পলিটেকনিক শিক্ষায় বয়স বিভ্রান্তি দূরীকরণে করণীয় - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

পলিটেকনিক শিক্ষায় বয়স বিভ্রান্তি দূরীকরণে করণীয়

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

কোন একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা প্রণয়নে বা নীতি ঠিক করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অংশীজনের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপট, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য, শিক্ষা কাঠামো ও প্রশিক্ষণ কাঠামোর পৃথক বৈশিষ্ট্য এবং পৃথক বাস্তবায়ন কৌশল এবং এ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি অনুধাবন করা প্রয়োজন। Education ও Training এর দুটি আলাদা দর্শন আছে। এই দুটি ক্ষেত্রের উদ্দেশ্য ভিন্ন, আয়োজন ভিন্ন, পাঠদান পদ্ধতি ভিন্ন, এ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতি ভিন্ন, পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও কৌশলও ভিন্ন। এখন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশ্ন হচ্ছে পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স কি শিক্ষা না প্রশিক্ষণ? এই বিষয়ে মতামত বা সিদ্ধান্তে পৌঁছার আগে আগে জানা প্রয়োজন শিক্ষা আর প্রশিক্ষণের বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য কি বা কতটুকু? সোমবার (১৩ জুলাই) জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, আমরা সবাই জানি পলিটেকনিকের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম একটি একাডেমিক কোর্স, প্রশিক্ষণ কোর্স নয়। সুতরাং পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে যারা পড়ে তারা শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী নয়। কাজেই পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে কোমলমতি সদ্য এসএসসি পাস ভর্তি ইচ্ছুকদের সঙ্গে যে কোন বয়সের শিক্ষার্থী ভর্তি কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। বয়স্কদের জন্য বা বিশেষ শ্রেণী/গোষ্ঠীর প্রয়োজনে পলিটেকনিকে স্বল্প মেয়াদী স্বঅর্থায়নে বা প্রজেক্টের আওতায় পৃথক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলে আসছে বহু বছর আগে থেকেই। এখনও বিভিন্ন পলিটেকনিকে সান্ধ্যকালীন ট্রেড কোর্স ও এনটিভিকিউএফ চলমান আছে। কিন্তু শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দুই ধারাকে কখনোই একই প্রোগ্রামের মধ্যে একই কোর্সে একত্রিত করা হয়নি।

তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, কারও যদি দীর্ঘ ব্রেক অব স্টাডি থাকে এবং পরে সে কারিগরি শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিতে চায়, তবে তার জন্য কি কোন পথ খোলা রাখা হবে না। আমরা বলব অবশ্যই তা খোলা রাখা উচিত। কারণ হাদিসে আছে ‘দোলনা থেকে কবর পযন্ত জ্ঞান অর্জন কর’। যাকে আমরা বলি জীবনব্যাপী শিক্ষা বা Life long learning এই জীবনব্যাপী শিক্ষা বা Life long learning এর পথ খোলা রাখা বা নতুনভাবে খোলার উপায় কী? ব্যাপারটি খুবই সহজ। জাতীয় শিক্ষানীতি ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ননীতি অনুধাবন করতে পারলে কোন অবস্থাতেই এটা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকার কথা না। একটি কথা জানা থাকা জরুরী- বিদ্যমান ভর্তি নীতিমালায় বেসরকারী পলিটেকনিকে ভর্তির বয়স এসএসসির পর ১০ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য। কাজেই একজন ২৭-২৮ বছরের যুবক চাইলেই বেসরকারী পলিটেকনিকে ভর্তি হতে পারে। যদি এর চেয়েও বেশি বয়সের কেউ পলিটেকনিকে শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভর্তি হতে চায়, তবে তাদের জন্য সরকার আলাদা ডেডিকেটেড বিকালের শিফট বা নাইট শিফট চালু করতে পারে। সরকারী বা বেসরকারী লেভেলে এটা সহজেই করতে পারে। কিন্তু তা কোন অবস্থায়ই সদ্য এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করা সমীচীন হবে না। যদি তা করা হয়, তবে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও পরিণতি নিয়ে ভাবার অবকাশ আছে।

