পাসের হার বৃদ্ধিও একমাত্র কাম্য নয় - মতামত - Dainikshiksha

পাসের হার বৃদ্ধিও একমাত্র কাম্য নয়

আহমদ রফিক |

প্রতিবছরই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে সংবাদপত্র মহল থেকে পরিবার থেকে পরিবারে ধুন্ধুমার কাণ্ড। তেমনি ফলাফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর আনন্দ বিষাদ প্রতিক্রিয়া। আনন্দিতদের উচ্ছ্বাসের ছপি ছাপা হয় কাগজ থেকে কাগজে। সে এক এলাহি কাণ্ড। বিশ-ত্রিশ বছর কিংবা আরো আগে এমন ঘটনা দেখা যেত না। এতে অবশ্য সমালোচনার কিছু নেই। সময় অনেক কিছু পাল্টে দেয়।

প্রশ্নটি অন্যত্র। গত এক দশক বা কিছু সময় আগে থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক-শিক্ষাদান, শিক্ষার্থী, প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষাবিদ বা বিদ্বজ্জনদের আলোচনা করতে দেখা গেছে, যেখানে শিক্ষা নিয়ে সমালোচনাই অধিক। পরীক্ষায় পাসের হার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল তথা জিপিএ নিয়ে এজাতীয় সমালোচনা। একাধিক শিক্ষাবিদের মতামত হলো, জিপিএ সর্বক্ষেত্রে শিক্ষার প্রকৃত উচ্চমানের প্রতীক নয়।

বছর কয় আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের চরম ব্যর্থতার ঘটনাটি সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ঘরে-বাইরে সর্বত্র আলোচনা, সংবাদপত্রের নিবন্ধে সমালোচনা মূলত শিক্ষাদান ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে। সৃজনশীল পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা থেকে বিষয়গত জ্ঞানের অভাব সম্পর্কে সমালোচনা ছিল সর্বাধিক।

তবে এসবের অর্থাৎ ফাঁপা উচ্চমাত্রিক ফলের নেপথ্যে নিহিত কোচিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি তীর নিক্ষিপ্ত হয়েছিল। এ বিষয়ে সরকারি নীতি ও ব্যবস্থা গ্রহণে উদাসীনতার বিরুদ্ধেও আক্রমণ কম ছিল না। এসব সমালোচনা যে যুক্তিসংগত ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রসংগত উত্তম শিক্ষক না হলে উত্তম শিক্ষার্থী তৈরি হয় না, এমন শিরোনামেও নিবন্ধ ছাপা হয়েছে সংবাদপত্রে।

সত্যি বলতে কী, শিক্ষা ভুবনের সমস্যা ছিল চরিত্র বিচারে বহুমাত্রিক। শিক্ষকের মান, শিক্ষাদান পদ্ধতি, সিলেবাস, পরীক্ষাপদ্ধতি থেকে বহু কিছু আলোচনার বিষয়। এসব দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আদৌ নজর ছিল বলে মনে হয়নি। তাদের নির্ধারিত ব্যবস্থার প্রতি সংশ্লিষ্ট মহলের আস্থা দেখা গেছে প্রবল। কাজেই বহু লেখালেখি সত্ত্বেও পরিবর্তনের কথা তাদের মনে আসেনি। কোচিং শিক্ষার নেতিবাচক প্রভাব, কারো মতে সর্বনাশা প্রভাব সত্ত্বেও এ ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করা হয়নি, মাঝেমধ্যে ঘোষণা সত্ত্বেও।

এর মধ্যে ভয়াবহ উপদ্রব প্রশ্নপত্র ফাঁস—নিম্নমান ছাত্র-ছাত্রীদের উল্লাস আর মেধাবীদের প্রতিবাদ তাদের অবস্থা ভেবে। পরিস্থিতি এতটাই ন্যক্কারজনক হয়ে ওঠে যে নানা মহল থেকে প্রবল সমালোচনাসহ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও ওঠে জোরালো ভাষায়। মন্ত্রী মহোদয় অবশ্য পদত্যাগ করেননি। ক্ষমতাসীন শাসক শ্রেণির ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার কারণেই কি না বলা কঠিন—প্রশ্নপত্র ফাঁস আপাতত বন্ধ হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা ও তার আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো, যেমন কোচিং শিক্ষা নিয়ে চিন্তাভাবনা ও সংস্কারের কোনো আলামত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিক থেকে দেখা যায়নি। বিশেষ করে উত্তম শিক্ষার্থী গড়ে তোলার প্রাথমিক পর্বের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে শিক্ষকসহ গুণগত মান উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে মনে হয় না!

