প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে আইসিটি জ্ঞান ও দক্ষতা বাধ্যতামূলক প্রয়োজন - মতামত - Dainikshiksha

প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে আইসিটি জ্ঞান ও দক্ষতা বাধ্যতামূলক প্রয়োজন

মোহাম্মদ মহসিন মিয়া |

একটি দেশ কতটুকু উন্নত তা জানার জন্য সে দেশের বড় বড় দালান কিংবা প্রশস্ত পাকা রাস্তাগুলো গণনার প্রয়োজন হয় না। ওই দেশের সাধারণ শিক্ষিতের হারই বলে দেয় দেশটি কতটা উন্নত৷ তেমনিভাবে একটি দেশ কতটুকু ডিজিটাল তা জানার জন্য নেটের গতি ও কম্পিউটার গণনার প্রয়োজন নাই; শিক্ষা ক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার ও প্রয়োগই বলে দেয় দেশটি কতটুকু ডিজিটাল৷ অনুরূপভাবে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী কতটুকু আইসিটিতে দক্ষ এবং প্রতিষ্ঠানে আইসিটির  ব্যাপকতা ও পরিধি ওই প্রতিষ্ঠান প্রধানের আইসিটি দক্ষতা দেখলেই সেখানকার আইসিটির অবস্থান সহজে বোঝা যায়৷

বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারি৷ বর্তমানে আইসিটির সর্বাধিক প্রয়োগ ও প্রসার হচ্ছে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে, বিশেষ করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে৷ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বলা হয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যমণি৷ প্রতিষ্ঠানের এমন কোনো কাজ নেই, যা প্রধানকে অবহিত না করে কিংবা বা তার নির্দেশ ছাড়া করা যায়৷ তিনি হলেন প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার শীর্ষে৷

স্বভাবতই যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানে পারদর্শী, সে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে ভালো ফলাফল করে এবং বিজ্ঞানের শিক্ষকেরাও বেশি বেশি অধ্যয়নে তৎপর থাকেন৷ একইভাবে আইসিটি ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও সে রকমই ঘটে থাকে৷ কিন্তু বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাউস ধরা এবং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ফোন রিসিভ করা দেখলেই তিনি আইসিটিকে কত দক্ষ তা বোঝার আর বাকি থাকে না; তাঁর এহেন অবস্থা পুরো প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করে৷ অধিক চাপ প্রয়োগ ও প্রেষণা সৃষ্টি করে যদিও প্রতিষ্ঠানে আইসিটির প্রয়োগ লক্ষ্ করা যায়, কিন্তু তা উল্লেখ করার মত কখনোই হবে না, যদি প্রতিষ্ঠান প্রধান অধিক দক্ষ না হোন এবং তাঁর সদিচ্ছা না থাকে৷

গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষকেরা শিক্ষক বাতায়নে কাজ করে সপ্তাহের সেরা কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে নির্বাচিত হচ্ছেন৷ তাদের মধ্য থেকে আবার অনেকেই জেলা অ্যামবাসেডর ও জেলা আইসিটি কমিটিতেও স্থান পেয়েছেন৷ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই  জেলা শিক্ষা অফিসারদের অনুপ্রেরণায় তাদের অনেকেই নিজ নিজ উপজেলায় শিক্ষকদের মাল্ডিমিডিয়ার মাধ্যমে ক্লাশ নেয়া, মুক্তপাঠ, শিক্ষক বাতায়ন ও কিশোর বাতায়ন সম্পর্কে অবহিতকরণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকেন৷ কিন্তু যখনই কোনো প্রতিষ্ঠানে এ রকম কর্মশালার আয়োজনের কথা বলা হয় কিছু আইসিটি না জানা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাথায় অনীহা ও আগ্রহীনতাভাব প্রকাশ পেতে দেখা যায়৷ তাদের মনে ঘুরপাক খেতে থাকে এ কর্মশালা আয়োজন করে আয়োজক শিক্ষকেরা কী যেন বড় কিছু লাভ করে ফেলেন এবং সাধারণ শিক্ষকেরা যেন তাদের ওপরে চলে যাচ্ছেন এ জন্য সহযোগিতাহীনতার প্রতিফলন ঘটতে দেখা যায়৷ আর সেটি ঘটে থাকে প্রতিষ্ঠান প্রধানের আইসিটি জ্ঞান ও দক্ষতা না থাকার কারণে৷

