিতেই সীমাবদ্ধ। দুদকের মতো নির্দিষ্ট আইনে প্রতিষ্ঠিত সরকারি আর সব কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার দায়িত্ব ১৪০(১)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেওয়ার আর ব্যবস্থা করা হয়নি তাতে। তাই, এসব চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির মাধ্যমে নেওয়া যাচ্ছে না।

এবার নিয়োগ পরীক্ষা প্রসঙ্গ। পিএসসি বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসের যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। সেই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড সরকারি পদেরও আলাদা পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে সুপারিশ করে আসছে। ৮/৯ বছর আগে থেকে শুরু করেছে বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার সার্ভিসের শূন্য পদের সংখ্যাতিরিক্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড সরকারি পদে বাছাই-সুপারিশ। এখন পিএসসি কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় বেতন স্কেলের ১২তম গ্রেড পর্যন্তও সরকারি চাকরিতে যোগ্য প্রার্থী বাছাই-সুপারিশ করছে। পিএসসি কেবলই পুরোপুরি সরকারি চাকরির (সংবিধানের ভাষায় যাকে বলা হয় প্রজাতন্ত্রের কর্ম) ওই পদগুলোর নিয়োগ পরীক্ষা ও বাছাইয়ের কাজ করলেও তার নিচে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদের নিয়োগ পরীক্ষা ও বাছাইয়ের কাজ করেনি, করছেও না। এগুলোর নিয়োগ ক্ষমতা সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের প্রধানদের হাতে এবং সংশ্নিষ্ট অফিস-আদালত নিজেরাই নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বাছাই করে থাকে। নিয়োগ দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র এটাই।

রেলের নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছে; আরও দু-একটি মামলার বিচার চলছে। চলছে খাদ্য বিভাগের নিয়োগ দুর্নীতির মামলার বিচার। নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনাগুলোয় দুদকের অনুসন্ধান-তদন্তে পাওয়া গেছে বেপরোয়া আচরণের ভয়াবহ চিত্র- পছন্দের প্রার্থীকে তুলে আনতে নম্বর বাড়াতে বেহুঁশ হয়ে ১০ মানের প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া হয়েছে ১২ নম্বর; কেউ কেউ আবার আরেক কাঠি ওপরে। সাদা খাতাতেই নম্বর দিয়ে রেখেছে। যেখানে আউটসোর্সিং করে (চুক্তিভিত্তিক) অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছে, সেখানেও কম্পিউটারে করা হয়েছে কারসাজি, জালিয়াতি। অফিস-আদালতগুলোর বাজেটের কোটি কোটি টাকা ব্যয় তো আছেই।

নির্দিষ্ট আইনে তৈরি সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা ও বাছাই কাজ পিএসসি করে না। ওইসব প্রতিষ্ঠান নিজেরাই এসব করে, যা তাদের মূল কাজ নয়। নেই বিশেষজ্ঞ-দক্ষতা ও পৃথক জনবল। ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এ কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করায়। দুদকও করেছে, আরও অনেকে করছে। আউটসোর্সিংয়ে যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করানো হয়, সেগুলোর বেশিরভাগেরই মান ও সুনামের ঘাটতি রয়েছে। মাঝখানে হাজার হাজার দরখাস্ত বাছাই করতে নিজ প্রতিষ্ঠানের জনবলের শ্রম ও সময় যায় আসল কাজ শিকেয় তুলে। এসব নিয়োগেও দুর্নীতি-প্রতারণার অভিযোগ আছে; দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণও মিলেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয় নিজেরাই পরীক্ষা নিয়ে বাছাই করে। স্বায়ত্তশাসিত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে নিয়োগ দেওয়ার দুরভিসন্ধিতে যোগ্যতা শিথিল করার খবর গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এই তবে স্বায়ত্তশাসনের মাহাত্ম্য! 'কালি ও চুন কেন ওঠে না'ক গালে!' দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগে অযোগ্য লোকে ভরে উঠছে সরকারি এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর অফিস-আদালত। যোগ্যরা সক্ষমতা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্নীতির মধ্য দিয়ে যারা আসছে তারা দুর্নীতির জীবাণু নিয়েই আসছে। কর্মক্ষেত্রে তারা দুর্নীতির আক্রমণ, সংক্রমণ দুই-ই চালাচ্ছে। এই 'লার্ভাক্ষেত্র' তো ধ্বংস করতেই হবে। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অফিস-আদালতে দুর্নীতির বিস্তার রোধ কষ্ট-কল্পনাই থেকে যাবে।

