প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ - স্কুল - Dainikshiksha

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি |

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা টিসিএএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন গাজী ও অফিস সহকারী শেখ নূর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বাচ্চু বিশ্বাস গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। 

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন গাজী ও অফিস সহকারী শেখ নূর মোহাম্মদ ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই এ পর্যন্ত উন্নয়নমূলক কাজের নামে ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। কিন্তু কী কী উন্নয়নমূলক কাজ এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এছাড়াও স্কুল ম্যানেজিং কমিটিকে না জানিয়ে গোপনে স্কুল ক্যাম্পাসের বড় বড় ৬০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ এবং ২০১৮ শিক্ষা বর্ষের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তির কার্ড জালিয়াতির অভিযোগও তোলা হয় তাদের বিরুদ্ধে। 

গোহালা টিসিএএল উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৭ সালে। গিয়াস উদ্দিন গাজী ২০১২ খ্রিস্টাব্দে এ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।স্কুলের অফিস সহকারী শেখ নূর মোহাম্মদ প্রধান শিক্ষকের সহপাঠী। তাদের গ্রামের বাড়ি গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামে। এলাকার প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে তারা ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন ছাড়াই এ পর্যন্ত উন্নয়নমূলক কাজের অন্তত ৫ লাখ টাকা অত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। গত জুনে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তির কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ম্যানেজিং কমিটির কাছে ধরা পড়ে। এ ব্যাপারে ২৮ জুন স্কুলের অফিস সহকারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ১ লাখ টাকা অফিস সহকারীর বাড়ি গিয়ে তার কাছে দিয়ে আসেন। টাকা আত্মসাতের দায় থেকে রক্ষা পেতে অফিস সহকারী ১৯ জুলাই স্কুলের ব্যাংক হিসেবে টাকা জমা দিয়ে দেন।

এভাবে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী একের পর এক দুর্নীতি করে স্কুলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বাচ্চু বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীর দুর্নীতির অসংখ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। স্কুলটিকে রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারীকে স্কুল থেকে বিতাড়িত করতে হবে। 

অভিযুক্ত অফিস সহকারী শেখ নূর মোহাম্মদ বলেন, ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ভর্তির ১ লাখ টাকা স্কুলের আলমারিতেই গচ্ছিত ছিল। ভুল করে ব্যাংকে দেয়া হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার পর জুন মাসে প্রধান শিক্ষক ওই টাকা আমার বাড়িতে দিয়ে আসেন। পরে আমি স্কুলের ব্যাংক হিসেবে টাকা জমা দিয়ে দেই। স্কুলের গাছকাটা ও অন্যান্য দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন অফিস সহকারী শেখ নূর মোহাম্মদ। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দিন গাজী দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বাচ্চু বিশ্বাসের অভিযোগ সত্য নয়। স্কুলে উন্নয়মূলক কাজ শুরু হয়েছে। সে কারণে কিছু গাছ কাটা পড়েছে। স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজের কোন টাকা আত্মসাৎ করা হয়নি। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে - dainik shiksha ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মাস্টার্সের সমমর্যাদা পেল দাওয়ারে হাদিস - dainik shiksha মাস্টার্সের সমমর্যাদা পেল দাওয়ারে হাদিস এইচএসসি প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha এইচএসসি প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের বিজ্ঞপ্তি এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর তেরো এগারোর বাদপড়া শিক্ষকদের হইচই (ভিডিও) - dainik shiksha তেরো এগারোর বাদপড়া শিক্ষকদের হইচই (ভিডিও) দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website