প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দের টাকা কর্মকর্তার পকেটে - স্কুল - Dainikshiksha

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বরাদ্দের টাকা কর্মকর্তার পকেটে

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

চরফ্যাশন উপজেলার ২১২টি প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সরকারি বরাদ্দের অংশের টাকা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ অনেকের পকেটে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের প্রায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮শ’ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের ফলে ১২শ’ শিক্ষকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা এবং তার দুই কর্মচারীর মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য উত্তোলন করে ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, সরকারিভাবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রাক-প্রাথমিকের ক্লাস সৌন্দর্যবর্ধন, রুটিন মেইনটেন্স, ক্ষুদ্র মেরামত ও স্লিপের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে।

স্থানীয় একাধিক প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে স্কুলপ্রতি ছোটদের জন্য শেখ হাসিনা (গল্পের) দুটি বই বিক্রিতে ৫শ’ টাকা করে মোট ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫শ’ টাকা, প্রাক-প্রাথমিকে সৌন্দর্যবর্ধনের ২১২টি প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দের ৫ হাজার টাকা থেকে ৩শ’ টাকা করে মোট ৬৩ হাজার ৫শ’ টাকা, রুটিন মেইনটেন্সে ৭০টি প্রতিষ্ঠান থেকে স্কুলপ্রতি ১০ হাজার থেকে ১ হাজার করে মোট ৭০ হাজার টাকা, ১৭টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র মেরামতের ১ লাখ টাকা থেকে ১২ হাজার করে মোট ২ লাখ ৪ হাজার ও ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের স্লিপের ৪০ হাজার থেকে ১ হাজার করে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। উপজেলার বরাদ্দকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। যে প্রতিষ্ঠান সরকারি সব বরাদ্দ পেয়েছে সে প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে ১৪ হাজার ৮শ’ টাকা করে।

 যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দ পায়নি সে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে ২৮শ’ টাকা করে। শনিবার সরেজমিন কলেজপাড়া আনছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক একেএম মজির উদ্দিন বলেন, ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ঢালাইয়ের কাজ করেছি। ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দের বিষয় জানতে চাইলে তিনি আপ্যায়ন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। উল্লেখযোগ্য কাজ দেখাতে পারে না। মধ্য আবুবকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ কিছুটা হলেও প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, আমার কাছ থেকে অফিস ক্ষুদ্র মেরামত বরাদ্দ থেকে ১২ হাজার টাকা নিয়েছে। তবে স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকের বরাদ্দ থেকে টাকা নেয়া হয়নি।

পূর্ব-উত্তর আসলামপুর খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদাচ্ছের হোসেন বিদ্যালয়ের নামে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে স্লিপের ৪০ হাজার টাকা, প্রাক-প্রাথমিকের ৫ হাজার টাকা, রুটিন মেইনটেন্সের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিদ্যালয়ে কোনো কাজ না করে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি সমুদয় টাকা আÍসাৎ করেছে বলে স্থানীয় জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ওই বিদ্যালয়ে স্লিপের ও প্রাক-প্রাথমিকের ৪৫ হাজার টাকা কোনো কাজ হয়নি অভিযোগ তোলা হলে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা খালিদ আহম্মেদ তদন্তের নামে প্রহসন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৃষিত কুমার চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বাসে বরিশাল যাচ্ছি। প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করা হয়নি। বরিশাল থেকে এসে বিষয়টি দেখব। উপজেলা বিল প্রদানকারী কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, আমি তদারকি করতে পারিনি। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার কাজের তদারকি করেন। উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, এসব বরাদ্দের টাকা প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যৌথ হিসাব নম্বরে ছাড় করা হয়। তারা ইচ্ছামতো খরচ করতে পারেন। সব প্রতিষ্ঠান দেখার সুযোগ হয় না। কিছু প্রতিষ্ঠান দেখেছি কাজ মোটামুটি হয়েছে।

সূত্র : দৈনিক যুগান্তর

বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২২৮ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ২২৮ শিক্ষক পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার আদেশ জারি - dainik shiksha পাঁচ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার আদেশ জারি প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ  বাতিল - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এমসিকিউ বাতিল স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website