please click here to view dainikshiksha website

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বাদ যাবে এমসিকিউ: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ - ১:২০ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) তুলে দেয়া হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে বলেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। সোমবার (১২ই ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তিনি কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এমসিকিউ প্রশ্ন পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া হবে। তাহলে প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ থাকবে না।’

এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি চলমান এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও ইতিবাচকভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় মনিটরিং এবং আইন-শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি সভায় এমসিকিউ পদ্ধতি তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উন্নত দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদেশীদের পরামর্শে এমসিকিউ পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত হয় ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে। সব প্রস্তুতি শেষ করে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো প্রতি বিষয়ে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ চালু হয়।

গত কয়েকবছর যাবত বলা হচ্ছে এমসিকিউ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রকৃত মেধা যাচাই হচ্ছে না। এ ছাড়া ভালো ফল করতে অনেক শিক্ষক টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার হলেই শিক্ষার্থীদের সরাসরি অথবা বোর্ডে উত্তর লিখে দিচ্ছেন। আবার সঠিক উত্তরসহ প্রশ্নপত্র আগেভাগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আর তা পেয়ে শিক্ষার্থীদের নম্বর পাওয়া সহজ হচ্ছে।

১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ৫০ নম্বরের এমসিকিউ চালু করা হয়। বাকি ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা (সিকিউ)। ৫০ নম্বরের এমসিকিউ উত্তর দিতে প্রতি বিষয়ে ৫০০টি এমসিকিউ প্রশ্ন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। যার নাম ছিল প্রশ্নব্যাংক। ৫০ নম্বরের উত্তর দিতে শিক্ষার্থীরা ৫০০ এমসিকিউ মুখস্ত করে পরীক্ষায় বসত। তখন এমসিকিউ ও সিকিউ মিলে ৩৩ নম্বর পেলেই পাস করত। ফলে শিক্ষার্থীরা রচনামূলক অংশের লেখাপড়া বাদ দিয়ে শুধু ৫০০ এমসিকিউ মুখস্থ করত। এতে পাসের হার রাতারাতি বাড়তে থাকে। এতে শিক্ষার মান নামতে শুরু করে। এ অবস্থায় ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে নির্ধারিত ৫০০ নম্বরের এমসিকিউ তুলে দেয়। তবে , এতেও কিছু হয়নি। এমসিকিউর উত্তর পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের বলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে থাকে। পরে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে এমসিকিউর পূর্ণ নম্বর ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ করা হয়। কিন্তু পরীক্ষার হলে শিক্ষকদের এমসিকিউর উত্তর বলে দেওয়ার প্রবণতা কমেনি। নকল ঠেকাতে কেন্দ্র বিনিময় বিনিময় প্রথা ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক উত্তর বলে দেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ প্রশ্ন কমিয়ে ৩০-এ নামিয়ে আনা হয়। চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নানা উদ্যোগের পরও বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের এমসিকিউ প্রশ্ন উত্তরসহ ফাঁস হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ২১টি

  1. আবুল বাশার, সালামপুর আমিনিয়া ফাজিল মাদরাসা, দুমকি, পটুয়াখালী। says:

    সৃজনশীল পদ্বতিও ফলপ্রসূ নয় কারন এতে পরীক্ষার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন হচ্ছে না।

  2. বিজন চন্দ্র সরকার। says:

    সৃজনশীল ও এম সি কিউ দুই ধরনের পদ্ধতি বাতিল করা হলে প্রশ্ন ফাঁস রোধ করা সম্ভব হতে পারে।

  3. মতিউর রহমান মতিন। হাজী ইব্রাহিম আলমচান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। says:

    খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ হবে।

  4. মতিউর রহমান মতিন। হাজী ইব্রাহিম আলমচান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বন্দর, নারায়ণগঞ্জ। says:

    খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ হবে মনে করি।

  5. আমিনুল ইসলাম-চাকলা,বেড়া,পাবনা says:

    শুধু এমসিকিউ কেন? লিখিত পরীক্ষাও বাদ দিয়ে শুধু মৌখিক পরীক্ষা চালু করুন ।তাহলে প্রশ্ন ফাঁস হবে না।

  6. মোঃ নুরুন্নবী says:

    শুধু বাংলা কেন ? ইংরেজি. গণিত, ধর্ম, তথ্য এগুলো বাদ কেন।

  7. আবদুল্লাহ , বাংলাদেশ ৷ says:

    আপনার মন্তব্য : গত কয়েকদিন আগে বললেন প্রশ্ন ফাঁস হয়নি ! আজ বলছেন প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে এমসকিউ উঠিয়ে দিচ্ছেন ! সঠিক কোনটা ?

