প্রসঙ্গ নতুন এমপিও নীতিমালা: আট প্রশ্নের জবাব কে দেবেন? - মতামত - Dainikshiksha

প্রসঙ্গ নতুন এমপিও নীতিমালা: আট প্রশ্নের জবাব কে দেবেন?

মো: আবুল বাশার হাওলাদার |

নতুন জনবল কাঠামো  ও এমপিও নীতিমালা পর্যালোচনার আগে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। কে বা কারা নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন? কিসের ভিত্তিতে তৈরি করেছেন? শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন হবে কিনা? যাদের জন্য নীতিমালা করা হয়েছে তাদের সম্পৃক্ততা ছিল কিনা? কেন এই নীতিমালা? কোনো কমিটি করার প্রয়োজন ছিল কিনা? প্রণয়নকারীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান আছে কিনা? তাদের এবিষয়ে সক্ষমতা কতটুকু? প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি চাইনা।

নীতিমালাটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অনেকটাই পূর্বের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে।

শিক্ষায় নতুনত্ব বা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ণে এ নীতিমালা কার্যকর ভূমিকা রাখবে না বলে আমি মনে করি। কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা চালিয়ে নেয়া যাবে। মনে রাখতে হবে, ৯৭ ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। তবে, প্রশাসনিক কাঠামো অনেকটাই সরকার নিয়ন্ত্রিত। এই যুগেও শুধুমাত্র একটি দুর্বল নীতিমালা দিয়ে শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র পরিচালনা করার প্রয়াস চলছে, ভাবা যায় না। শিক্ষক নেতাদের কেউ কেউ আবার এই নীতিমালাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এখন দেখা যাক নীতিমালায় কী কী আছে। নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর দুএকটি পদ সৃষ্টি করা হলেও তা পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় আছে যা অনিশ্চিত। কলেজ শিক্ষকদের ৫:২ অনুপাতে পদোন্নতি বহাল আছে। এখানে কোনো কোনো প্রভাষক জীবনে কখনো সহকারি অধ্যাপক বা অধ্যক্ষ হতে পারবেন না। তাছাড়া সহযোগী অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে পারবেন, কিন্তু কীভাবে পারবেন তার নির্দেশনা নেই নীতিমালায়। অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পেতে সহকারি অধ্যাপকের বিভিন্ন মেয়াদের অভিজ্ঞতা লাগবে। কিন্তু সহকারি অধ্যাপকের পদোন্নতিতে অনুপাত প্রতিবন্ধকতায় থেমে আছে সকল আশা- ভরসার সোনার হরিণ। এই অনুপাত প্রথা বন্ধ করতে হবে।

এদিকে ৫ হাজার ২৪২টি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝুলে আছে এমপিওভুক্তির অপেক্ষায়। সরকারি প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাজেটে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে কিছু প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছিলো। এর পর থেকে আর কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়নি। এখানে শিক্ষামন্ত্রীর দূরদর্শিতা ও অবহেলা ছিলো নিঃসন্দেহে বলা যায়। গত ৮ বছরে ৫০০টি করে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করলে এখন আর এ সমস্যা থাকতো না। আমি বলবো এর দায় শিক্ষামন্ত্রণালয়ের।

 নীতিমালায় বলা আছে, কোনো প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির সকল শর্ত পূরণ করলেও এমপিওভুক্তির নিশ্চয়তা নেই এবং সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী তা এমপিওভুক্তি করা যেতে পারে। তাহলে বিভিন্ন আন্দোলনে সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না, ধরে নেয়া যায়। অষ্টম পে স্কেলে বেসরকারি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা, পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া এপর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। এমপিও নীতিমালায় এব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই। শিক্ষানীতি-২০১০-এ শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কঠামো প্রণয়ন করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এব্যাপারে প্রথম থেকে বলে আসছিলেন। এখন তিনি তা ভুলে গেছেন। আমরাও ভুলে গেছি!

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মামলাজনিত বা অন্য কোনো কারণে বেতন বন্ধ থাকলে পরবর্তীতে বকেয়া প্রদান করা হবে না, নীতিমালার এবিষয়টি অমানবিক বলে আমি মনে করি। তাছাড়া চাকরি নিয়মিত করার তারিখ থেকে যোগদানের তারিখ ধরা হবে, বিষয়টি যুক্তিসঙ্গত নয়। এটি নতুন সংযোজন যা শিক্ষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। সাময়িক বরখাস্ত বা চূড়ান্ত বরখাস্তের সময় এমপিওতে বেতন প্রাপ্তির বিষয়ে নীতিমালায় উল্লেখ নেই।

এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ আছে প্রায় ২ বছর।  ৭০ হাজার শিক্ষকের শূন্যপদ বিদ্যমান রয়েছে। যার ফলে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদান দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই নিয়োগ পদ্ধতি পূর্বের ন্যায় বা নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করে নিয়োগজট কমানো প্রয়োজন। চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ ও অবসরের বয়স ৬০ বছর করা হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭২ বছর হয়েছে। তাছাড়া অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব পূরণের লক্ষ্যে অবসরের বয়স ৬৫ করা প্রয়োজন।

নতুন কোনো শিফট বা শাখা ক্যাম্পাস খোলা যাবে না, নীতিমালায় বলা আছে। বিশেষ করে শহর এলাকায় শিফট ও ক্যাম্পাস খোলা অতীব জরুরী।

মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ন্যূনতম শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখ আছে। কিন্তু সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে তা উল্লেখ নেই। উচ্চতর স্কেল ১০ ও ৬ বছরে ২টি প্রদান করা হবে, ভালো কথা। কিন্তু ৮ বছরে যারা টাইম স্কেল পেয়েছেন তারা কত বছর পর উচ্চতর স্কেল পাবেন তা উল্লেখ নেই।

শিক্ষানীতি - ২০১০ এই নীতিমালার সাথে সাংঘর্ষিক। শিক্ষানীতির মূল আকর্ষণ তিন স্তরবিশিষ্ট শিক্ষাব্যবস্থা এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ৮ বছর পরও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সেই পুরনো কথা আজও শুনতে হচ্ছে। পরিশেষে বলতে চাই, এ নীতিমালা শিক্ষার সংকোচন নীতিমালা। এটা সংশোধন না করলে শিক্ষায় বৈষম্য সৃষ্টি হবে। আর তা শিক্ষার জন্য মঙ্গলকর হবে না। তবে শিক্ষা জাতীয়করণই হলো সবকিছুর সমাধান।

লেখক: মো: আবুল বাশার হাওলাদার, সভাপতি, বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ির জনবল কাঠামো নীতিমালা - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পেল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ির জনবল কাঠামো নীতিমালা ৩৩ মডেল মাদরাসা সরকারিকরণের দাবি - dainik shiksha ৩৩ মডেল মাদরাসা সরকারিকরণের দাবি বিএড স্কেল পাচ্ছেন ১৪০৯ শিক্ষক - dainik shiksha বিএড স্কেল পাচ্ছেন ১৪০৯ শিক্ষক ফাজিল ডিগ্রিবিহীন ধর্ম শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত - dainik shiksha ফাজিল ডিগ্রিবিহীন ধর্ম শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত দাখিল পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন নবায়নের বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha দাখিল পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন নবায়নের বিজ্ঞপ্তি আলিমের নম্বর বণ্টন প্রকাশ - dainik shiksha আলিমের নম্বর বণ্টন প্রকাশ দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website