ফের বদলির ‘ঘুপচি’ আদেশ, বাড়ৈর লিয়েন আবেদন স্থগিত - বিসিএস - Dainikshiksha

ফের বদলির ‘ঘুপচি’ আদেশ, বাড়ৈর লিয়েন আবেদন স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ফের ‘ঘুপচি’ আদেশ জারি করে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কতিপয় বিতর্কিত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করে আনার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাখাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত থাকার অভিযোগে মাত্র কয়েকমাস আগে এসব কর্মকর্তাদের ঢাকার বাইরের বিভিন্ন কলেজে বদলি করা হয়। কিন্তু গত সপ্তাহের বিভিন্ন সময়ে পৃথক আদেশে ১১৭ জনকে বদলি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে কয়েকটি আদেশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি।  

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আদেশে দেখা যায়, বুধ ও বৃহস্পতিবার ১১৭ জনকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৪৭ জনের বদলির আদেশ হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে অধ্যক্ষ ও চারজনকে উপাধ্যক্ষ করা হয়েছে। আছেন ছয়জন অধ্যাপক। এদিন ১৬ জন সহযোগী অধ্যাপক ও বেশ কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক পছন্দের জায়গায় বদলি হতে পেরেছেন।

গোলাম মোস্তফা ও মতিয়ুর রহমান নামে দু’জনকে আগাম পদায়ন করা হয়েছে। প্রায় দুই মাস পর যোগদানের শর্তে একজনকে কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই কলেজে তিনি উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত আছেন। রেজাউল হক নামে একজনকে কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে আগাম পদায়ন করা হয়েছে। ফাতেমা নাসরিন আখতার নামে এক অধ্যাপককে অনেক নিম্নপদে ব্যানবেইসের সহকারী পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে।

তিনি খুলনার সুন্দরবন কলেজে ছিলেন। মৌলভীবাজার থেকে এনে একজনকে একটি প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক করা হয়েছে। মশিউর রহমান নামে এক অধ্যাপকের বদলির ক্ষেত্রে ঘটেছে তুঘলকি কাণ্ড। যেখানে শিক্ষকরা মাসের পর মাস ঘুরে বদলি হতে পারেন না সেখানে তাকে দু’মাস আগে বদলি করে রাখা হয়েছে।

৮ নভেম্বর বদলি করা হলেও তার বদলির আদেশ আগামী বছরের ৩ জানুয়ারি কার্যকর হবে। আরও চার শিক্ষকের ক্ষেত্রে এমন ঘটেছে। তাদের মধ্যে একজনকে ঢাকা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপকের পদে আগাম বদলির আদেশ দিয়ে রাখা হয়েছে।

বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নানা কৌশল অবলম্বন করেন। অনেককে কৌশলে ওএসডি দেখিয়ে ঢাকার কলেজে সংযুক্ত করা হয়। এরপর তাদের ঢাকার লোক দেখিয়ে নিয়মিত পদায়ন করা হয়। এবারও এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে চারজন সহকারী অধ্যাপক আছেন। সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার দু’জনকে নায়েমে পদায়ন করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পেছনে ‘রহস্যজনক কারণ’ আছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এর আগের দিন বুধবার ঘটেছে আরও বড় সংখ্যায় বদলির ঘটনা।

ওইদিন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ৭০ জনের বদলির আদেশ প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে দু’জন অধ্যাপক, ৪৫ জন সহযোগী অধ্যাপক, ১২ জন সহকারী অধ্যাপক, ১১ জন প্রভাষক। বদলির আদেশপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসের ন্যায় এবারও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্কালে আমেরিকায় পাড়ি জমাতে চাওয়া বিতর্কিত বাড়ৈ ফের লিয়েনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে সরকারি কর্মকর্তাদের লিয়েনে বিদেশ পাড়ি দেয়ার ওপর সরকারের শীর্ষ মহলের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাড়ৈর আবেদন আটকে দেয়া হয়েছে। তাকে দেশেই থাকতে হচ্ছে। সরকারের উচ্চমহলের আদেশে বাড়ৈকে মন্ত্রীর এপিএস পদ থেকে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে ও পরে রাজশাহী কলেজে পাঠানো হয়। মূূলত বাড়ৈ ও ঢালীকে ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে ওএসডি করার আদেশ ছিলো। 