সরকারী পলিটেকনিকে আলাদা শিফটে বয়স্কদের ভর্তি করা যেতে পারে। এ কাজটি করলে নতুন একটি বড় সমস্যার উদ্ভব হবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। আর তা হচ্ছে, ছাত্র রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভয়াবহ সম্ভাবনা। এমনিতেই অধিকাংশ পলিটেকনিকে কিছু ছাত্র একবার ভর্তি হতে পারলে আর বের হতে চায় না। আট বছর রেজিস্ট্রেশন থাকার সুযোগ নিয়ে সে রাজনৈতিক ছায়া ও আশীর্বাদে প্রতিষ্ঠানে ও এলাকায় আধিপত্য ধরে রাখাসহ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে থাকে। পলিটেকনিকের কেনাকাটায় নিম্নমানের মালামাল সরবরাহ করে। এদেরই আর একটি অংশ বস্তুত কোন ক্লাসেই অংশগ্রহণ না করে, কোন প্রকার ক্লাস টেস্ট, কুইজ টেস্ট বা মিড টার্ম না দিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নে এবং প্রথম থেকে তৃতীয় পর্ব পর্যন্ত চূড়ান্ত পরীক্ষায় শূন্য পেয়েও পাস করতে চায় এবং প্রশাসন বা শিক্ষককে পাস করাতে বাধ্য করে। টিকে থাকার জন্য অধিকাংশ শিক্ষক নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিতে বাধ্য হয়। সুতরাং সরকার বয়স্কদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা সরকারী বা বেসরকারি লেভেলে উভয় শিফটের জন্যই প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারে। যদি সত্যিকার অর্থেই বয়স্কদের জন্য পলিটেকনিকে পড়ার চাহিদা থাকে তবে বেশ কিছু বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এ মহতী কাজে এগিয়ে আসবে। সরকার যদি বাস্তবিকই এমন কোন চাহিদা নিরূপণ করে থাকে, তবে এক দুটি সরকারী পলিটেকনিকে সদ্য এসএসসি পাস শিক্ষার্থী ভর্তি না করে শুধু বয়স্কদের ভর্তি করতে পারে।

এবার আসি কর্মরত বা বেকার কোন বযস্ক বা বিদেশ ফেরত কেউ যদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষতা অর্জন করতে চায়, তবে তাদের জন্য আমরা কি করতে পারি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি-২০১১ এর আলোকে জাতীয় কারিগরি বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো (এনটিভিকিউএফ) এর আওতায় ১৮৬টি অকুপেশনে দেশব্যাপী চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানে এনটিভিকিউএফ লেভেল ১ থেকে ৬ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ আছে। সরকার প্রয়োজনে আরও প্রতিষ্ঠান চালু করতে পারে এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে। যারা কাজ করতে করতে ইতোমধ্যে দক্ষতা অর্জন করেছেন কিন্তু কোন প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বা যোগ্যতা সনদ বা স্বীকৃতি নেই, তারা সহজেই পূর্ব যোগ্যতার স্বীকৃতি (RPL) সনদের জন্য এনটিভিকিউএফের আওতায় রেজিস্ট্রার্ড ট্রেনিং অরগাইজেশন (RTO) এ গিয়ে যোগ্যতা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সনদ অর্জন করতে পারেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সনদায়িত রেজিস্ট্রার্ড এ্যাসেসর কর্তৃক এ এ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করে তাদের সনদ প্রদান তথা পূর্ব যোগ্যতার স্বীকৃতি (RPL) প্রদান করা যেতে পারে। এই সনদের মাধ্যমে দেশে শ্রেণীবিন্যস্ত জনবল তৈরি করে জাতীয় দক্ষতা তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধ করা যায়। বয়স্ক কিংবা বিদেশ ফেরতদের পলিটেকনিকে ৪ বছর মেয়াদী একাডেমিক কোর্সে ভর্তি হওয়ার কোন চাহিদা বা আগ্রহ আমাদের গোচরে আসেনি এবং এর কোন সম্ভাব্যতাও আমরা দেখতে পাইনি।