  8. মো: রহিদুল আলম says:

    সনাতন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া যায় কিনা!?

  9. মোঃ রেজাউল করিম সহঃশিক্ষক ইত্যা আদর্শ মাঃবিঃ মনিরামপুর,যশোর says:

    অনেক ধন্যবাদ । সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য । যোগ্য শিক্ষামুন্ত্রীর যোগ্য সিদ্ধান্ত ।

  10. হুমায়ুন কবির says:

    ১০০%এক মত। ২০১৯সাল থেকে কার্যকর করা উচিত।

  11. আব্দুল মোছাব্বির,প্রভাষক,গণিত,সুজা মেমোরিয়াল কলেজ,মৌলভীবাজার। says:

    শিক্ষার একটি স্থায়ী পদ্ধতি বের করুন। অস্থিতিশীল শিক্ষা দেশের জন্য ক্ষতিকর।

  12. আবদুল মোতালেব says:

    সময় গেলে সাধন হবে না।

    • Md.Habibur Rahman says:

      যেকোন প্রশ্ন করার পূর্বে প্রশ্নকর্তার ভাবা উচিৎ যে, পরীক্ষার্থীরা কোন শ্রেণীতে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে এবং সকলেই একই মানের কি-না। সাথে সাথে এটাও স্মরন রাখা উচিৎ যে, আমরা সকলেই সৎ কি-না। MCQ তুলে দেওয়ার প্রস্তাবটি সময়োপযোগী।এর জন্য মন্ত্রী মহোদয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

  13. জিয়াউর রহমান says:

    আগে বকেয়া সহ ৫% দিন তারপর বুলি শোনান। মিথ্যা আশ্বাস তো কতই দিলেন আর কত?

  14. গোবিন্দ দাস,শ্রীরামকাঠী ইউ,জে, কে,মাধ্যমিক বিদ্যালয়। says:

    যে দেশে শিক্ষকদের বেতন দেয় না,সেখানে যে পদ্ধতিই প্রয়োগ করা হোক না কেনো,কোনো ফলপ্রসু হবে বলে মনে হয় না।

  15. শান্তি রঞ্জন সরকার,গোবিন্দ কাটি says:

    সঠিক সিদ্ধান্ত

  16. মোঃ আকরাম হোসেন, সহঃ শিক্ষক, বটিয়াপাড়া শিয়ালমারী মাঃবিঃ,আলমডাঙ্গা,চুয়াডাঙ্গা। says:

    চাকুরী নিয়োগ পরীক্ষায় এমসিকিউ পদ্ধতি বাদ দিতে না পারলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় এমসিকিউ বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। প্রশ্ন ফাঁস বন্ধো করার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রায় সব নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস হয়। এগুলো বন্ধের ও ব্যবস্থা করতে হবে।

  17. মোঃ হবিবর রহমান, প্রভাষক, পরিসংখ্যান , দিনাজপুর। says:

    কিছুটা সাকিব খান অপু বিশ্বাস জটিলতার মত। প্রমানসহ অপু যখন সম্পর্কের বিষয়টি ফাঁস করলো, সাকিব জানালো সম্পর্কই বাতিল। এক্ষেত্রেও তাই।
    এমসিকিউ প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় আগামীতে এমসিকিউ বাদ। তো ইংরেজী প্রশ্নও তো ফাঁস হয়েছে। এটা তো এমসিকিউ নয়। তাহলে কি ইংরেজী পরীক্ষাও বাদ। বিসিএস পরীক্ষাতেও প্রশ্নফাঁসের বিস্তর অভিযোগ। অভিযোগ সত্য হলে কি বিসিএস পরীক্ষাও বাদ হবে? তাহলে ক্যাডার সৃষ্টি হবে ক্যামনে? অবশ্য দলীয় ক্যাডারদের সেপদে নিয়োগদানের ব্যাবস্থা থাকলে সেটা ভিন্ন কথা।

  18. মোঃ উজ্জল হোসেন,সহকারী শিক্ষক ,ভাওড়া উচ্চ বিদ্যালয় says:

    বাস্তবায়ন করা হোক

  19. Md salim sarker says:

    কথায় না কাজে পরিচয় দিন ।

  20. আবদুল গফুর মিয়া ,জামির্তা সত্য গোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়,সিংগাইর,মানিকগন্জ্ঞ । says:

    এমসিকিউ এবং সৃজনশীল বাদ দেওয়া কোনটিও ঠিক হবেনা । প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তি বেড় করতে হবে ।দেশ পিছাতে
    পারেনা । দেশ অনেক এগিয়েছে । বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীদের সব বইয়ের সব অংশই পড়তে হয় ।আমার মতে এমসিকিউ আরও বাড়ানো উচিত ।

আপনার মন্তব্য দিন