এ জন্য চাই সমন্বিত নিয়োগ পরীক্ষা; পুরোপুরি সরকারি এবং সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থার সব টেকনিক্যাল ও নন-টেকনিক্যাল পদের ধরন অনুযায়ী, শ্রেণি অনুযায়ী সমন্বিত পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে বিদ্যমান শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া আর পরবর্তী পরীক্ষা পর্যন্ত সম্ভাব্য শূন্য পদের সংখ্যা হিসাব করে উত্তীর্ণ অতিরিক্ত প্রার্থীদের আরেকটি তালিকা সঞ্চিতি বা সম্ভার (রিজার্ভ) হিসেবে সংরক্ষণ করা। পরবর্তী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যখন যে পদ শূন্য হবে, তখন সে পদে নিয়োগ দেওয়া এ তালিকা থেকে। যেমনটা এনটিসিএ করছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন করে নিয়োগের ক্ষেত্রে। যেমনটা পিএসসি এখন করছে শুধু বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নন-ক্যাডারে নিয়োগের ক্ষেত্রে। এটিকে আরও সম্প্র্রসারিত করে যেসব পদের নিয়োগ ক্ষমতা মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও জেলা পর্যায়ের প্রধানদের হাতে; সেগুলোরও নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির মাধ্যমে নিয়ে বাছাই করার ব্যবস্থা করা।

সেই সঙ্গে সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোরও সব চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির মাধ্যমে নিয়ে বাছাই করার ব্যবস্থা। সরকারি ওইসব পদ এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নিজেদের অনভিজ্ঞ লোকদের মাধ্যমে বা আউটসোর্সিংয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেওয়ার বিশাল যজ্ঞে সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয় আর লোকবলের ক্ষয়ে দুর্নীতি আর হয়রানি ছাড়া কোনোই জনস্বার্থ রক্ষা হয় না। এ ক্ষেত্রে তাই সে দায়িত্ব পিএসসিকেই দেওয়া উচিত। এ চাকরিগুলো 'গভর্নমেন্ট সার্ভেন্ট' না হলেও 'পাবলিক সার্ভেন্ট' তো বটেই। পিএসসির সে বিশেষজ্ঞ দক্ষতা, প্রয়োজনীয় কাঠামো, সাজ-সরঞ্জাম সবই আছে; নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই করাই তাদের কাজ। তাদের আওতা, কাঠামো ও জনবল বাড়ালেই হয়। এখানে দুর্নীতি একেবারে শূন্য করার পূর্ণ নিশ্চয়তা যদি নাও দেওয়া যায়, নিয়োগ দুর্নীতি প্রতিরোধের পুরো নজরদারি আর দমনের সমস্ত শক্তি এই একটি জায়গায় দিতে হওয়ায় মাত্রাছাড়া দুর্নীতির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে সহজেই। চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি আর প্রতারণার ভোগান্তি তো দূর হবেই। সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার অফিস-আদালতে আসবে সত্যিকার যোগ্য, সদাচারী কর্মী, যারা হবে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ায় দক্ষ, নিবেদিতপ্রাণ মানবসম্পদ।

পিএসসির আইনে আর ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগবিধিতে একটু সংস্কার করলেই হয়ে যায়। আমাদের পিএসসি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৮ এপ্রিলের ৩৪ নম্বর পি.ও. (প্রেসিডেন্টস অর্ডার) দ্বারা, তখনও সংবিধান আসেনি। এই আইনে দুটো পিএসসি করা হয়েছিল। একটি ছিল প্রথম পিএসসি, অপরটি ছিল দ্বিতীয় পিএসসি। প্রথম পিএসসির দায়িত্বে ছিল বেসামরিক সব গেজেটেড সরকারি পদের এবং সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি সব স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, করপোরেশনসহ সব সংবিধিবদ্ধ সংস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদের নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা। দ্বিতীয় পিএসসির দায়িত্বে ছিল এমএলএসএস পদ ছাড়া বাকি সব নন-গেজেটেড সরকারি পদের এবং সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া বাকি সব স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, করপোরেশনসহ সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর তৃতীয় শ্রেণির পদের। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ নভেম্বর থেকে সংবিধান প্রবর্তিত হলো। সংবিধানে ১৩৭ অনুচ্ছেদে আইনের দ্বারা একাধিক পিএসসি প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়, আছে এখনও। ১৪০ অনুচ্ছেদে পিএসসির দায়িত্ব হিসেবে (১)(ক) উপ-অনুচ্ছেদে যেমন কেবল পুরোপুরি সরকারি চাকরির (প্রজাতন্ত্রের কর্ম) নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বাছাই উল্লেখ করা আছে, তেমনি (১)(গ) উপ-অনুচ্ছেদে আইনের দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য দায়িত্ব দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়, আছে এখনও। এসব বিধানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মার্চে ২৪ নম্বর পিও দ্বারা '৭২ খ্রিষ্টাব্দের মতো একই রকম দায়িত্ব দিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পিএসসি প্রতিষ্ঠা করে আগের দুটো পিএসসি বহাল রাখা হয়। কিন্তু ভিন্ন যাত্রা শুরু হয় জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনকালে। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ফেব্রুয়ারির ৮ নম্বর অধ্যাদেশে প্রথম ও দ্বিতীয় পিএসসি রাখা হলেও সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থাগুলোর চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা পিএসসির আওতা থেকে একেবারেই বাদ দেওয়া হয়। শুধুই পুরোপুরি সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বাছাইয়ের দায়িত্ব রাখা হলেও বাদ দেওয়া হয় বিভাগ ও জেলা পর্যায়ের সরকারি অফিসগুলোর যেসব পদের নিয়োগ ক্ষমতা ওইসব অফিসপ্রধানের হাতে সেসব পদও। প্রথম পিএসসির দায়িত্ব ছিল শুধু প্রথম শ্রেণির সরকারি পদ। দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি পদ ছিল দ্বিতীয় পিএসসির। ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ নভেম্বরের ৫৭ নম্বর অধ্যাদেশে এসে করা হয় একটি মাত্র পিএসসি। তাই-ই চলছে এখনও।

জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনে করা সংবিধানের ৫ম সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হলে এবং সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীতে ৪র্থ তফসিল থেকে ওই সম্পর্কিত ৩ক ও ১৮ অনুচ্ছেদ বাদ পড়লে ওই সামরিককালের অন্যান্য অধ্যাদেশের সঙ্গে এই ৫৭ নম্বর অধ্যাদেশও কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলায় ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ নম্বর পিও পুনর্বহাল হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা তো হলোই না, বরং ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ নম্বর অধ্যাদেশ ও পরে ওই বছরই ৬ নম্বর আইন দিয়ে ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ৫৭ নম্বর অধ্যাদেশটিই কার্যকর করে রাখা হয়েছে; যেখানে সংবিধান চুলোয় ফেলে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ২০ আগস্ট ও ৮ নভেম্বরের সামরিক ফরমানে প্রাপ্ত ক্ষমতায় রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারির অনুগ্রহ করলেন বলে প্রস্তাবনায় অত্যন্ত বিশ্রীভাবে দৃশ্যমান এখনও। সংবিধানের ১৩৭ ও ১৪০(১)(গ) অনুচ্ছেদ দিয়ে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৩৪ নম্বর পিও এবং ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ নম্বর পিও-এর আদলে নতুন আইন করে একাধিক তো বটেই, দুইয়েরও অধিক আরও কয়েকটি পিএসসি প্রতিষ্ঠা করা এবং সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর সব চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব পিএসসিকে দেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে। দুর্নীতিমুক্ত স্বচ্ছ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ও প্রকৃত যোগ্য মানবসম্পদের সম্ভার গড়ে তোলার জন্য এখনই তা করা জরুরি। তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর নিয়োগবিধিতে শুধু নিয়োগ পরীক্ষা ও বাছাই পিএসসির মাধ্যমে করার বিধানটুকু দেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া ও বাছাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে। মঞ্জুরি কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন যোগ্যতা ও শর্ত নির্ধারণ করতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে এবং সেখানে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। তাহলে এখনই মঞ্জুরি কমিশনের আইনে ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগবিধিতে সংশোধনী এনে মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বাছাইয়ের ব্যবস্থা করা যায়।

সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ অফিস-আদালতগুলোতে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ বিস্তর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এর বাইরে নয়। তাই, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও পিএসসি ও মঞ্জুরি কমিশনের দায়িত্ব ও ভূমিকা বাড়ানোর প্রয়োজন আছে। বাইরের দেশের কোনো নজির পাওয়া গেলে ভালে। না পাওয়া গেলে নজির স্থাপন করতে পারি আমরাই। যেমন করেছি ভাষা আন্দোলনে, স্বাধীনতা সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধে। কারও নজির অনুসরণ করে তো এসব হয়নি। হয়েছে আমাদের স্বপ্ন পূরণের তাগিদে। স্বপ্ন তো আরও দেখার আছে, পূরণের আছে। 'থাকিত না হৃদয়ের জ্বরা, সবাই স্বপ্নের হাতে দিত যদি ধরা!...'

 

লেখক: মঈদুল ইসলাম ,সাবেক সিনিয়র জেলা জজ ও দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল)

শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় - dainik shiksha শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের - dainik shiksha ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website