এবার দেখা যাক পলিটেকনিকে প্রতি বছর কেন হাজার হাজার সিট খালি থাকে। বয়স্ক লোক ভর্তি করে সেই সিট কি আদৌ পূরণ করা সম্ভব। ভেতরের বিষয়টি জানলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। প্রতি বছর সরকারী পলিটেকনিকে প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার আসন খালি থাকে। এর জন্য অনেক কারণ চিহ্নিত করা যায়। এর মধ্যে অন্যতম মূল কারণ হচ্ছে- পলিটেকনিকে ইমার্জিন টেকনোলজি নামে এমন কতগুলো টেকনোলজি খোলা হয়েছে, যাদের এদেশের চাকরির বাজারে কোন চাহিদা নেই। আবার চাহিদা থাকলেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই টেকনোলজির নাম না থাকায় তাদের সকল টেকনোলজিতে পাস করা গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের কোন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বা যোগ্যতা প্রমাণের সুয়োগ নেই। উদাহরণস্বরূপ চাকরি বাজারে ইনস্ট্রমেনটেশন এ্যান্ড প্রসেস কন্ট্রোল টেকনোলজির কোন চাহিদা না থাকায় ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকে এ টেকলোজিতে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হতে চায় না বা ভর্তি হলেও কিছুদিন পর ইতোপূর্বে উত্তীর্ণ গ্র্যাজুয়েটদের বেকারত্বের তথ্য পাওয়ার পর আর ঐ টেকনোলজিতে পড়ালেখা অব্যাহত রাখে না বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। আবার কম্পিউটার টেকলোলজির চাহিদা থাকলেও সরকারের কোন দফতরে এমনকি খোদ আইসিটি অধিদফতর, কম্পিউটার কাউন্সিল এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কোথাও তাদের জন্য কোন পদ সৃজন করা হয়নি। সরকারী দফতরে তাদের কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নেই। এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের পরিবেশ অধিদফতরে নেই কোন স্থান। সরকারী-বেসরকারী সকল স্তরে মেকাট্রনিক্স টেকনোলজির লোক দরকার হলেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শুধু মেকানিক্যাল টেকনোলজির কথা উল্লেখ থাকায় মেকাট্রনিক্স এ পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা দরখাস্ত করারই সুযোগ পায় না। উপরন্তু এসব টেকনোলজিতে নেই উপযুক্ত শিক্ষক। কোন কোন টেকনোলজিতে একজন শিক্ষকও নেই। বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী সরকারী পলিটেকনিকে শিক্ষার্থী শিক্ষক অনুপাত ১২ : ১ থাকার কথা। সরকারী পলিটেকনিকে বিদ্যমান শিক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট কম বেশি ৫০০০০ জন। প্রতি বছরই ৪ বছর=২,০০,০০০ আসনের বিপরীতে শিক্ষক পদ থাকার কথা ১৬৬৬৬টি। বাস্তবে ক্যাডার ও ননক্যাডার মিলে প্রকৃত পদ আছে ১৭৮৪টি। অর্থাৎ পদের সংখ্যা প্রয়োজনীয়তার ১০.৭%। এর মধ্যে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত আছেন ১০২৯ জন বা ৫৮%। খালি পদের সংখ্যা ৭৫৫টি যা বিদ্যমান পদের ৪২.%। নিয়োগ প্রাপ্ত প্রশিক্ষিত শিক্ষক বস্তুত নোই বললেই চলে। টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেইনিং কলেজটি একটি অচল প্রতিষ্ঠান।

ফলে শিক্ষকের অভাব, প্রশিক্ষিত ও মোটিভেটেড শিক্ষকের অভাব, ক্লাস রুমের অভাব, ল্যাব ও ওয়ার্কশপের অভাব, যন্ত্রপাতি ও শিক্ষা উপকরণের অভাব, স্টাফের অভাব, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের অভাব ইত্যাদির কারণে নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, তিন পিরিওডের প্রাকটিক্যাল ক্লাস ১ বা ২ পিরিওড হওয়া, ক্ষেত্রবিশেষে না হওয়া, স্থান সংকুলান না হওয়ায় শত শত শিক্ষার্থীর থিওরি ক্লাস অডিটোরিয়ামে এক সঙ্গে নেয়া এবং এ্যাসেসমেন্ট ও পরীক্ষা পদ্ধতি মূলত ত্বাত্তিকনির্ভর হওয়ায় কারিগরি শিক্ষার প্রকৃত স্বাদ শিক্ষার্থীরা না পাওয়াসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে হাজার হাজার ভর্তিকৃত শিক্ষার্থী ডিপ্লোমা শিক্ষার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। ড্রপআউটের পরিমাণ দাঁড়ায় অস্বাভাবিক। যার ফলে সরকারী পলিটেকনিকগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর আসন শূন্য থাকে। অন্যদিকে শিক্ষার মানসহ একই রকম সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে অধিকাংশ বেসরকারী পলিটেকনিকগুলোতে। চাকরির বাজার মন্দা হওয়ায় এবং অপরিকল্পিতভাবে নামমাত্র অবকাঠামো ও নগণ্য সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে শত শত পলিটেকনিক গড়ে ওঠায় বিগত দুই দশকে কারিগরি শিক্ষার গড়ে ওঠা ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা বর্তমান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এমতাবস্থায় ভর্তি সংক্রান্ত্র নীতিমালার সর্বশেষ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনসহ নিম্নবর্ণিত করণীয় নির্ধারণ করা যেতে পারে।

