প্রাথমিকের দপ্তরিদের যন্ত্রণার মাঝে বৈষম্য - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

প্রাথমিকের দপ্তরিদের যন্ত্রণার মাঝে বৈষম্য

মো. সিদ্দিকুর রহমান |

এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সে আমার জন্মভূমি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু সে স্বপ্নের সোনার বাংলা নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পরও তাঁর সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন আমলে বিশ্বে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ ব্যতিক্রম হলো প্রাথমিকের দপ্তরিরা। ২৪ ঘণ্টার সার্বক্ষণিক কর্মচারী হিসাবে কাজ করে আসছেন। বিশ্বে এমন নজির বিশ্বে কোথাও আছে বলে জানা নেই।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যায় কর্মচারী কল্যাণ সমিতি তাদের চাকরি রাজস্বখাতে নেয়া ও কর্মঘণ্টা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ ডিসেম্বর একটি রিট আবেদন করেন। রিটের লিখিত জবাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক বলতে বিদ্যালয় চলার সময়কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। মহামান্য হাইকোর্ট দপ্তরি কাম প্রহরীদের রিট আবেদনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। অথচ সরকার পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আপিল করছেন। এখানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সমীপে প্রশ্ন- কর্মঘণ্টা সার্বক্ষণিক ডিউটি সম্পর্কে বিদ্যালয় চলার সময়ে ডিউটি ব্যাখ্যা দিয়ে আদালতে লিখিত জবাব দেয়ার পরও কেন এ সম্পর্কে বাস্তবে কোনো পরিপত্র জারি করা হয়নি কেন? ২৪ ঘণ্টা অমানবিক ডিউটি করানো আদালতে ভুল তথ্য দেয়া কি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না? ২৪ ঘণ্টা ডিউটির খোঁড়া অজুহাতে চাকরিচ্যুতি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার না করার বিষয়ে দপ্তরি কাম প্রহরী ভাইদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তাদের লিখিত বক্তব্যের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেয়া কেন যৌক্তিক হবে না? একই কর্মক্ষেত্রে শিক্ষকের পাশাপাশি ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। তবে কেন তাদের আউট সোর্সিং কর্মচারী হিসাবে রাখা হচ্ছে? একই ভবনে দুই ধরনের কর্মচারী। এ বৈষম্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও স্বপ্নের পরিপন্থি বলে আমি মনে করি। এ বৈষম্য ও কষ্ট তাদের অনেক সময় কর্মস্পৃহা ও কাজের প্রতি অনীহা জন্মায়।

বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পক্ষে আন্দোলন করতে যেয়ে ছাত্রত্ব বাতিল হয়। অসহায় দপ্তরিরা স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার সরকারের আমলে ন্যায্য অধিকার পাওয়ার জন্য আন্দোলন ও মামলা করবে এটা কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলার গরিব দুঃখী মেহনতি মানুষের অধিকার কায়েম করা প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই শুধু প্রাথমিক শিক্ষকদের সরকারিকরণ করেননি। বিদ্যালয় ভবনসহ সকল সম্পদ সরকারি হিসেবে পরিণত করেছেন। এমনকি পৌরসভার ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের চাকরিও সরকারিকরণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও একই আদর্শ অনুসরণ করে বিদ্যালয় সরকারিকরণ করেছেন।

বর্তমানে তাদের দুঃসহ বেদনা মাঝে আরেকটি বৈষম্যের যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়েছে। একই পদে এক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বেতন প্রাপ্তির বৈষম্য ও কোন কোন উপজেলায় বোনাস না পাওয়ার নতুন ক্ষোভ। চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার আইটপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরী মো. উজ্জল বলেন, ‘করোনার মাঝে ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করেও অনেক উপজেলা বেতন ভাতার বৈষম্য’। কেউ কেউ বোনাস থেকেও বঞ্চিত। তাদের বেতন ও বোনাস সমস্যা কর্তৃপক্ষের তেমন নজর কাড়তে পারেনি। ফাইল চালাচালির সময়ক্ষেপণ না করে এর একটা যৌক্তিক আশু সমাধান করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট এরশাদ আমলের একটা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি। প্রাথমিক শিক্ষকদের আইএবিএ পাসের ইনক্রিমেন্ট আদেশ অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়নি। যার ফলে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। তখন অর্থ উপদেষ্টা ছিলেন এম. সাইদুজ্জামান। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের বঙ্গভবনের হলরুমে বসিয়ে ফাইল এনে সে নাকচ ফাইলটি অনুমোদন করিয়ে দেন। সে দৃষ্টান্ত আজও স্মৃতিতে ভেসে উঠে। অথচ বিদ্যালয় চলার সময়ে ডিউটির আদেশ, বেতন, বোনাসের বৈষম্য দূরীকরণের বিষয়টি মাননীয় সচিব ও মহাপরিচালকই সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। তাই আর নয় সময়ক্ষেপণ। দ্রুত প্রাথমিক দপ্তরি কাম প্রহরী ভাইদের সমস্যা নিরসন করে তাদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করুন। প্রাথমিকের সিনিয়র সচিব সমস্যা নিরসন সকলের মাঝে তাঁর পদোন্নতির সুবাতাস প্রসারিত করবেন। এ প্রত্যাশায় জয় বাংলা। জয় হোক প্রাথমিকের দপ্তরি কাম প্রহরীদের।

লেখক : মো. সিদ্দিকুর রহমান, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষা গবেষণা পরিষদ; সম্পাদকীয় উপদেষ্টা, দৈনিক শিক্ষাডটকম।

Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram - dainik shiksha Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website