বইমেলায় নিম্নমানের শিশুতোষ বইয়ের ছড়াছড়ি! - 1


বইমেলায় নিম্নমানের শিশুতোষ বইয়ের ছড়াছড়ি!

নিজস্ব প্রতিবেদক |

শিশুসাহিত্যের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন এ সময়ের সাহিত্যিকরা। অভিভাবকরাও বলছেন, শিশুসাহিত্য নামে বাজারে যেসব বই আসছে সেগুলোর বেশিরভাগেরই মান ভালো না। কবি আসাদ চৌধুরী বললেন, ‘বাজারে হাজার হাজার বই আসুক তাতে কোন সমস্যা নেই। কালি-কাগজের ব্যবসা ভালো হবে। লেখা ভালো না হলে পাঠক তা পড়বে না। কিন্তু শিশুদের বইয়ের প্রতি নজর দিতে হবে। তাদের হাতে যেন মানসম্পন্ন বই পড়ে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি প্রয়োজন।’

বইমেলার শিশুচত্বর ঘুরলে দেখা যায়, শিশুদের বই মানেই রগরগে উপস্থাপনা। ভুল ছন্দ আর কাঁচা হাতের গদ্যে লেখা শিশুতোষ বইয়ের ছড়াছড়ি। বাংলা একাডেমি শিশুচত্বর আয়োজন আর শিশুপ্রহর ঘোষণার দিকে যত নজর দিচ্ছে এখানে স্থান পাওয়া প্রকাশকদের মান কেমন সেদিকে বেশি নজর দিচ্ছে না। এখানে স্থান দেওয়ার আগে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মান ভালোভাবে যাচাই করে নেয়া প্রয়োজন। শিশুচত্বরের চাইতে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো বরং ভালো মান বজায় রাখছে। এ প্রসঙ্গে মেলায় আসা যাত্রাবাড়ির বাসিন্দা ইমাম শেখ বললেন, ‘শিশুচত্বরের যেসব বই দেখি সেগুলোর ছবি দেখলে বাচ্চারা কিনতে চায়। কিন্তু বইগুলোর লেখার মান তো একেবারেই বাজে।’

মুহম্মদ জাফর ইকবাল যেসব তরুণ লেখক শিশুসাহিত্য রচনা করছেন তাদের উদ্দেশে বললেন, ‘শিশুসাহিত্য লিখতে গেলে সবার আগে নিজের শৈশবের কথাই চিন্তা করা উচিত্। আজকাল শিশু-কিশোরদের জন্য যারা বই লিখছেন, সেসব তরুণদের রচনা দেখে মনে হয় তারা নিজেদের খুব বেশি গুরুজন মনে করেন। বইয়ের পাতায় পাতায় তারা উপদেশ দেন। কিন্তু আসলে তো ব্যাপারটা তা নয়। শিশুদের জন্য লিখতে হবে সুন্দর, সহজ গল্প।’

কথাসাহিত্যিক আলী ইমাম বললেন, ‘ভুল বাক্য ও শব্দ চয়নে দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ শিশুসাহিত্য মান হারিয়েছে। আর মানহীন শিশুসাহিত্য বা রচনাগুলো শিশুদের বিভ্রান্ত করছে। রহস্য রোমাঞ্চ বা গল্প যাই লিখছি না কেন আমরা, একটা পরিকল্পিত প্যাটার্ন নেই বলে শিশুসাহিত্য এখনো সু-সাহিত্য হয়ে উঠতে পারছে না।’

ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া বললেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল রেখে গল্প লিখতে হবে। তা নাহলে, তা পন্ডশ্রম হবে। শিশু-কিশোরদের জন্য একটি সহজ-সরল ভাষারীতি প্রয়োগ করেন। সুন্দর গল্প থাকবে। আর প্রকাশকদের দায়িত্ব হচ্ছে নির্ভুল ছাপাতে হবে।’