সাংবাদিকদের কাছে বাড়ৈ অস্বীকার করলেও লিয়েনে ছুটির আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন বলেন, ‘বাড়ৈ লিয়েনে যাওয়ার আবেদন করেছেন ‘

তবে, বাড়ৈকে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ওএসডি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে রাখার আদেশ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবারের এই আদেশটি প্রচলিত বিধান অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি। তার বদলে সংশ্লিষ্টদের হাতে হার্ড কপি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষাখাতের অভিজ্ঞরা একে ‘ঘুপচি’ আদেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। একইসঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে এইসব ঘুপচি আদেশ ‘জালালী হাতে’ প্রচলন হওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তারা। শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় সব বদলিতে আলোচিত জালালী হাতের ইশারা থাকায় শিক্ষা প্রশাসনে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তারা কোনঠাসা ও বিএনপি-জামাতপন্থীদের রমরমা অবস্থার চলছে কয়েকবছর যাবত। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যাপক দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, বিএনপি-জামাত নেতাদের সুপারিশে শিক্ষা ক্যাডার থেকে উপ-সচিব হওয়া সেই জালালী হাতটি এখন ‘আওয়ামী লীগপন্থীদের’  উচ্ছেদের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। 

তিনি বলেন, পাঠ্যপুস্তকবোর্ড চাকরি করে পাঠ্যবইয়ে বঙ্গবন্ধুর জীবনী সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়া জনৈক সৈয়দ মইনুলকে শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিডি বিশেষ পদে দেয়া হয়েছে। এটিও ঘুপচি আদেশ। কারণ, আদেশটি পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়নি। মাদরাসার জন্য আলাদা অধিদপ্তর হয়েছে তবুও কেন মাদরাসা (বিশেষ) শাখায় উপ-পরিচালক দরকার হবে?  এ প্রশ্ন সবার মুখে মুখে। 

তবে, সব আদেশেই ওয়েবসাইটে দেয়া হবে বলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো: সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। আর বদলির বিষয়ে বলেছেন, এটা রুটিন ওয়ার্ক। 

জানা যায়, সরকারকে অস্থিতিশীল করতে কর্মসূচি দেয়াসহ জামাতপন্থীদের পরিকল্পনায় বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি চালানোর অপরাধসহ বিভিন্ন দুর্নীতির দায়ে কয়েকমাস আগে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয় বাড়ৈ-মইনুল-ইমরুল-মাসুদা গংদের। বদলির ঘুপচি আদেশে সেই বিতর্কিতরা সবাই ঢাকায় ফিরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

জানা যায়, এই জালালী হাতেই ওয়াদুদ নামের ছাত্রদলের সাবেক একজন নেতাকে ডিআইএতে পদায়নের ঘুপচি আদেশ জারি করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। ওয়াদুদ মূলত মোটা অংকের টাকা দিয়ে ডিআইএতে আসলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের তদবিরের দোহাই দেয়া হচ্ছে। এছাড়া জালালের হাসপাতালবাসকালীন যাবতীয় খরচ যোগানদাতা হিসেবে শিক্ষা ক্যাডারে পরিচিত খুলনার বিতর্কিত টি এম জাকির হোসেনকে ফের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন দেয়া হয়েছে।  

এছাড়া গত সপ্তাহে বিভিন্ন কলেজের শত শত বদলির আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা অধিদপ্তরের অধিকার খর্ব করে বদলির সব ক্ষমতা ‘জালালী হাতে’ বন্দী রাখা হয়। এতে একচেটিয়া বদলি বাণিজ্য হয়েছে বলে জানা যায়। 

 

নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে এমপিও বাতিল হচ্ছে ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর - dainik shiksha এমপিও বাতিল হচ্ছে ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্ত হচ্ছেন কারিগরির ২২৮ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন কারিগরির ২২৮ শিক্ষক বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website