প্রতিষ্ঠান প্রধান যদি আইসিটিতে দক্ষ হন, তাহলে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে ঘনঘন শিক্ষকদের আইসিটির প্রশিক্ষণ দেয়ার প্রয়োজন হবে না৷ প্রতিষ্ঠান প্রধান আন্তরিক হলে তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দক্ষ করতে এবং প্রতিষ্ঠানে শতভাগ আইসিটি কার্যকর করতে তিনিই যথেষ্ট৷ প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইসিটি দক্ষ মানে প্রতিষ্ঠানে সারা বছর মাস্টার ট্রেইনার অবস্থান করা৷ প্রশিক্ষণের পরে কত শতাংশ শিক্ষক তা প্রয়োগ করে থাকেন, কতজন শিক্ষক নিজ থেকে নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী, ভাতাবিহীন একটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করলেই তা স্পষ্ট হয়ে উঠবে৷

কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বারবার প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁকে আশানুরূপ আইসিটিতে দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না৷ কারণ পদ-পদবী উন্নয়নের জন্য পেশাজীবীরা যত পরিশ্রম করেন, পদবী উন্নয়নের পর স্বীয় পদের কর্ম উন্নয়নের জন্য তার সিকি পরিমাণও পরিশ্রম করেন না৷ শিক্ষা ক্ষেত্রে দ্রুত শতভাগ আইসিটির প্রয়োগ ও এর সুফল পেতে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পূর্বশর্ত হিসেবে আইসিটি জ্ঞান ও দক্ষতা বাধ্যতামূলক করতে হবে৷ এজন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়ার জন্য নির্ধারিত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রার্থীকে বাধ্যতামূলক কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেয়া যেতে পারে-

১. অফিস প্রোগ্রাম জানা থাকা
২. মানসম্মত মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট বানানোর দক্ষতা
৩. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (এটুআই) পরিচালিত শিক্ষক বাতায়নে কনটেন্ট আপলোড করা, সেরা কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে খেতাব পাওয়া, মুক্তপাঠ থেকে বিভিন্ন কোর্স করে সনদ অর্জন করা
৪. অনলাইনে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা ইত্যাদি৷
উপর্যুক্ত দক্ষতাগুলো শুধু প্রতিষ্ঠানে শতভাগ আইসিটি কার্যকর করতেই সহায়তা করবে না, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগেও দুর্নীতি অনেকাংশে লাঘব হবে৷ 
সর্বোপরি, অ্যানালগ ঘড়ি দিয়ে ডিজিটাল টাইম দেখা যাবে না এবং ভাঙা তরী মেরামত করে দ্রুত সাগর পাড়ি দেয়া যাবে না৷ এ জন্য পূর্বেই দ্রুতগামী স্পিড বোট সংগ্রহে থাকতে হবে৷
শুধু সাধারণ যোগ্যতা ও দক্ষতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধান দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত শতভাগ ডিজিটালাইজেশনের আশা করা যাবে না৷ প্রতিষ্ঠানের নেতা ডিজিটাল হলে তার অধঃস্থন সকল শিক্ষকসহ পুরো প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তন ও দ্রুত আইটিভিত্তিক শিক্ষা কার্যকর করা সম্ভব হবে৷

লেখক : সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), বড় গোবিন্দপুর এএমবি উচ্চ বিদ্যালয় চান্দিনা, কুমিল্লা৷

[মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন]

ডিগ্রি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ - dainik shiksha ডিগ্রি ভর্তির অনলাইন আবেদন শুরু আজ আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু - dainik shiksha আইডিয়াল স্কুলে ভর্তি ফরম বিতরণ শুরু নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি - dainik shiksha নির্বাচনের সঙ্গে পেছাল সরকারি স্কুলের ভর্তি শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! - dainik shiksha শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে দেড় লাখ কোটি টাকার প্রকল্প! একাডেমিক স্বীকৃতি পেল ৪৭ প্রতিষ্ঠান - dainik shiksha একাডেমিক স্বীকৃতি পেল ৪৭ প্রতিষ্ঠান এমপিও কমিটির সভা ১৯ নভেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ১৯ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ১৮ নভেম্বর - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু ১৮ নভেম্বর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website