প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মসূচি ঘোষণা কাল - সমিতি সংবাদ - দৈনিকশিক্ষা

প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মসূচি ঘোষণা কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক |

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন শিক্ষক নেতারা। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ও প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন বাস্তবায়নের লক্ষে সব শিক্ষক সংগঠন নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। আগামীকাল শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করবেন তারা। 

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকের শিক্ষকদের বিদ্যমান বেতন যথাযথ রয়েছে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যদিও প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গত ২৯ জুলাই গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাবনা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে প্রস্তাবনাটি প্রত্যাখ্যান করে অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিটি দেখার পর ক্ষুব্ধ-হতাশ সারাদেশের ৬৫ হাজারেরও বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় চার লাখ শিক্ষক।

এরপর গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে এক জরুরি সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সভা শেষে সংগঠনের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান আতিক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১ তম গ্রেডে বেতন ভাতার দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নামবেন শিক্ষকরা। এসময় সব সংগঠনকে এক প্লাটফর্মে এসে দাবি বাস্তবায়নে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। 

প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১ তম গ্রেডে বেতন ভাতার দাবি বাস্তবায়নে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণায় আগামী শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ডিআরইউতে সংবাদ সম্মেলনের আযোজন করা হয়েছে বলে জানান নেতরা।      

এর আগে, প্রাথমিক শিক্ষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের পর গ্রেড পরিবর্তনের প্রস্তাবনা গত ২৯ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের দাবির মুখে প্রস্তাবনায় প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। যদিও সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল ১১তম গ্রেডে বেতন ভাতা।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষকদের বেতনভাতা বাড়ানোর বিষয়টি খারিজের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন,  ‘অর্থ সচিব বিদেশে রয়েছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন। এরপর শিক্ষকদের বেতনের বিষয়ে অর্থ সচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন।’ কী কারণে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর দাবিটি অর্থ মন্ত্রণালয় নাকচ করল- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি অর্থ সচিবের সঙ্গে বৈঠকেই আলোচনা হবে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি খারিজ করার আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারো সঙ্গেই কোনো আলোচনা করা হয়নি। অর্থ বিভাগের উচিত ছিল, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলা। তাহলে পরিস্থিতি এত জটিল হতো না। আর অর্থ বিভাগের একটি সূত্র বলছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ালে একই গ্রেডে যারা বেতন পান তারাও বেতন বাড়ানোর দাবি করবেন। তাতে পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে অর্থ বিভাগ প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি নাকচ করে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গত ২৯ জুলাই যে চিঠি লিখেছেন তাতে বলা হয়েছে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে শিক্ষকদের বেতন ও মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ২০১৮ সালে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেয়ার পর সহকারী শিক্ষক আর প্রধান শিক্ষকের মধ্যে বেতনের পার্থক্য হয়েছে চার ধাপের। অথচ ২০১৪ সালের ৯ মার্চের আগে এই পার্থক্য ছিল মাত্র এক ধাপের। শিক্ষকরা ধাপ কমানোর জন্যই আন্দোলন করে আসছিলেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দশম গ্রেডে। আর সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড নির্ধারণ করে ১২তম গ্রেডে। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১ এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা ১৪তম এবং প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় বেতন বাড়াতে রাজি হলে প্রধান শিক্ষকদের একধাপ এবং সহকারী শিক্ষকদের দুই ধাপ বেতন বাড়ত। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্যেরও নিরসন হতো।

শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় - dainik shiksha শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের - dainik shiksha ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website