প্রকৃত শিক্ষা, উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় গুরুত্ব পায়নি। তাই যেকোনো মূল্যে বা যেকোনোভাবে পরীক্ষা পাসের হার বৃদ্ধি, উচ্চ ফলের হার বৃদ্ধিই দেখা গেছে শিক্ষাশাসকদের প্রধান লক্ষ্য। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান, বিশেষ জ্ঞান বিবেচ্য বিষয় হয়ে ওঠেনি। বিশ্বমাপে শিক্ষাব্যবস্থার মান নির্ধারণে ও উচ্চমান শিক্ষার্থী তৈরি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কখনো লক্ষ্য হয়ে ওঠেনি। মেধাবী নিজ চেষ্টায় নিজেকে গড়ে তুলছে।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার, বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে মনে হয় একটি মাত্রই লক্ষ্য—যেকোনো মূল্যে পাসের হার বৃদ্ধি এবং সেই সঙ্গে মেধাতালিকার—অর্থাৎ জিপিএ, গোল্ডেন জিপিএ ইত্যাদি স্তরে সংখ্যা বৃদ্ধি, জ্ঞান অর্জন যেমনই হোক। এ নীতি কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। নয় স্বদেশ ও সমাজের চিন্তায়। কারণ শিক্ষিত শ্রেণিই রাষ্ট্র ও সমাজের চরিত্র নির্মাণে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে; বিশেষ করে সৎ, মানবিক মূল্যবোধ তৈরির ক্ষেত্রে, যা একটি জাতিরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গুণ-মান নির্ধারণে সহায়ক। তার উজ্জ্বল পরিচিতির প্রতীক।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি নেতিবাচক দিক, শিক্ষার মূল লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি অর্জন, আলোকিত চিত্তের মানুষ তৈরি নয়। এ বিষয়ে কারো উদাহরণ টানতে চাইলে কেউ কেউ হয়তো কপাল কুঁচকাবেন। কিন্তু তা অস্বীকারের উপায় নেই বর্তমান বিশ্বপরিপ্রেক্ষিতেও। রবীন্দ্রনাথ এমন শিক্ষাকেই আদর্শ মনে করতেন, যা শুধু ডিগ্রি বা জ্ঞান অর্জনেই শেষ নয়, একজন শিক্ষার্থীকে মানবিক গুণসম্পন্ন প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

দুই.

এ বছর (২০১৮) নিম্ন মাধ্যমিক নয়, উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে মাত্র দুই দিন আগে। সৌভাগ্যক্রমে এবার কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, পরীক্ষাও মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর যথারীতি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ঘরে-বাইরে, বৈঠকখানায় ও সংবাদপত্রে। কারণ ‘এবার কমেছে পাসের হার’, কমেছে উচ্চ মান তথা জিপিএ ৫ এর হার।

বিষয়টি নিয়ে চলছে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ-ব্যবচ্ছেদ। শিক্ষামন্ত্রী একটি আলটপকা মন্তব্য করেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, তাই পাসের হার কমেছে। এই পোস্টমর্টেমে দেখা যাচ্ছে, একটি কাগজে শিরোনাম : ‘পাঁচ কারণে নিম্নমুখী ফল’। এ পাঁচ কারণে পূর্বোক্ত উদ্ভট মন্তব্যটিও অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস না-হওয়া। তা ছাড়া প্রায় সব বিশ্লেষকই একমত যে ইংরেজি, আইসিটি ও মানবিক বিভাগে শিক্ষায় অদক্ষতা, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে হওয়া ও নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন, প্রায় প্রতিটি বিষয়ে সৃজনশীল শিক্ষার প্রাধান্য এবং কারো মতে, ক্ষেত্র বিশেষে প্রশ্নপত্রের কাঠিন্য ও পরীক্ষা গ্রহণে কঠোরতা নিম্ন হার পাসের কারণ।