১। ভর্তির ইতোপূর্বে গৃহীত ২০১৯ এর নীতিমালা বহাল রাখা এবং বোর্ডসভায় অনুমোদন সাপেক্ষে নীতিমালা চূড়ান্ত করা।

২। বয়স্ক বা বিদেশ ফেরত কর্মীদের জাতীয় কারিগরি বৃত্তিমূলক যোগ্যতা কাঠামো এনটিভিকিউএফের আওতায় দেশব্যাপী চার শতাধিক প্রতিষ্ঠানে লেভেল ১ থেকে ৬ পর্যন্ত ১৮৬টি অকুপেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যবস্থা করা। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন নীতি বহির্ভূত মানহীন সকল স্বল্প মেয়াদী কোর্স বন্ধ করা।

৩। পলিটেকনিকসমূহে ইমার্জিন টেকনোলজি নামের যে সব টেকনোলজির আসন খালি থাকে, সেগুলোকে মূল প্রচলিত ও বহুল পরিচিত টেকনোলজি, যেগুলোর সচরাচর নিযোগ বিজ্ঞপ্তি হয় যেমন সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার, আর্কিটেকচার, কেমিক্যাল ও ফুড, অটোমোবাইল, রেফ্রিজারেশন এ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং টেকনোলজির সঙ্গে একীভূত করে ষষ্ঠ পর্ব থেকে ইমার্জিন স্পেশালাইজেশন (যেমন ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন কনস্ট্রাকশন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন মেডিক্যাল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন ইনস্ট্রমেনটেশন এ্যান্ড প্রসেস কস্ট্রোল টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন সিস্টেম এ্যান্ড নেটওয়ার্ক টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন সাইবার সিকিউরিটি, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার সায়েন্স উইথ স্পেশালাইজেশন অন সফ্টওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন অটোমেশন, ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন মেকাট্রনিক্স টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং উইথ স্পেশালাইজেশন অন মাইনিং টেকনোলজি, ডিপ্লোমা ইন আর্কিটেকচার উইথ স্পেশালাইজেশন অন ইন্টোরিওর ডিজাইন ইত্যাদি)র ব্যবস্থা করা। এর ফলে একজন ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গ্র্যাজুয়েট যে স্পেশালাইজেশন থেকে উত্তীর্ণ হবে, সে তার মাদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আওতায় সরকারী-বেসরকারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়ে যাবে। ফলে সকল টেকনোলজিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। আসন খালি থাকার সম্ভাবনা কমে যাবে।

৪। একুশ শতকের দক্ষতা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং ৫ম সামাজিক বিপ্লব বিবেচনায় বিদ্যমান ডিপ্লোমা কোর্সগুলোর বাজার চাহিদা নিরূপণ ও নতুন ইমার্জিন কোর্স চালুর জন্য অবিলম্বে জব মার্কেট সার্ভে শুরু করত কারিকুলামে বড় ধরনের পরিবর্তন আনাও প্রয়োজন।

৫। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ও সামাজিক আচার থেকে বেরিয়ে এসে আনুষ্ঠানিক সুশৃঙ্খল, দক্ষ উৎপাদনশীল জাতিতে রূপান্তরের জন্য এবং আত্মকর্মসংস্থানকে বেগবান করার জন্য কারিকুলামে টেকনোপ্রনিয়ারশিপ কোর্স জোরদার ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।

লেখক : এ কে এম এ হামিদ, সভাপতি, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা, ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)।

জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের - dainik shiksha জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি - dainik shiksha জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website