এসব কারণের কোনোটিই পরীক্ষার্থীর পক্ষে যায় না, অর্থাৎ সাফাই হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। দুই কথায়, এর দায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর। সম্ভাবনা রয়েছে, কোনো কোনো শিক্ষকের পাঠদানে ত্রুটি ও উদাসীনতা; দ্বিতীয়ত ও প্রধানত শিক্ষার্থীর পাঠ গ্রহণে অমনোযোগ ও উদাসীনতা। এর একটি বড় প্রমাণ এবারের পরীক্ষার ফলের বৈশিষ্ট্যে প্রতিফলিত। বলা হয়েছে, এবারের পরীক্ষায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে, অর্থাৎ তাদের ফল অপেক্ষাকৃত ভালো। একই ব্যবস্থায়, একই রকম প্রশ্নপত্রে দুই রকম ফলাফলেই বিষয়টি স্পষ্ট। এর জন্য ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন পড়ে না। একটি দেহাতি উদাহরণ দিই : এক অভিভাবক প্রসঙ্গক্রমে বললেন—‘ছেলেগুলো ডাণ্ডাবাজি করে আর মেয়েগুলো ঘরে বসে পড়াশোনা করে, ফল তো ভিন্ন হবেই।’

পড়াশোনায় অনীহা ও শিক্ষাদানে উদাসীনতা, ক্ষেত্র বিশেষে নিম্নমানের স্কুলে পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে না পারাও বড় কারণ। এ ক্ষেত্রে অনেকেই বর্তমান সময়ের অতি আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারকে তথা নেশার অতিব্যবহারকে দায়ী করে থাকেন। একজন লিখেছেন : ‘অ্যানড্রয়েড মোবাইলের নেশা বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার বারোটা বাজানোর অন্যতম একটি কারণও বটে। রাত জেগে অধিকাংশ শিক্ষার্থী ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ নানা গেমসে আসক্ত হয়ে উঠছে। যে কারণে ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার প্রতি দিন দিন অনেকাংশে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।’

এ অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আশপাশে পরিচিত পরিবারগুলোর দিকে তাকালে অভিযোগের সত্যতা ধরা পড়ে। মুশকিল হলো, এ ব্যাপারে অভিভাবকরা উদাসীন। এমনও হতে পারে, শিক্ষার্থী সন্তান এ বিষয়ে অভিভাবকের শাসন মানতে নারাজ। এটাকে বিজ্ঞান প্রযুক্তির নানা ধারায় সামাজিক অভিশাপের একটি প্রধান দিক হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

তিন.

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল আমার মনে হয় একটি শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে এসেছে আমাদের জন্য, সামাজিক সমস্যার পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায়। এর একাধিক দিক আমলে নিতে হবে যেমন পরিবারের অভিভাবকদের, তেমনি শিক্ষাবিষয়ক কর্তৃপক্ষের; মায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। শুধু আমলে নেওয়াই নয়, প্রতিকারের করণীয় দিকগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে, বাস্তবায়নে কঠোর হতে হবে।

পরীক্ষার ফল নিম্নমুখী বলে হা-হুতাশ করার কোনো প্রয়োজন নেই, ব্যবস্থা গ্রহণটাই জরুরি। পত্রিকায় লেখকদের কারো কারো এ বিষয়ে সচেতনতা প্রশংসনীয়। তাই কোনো একটি দৈনিকে সম্পাদকীয় কলামে উপশিরোনাম ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে ব্যবস্থা নিন’। খুবই সঠিক কথা, বাস্তবধর্মী কথা—সত্যি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব বিবেচনায় ঢেলে সাজাতে হবে।

তাহলে অর্থাৎ ‘প্রাথমিক পর্যায় থেকে শিক্ষার্থীদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারলে এ দেশে শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে না পারলে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যাবে না। শতভাগ পাস—এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কেন কমছে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’

আমরা উল্লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি একমত শুধু তা-ই নয়, উত্তম মান শিক্ষকের প্রসঙ্গ নিয়ে, অভিভাবকদের উদাসীনতা ও দায়-দায়িত্বের বিষয় নিয়ে আমরা একাধিকবার লিখেছি; কিন্তু সেসব পরামর্শ সংশ্লিষ্ট মহলের নজরে পড়েনি। ক্লাসরুম শিক্ষা, মানসম্মত শিক্ষা যে একটি অতি জরুরি বিষয়, সে সম্পর্কে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সচেতনতার অভার অথবা উদাসীনতা প্রকট।

আমরা বহুবার লিখেছি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করার কথা, তাতে কোনো সাড়া মেলেনি। বিষয়টি সংস্কৃতিক অপরাধতুল্য। এর মাধ্যমে শিক্ষা বিষয় ও সামাজিক দুর্নীতিরও যে প্রকাশ ঘটছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল কেন নিষ্ক্রিয় ও উদাসীন, তা বুঝে ওঠা কঠিন। নিম্নমানসম্পন্ন, জ্ঞানার্জনে ফাঁপা উচ্চ ফলধারীরা যে বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রে দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি করতে পারবে না, এ সত্য আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন মহলকে, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্ট অংশকে। কারণ উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা বাদে মেধাবী উচ্চমানের জনশক্তি তৈরি করা যাবে না।

তাই এবারের পরীক্ষার নিম্নমুখী ফল যেকোনো মূল্যে যেকোনোভাবে উচ্চমুখী করার নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। কারণ তাতে সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই। ভেরেণ্ডাগাছ দিয়ে বৃক্ষারণ্য গড়ে তোলার দুর্বুদ্ধি থেকে আমরা যেন মুক্ত থাকি—এ সচেতনতা সর্বমহলে কাম্য। তাই বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত, উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণে আগ্রহী করে তোলা।

অবশেষে আমাদের বক্তব্য, পরীক্ষার যেমনতেমন ভালো ফল যেমন কারো কাম্য হতে পারে না, তেমনি শুধু পরীক্ষার ফলই শেষ কথা নয়, শিক্ষার্থীদের যে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আলোকিত চিত্তের মানুষ রূপে গড়ে তোলাটাই প্রধান কাম্য, মানুষ গড়ার কারিগরদের প্রতি মুহূর্তে সে সত্যটা মনে রাখতে হবে। সবশেষে একটি গুরুত্বপূর্ণ জরুরি কথা—মেধাবী, উচ্চমান শিক্ষক নিয়োগের বিপরীতে দলীয় বিবেচনা যেন প্রাধান্য না পায়, অর্থাৎ যেকোনো মানের শিক্ষক নিয়োগ যেন নীতি না হয়ে ওঠে, বিশেষ করে দলীয় স্বার্থ বিবেচনায়। তাতে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্রিক মর্যাদার বিষয়টি, সেই জাতীয় স্বার্থও।

 

লেখক : কবি, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী

 

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

কল্যাণ ট্রাস্টের ৪০ কোটি টাকা এফডিআর করা হয়নি - dainik shiksha কল্যাণ ট্রাস্টের ৪০ কোটি টাকা এফডিআর করা হয়নি কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা লুটকারী সদস্য-সচিবের বাসায় চেক! - dainik shiksha কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা লুটকারী সদস্য-সচিবের বাসায় চেক! সড়ক অবরোধ করে ঢাবির ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ - dainik shiksha সড়ক অবরোধ করে ঢাবির ৭ কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আদর্শ না শেখালে সন্তানদের হাতে বাবা-মাও নিরাপদ নন: গণপূর্তমন্ত্রী - dainik shiksha আদর্শ না শেখালে সন্তানদের হাতে বাবা-মাও নিরাপদ নন: গণপূর্তমন্ত্রী চাঁদা বৃদ্ধির পরও ২১৬ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি : শরীফ সাদী - dainik shiksha চাঁদা বৃদ্ধির পরও ২১৬ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি : শরীফ সাদী কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নীতিমালা জারি - dainik shiksha কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি নীতিমালা জারি একাদশে ভর্তির নীতিমালা জারি, আবেদন শুরু ১২ মে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির নীতিমালা জারি, আবেদন শুরু ১২ মে প্রাথমিকের ৪২৭ শিক্ষকের বদলি - dainik shiksha প্রাথমিকের ৪২৭ শিক্ষকের বদলি একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website