লেখক আহ্সান হাবীব বললেন, ‘বাচ্চাদের পছন্দ সবসময় আলাদা। ভালো বইয়ের তালিকা কিন্তু মা-বাবাকেই নির্বাচন করতে হবে, পাঠাভ্যাসের সময় সেই পরিবেশটাও গড়ে তুলতে হবে।’

বিলবোর্ডে কালজয়ী বাণী : ‘এক একটি বাংলা অক্ষর, এক একটি বাঙালির জীবন’ — চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের অমর পংক্তিমালা। শিল্পীর এই বাণী উঠে এসেছে একুশের গ্রন্থমেলার ক্যানভাসে। মেলা প্রাঙ্গনে এমনি বিশজন বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক-শিল্পীর কালজয়ী বাণী লেখা সাড়ে তিনশ’ বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বাণীগুলো পড়ার জন্য লোকজন ভিড় করছে। এর মধ্যে ভাষা সৈনিক ও শিল্পী আবদুল লতিফের ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’, আবদুল গাফফার চৌধুরীর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’, কবি সুফিয়া কামালের ‘মূকের ফুটেছে ভাষা, ভীরু কণ্ঠে বেজে উঠে গান’, অতুল প্রসাদ সেনের ‘মোদের গরব মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা’, ভাষাসৈনিক গাজীউল হকের ‘স্মৃতির সৌধ ভাঙ্গিয়াছে, জেগেছে পাষাণের প্রাণ’ ছাড়াও আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রমুখের ভাষা আন্দোলনের ওপর লেখা বিলবোর্ডে স্থান পেয়েছে।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র জানিয়েছে, গতকাল রবিবার মেলার একাদশতম দিনে নতুন ১০২টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সালেক খোকনের ‘আদিবাসী বিয়ে কথা’ ও আলম তালুকদারের ‘যে ছড়া রবীন্দ্রনাথ লেখে নাই’ (কথাপ্রকাশ), কাজী আব্দুল ওদুদের ‘হিন্দু মুসলমানের বিরোধ’, শামসুজ্জামান খানের ‘ফোকলোর সংগ্রহমালা-১১৫’, রশীদ হায়দারের ‘স্মৃতি : ১৯৭১ প্রথম খন্ড’ (বাংলা একাডেমি), আহমদ রফিকের ‘নির্বাসিত নায়ক’ (অনিন্দ্য প্রকাশ), হাসান আজিজুল হকের ‘চালচ্চিত্রের খুঁটিনাটি’ (আলেয়া বুক ডিপো), ইমদাদুল হক মিলনের ‘আছো তুমি হূদয় জুড়ে’ (অনন্যা) ও কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদের ‘এনভায়রনমেন্ট; ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ওয়াটার রিসোর্স’ (পাঠক সমাবেশ)।

‘পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল রুশ বিপ্লব’: বইমেলার মূলমঞ্চে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় রুশ বিপ্লবের শতবার্ষিকী শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমতিয়ার শামীম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডা. সারওয়ার আলী ও সৈয়দ আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। প্রাবন্ধিক বলেন, একশ বছর আগে এই পৃথিবীর একটি দেশে এক বিপ্লব হয়েছিল, যার দিকে এখনও আমাদের ফিরে তাকাতে হয়, যা এখনও আমাদের উদ্দীপ্ত করে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, ১৯১৭ সালে মহান রুশ বিপ্লব শুধু রুশ দেশেই আবদ্ধ থাকেনি, সমগ্র পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল। ধ্বনিত করেছিল শোষণমুক্তির কথা, মানুষের অধিকার আদায়ের কথা, নারীমুক্তির কথা।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে ‘কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর’, ‘স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র’ ও ‘সারেগামাপা সঙ্গীত পরিষদ’।

পাঠকের মন্তব্য দেখুন
দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে এম ফিল পিএইচ ডি প্রোগ্রামে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha এম ফিল পিএইচ ডি প্রোগ্রামে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এসএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল ৩১ মে - dainik shiksha এসএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল ৩১ মে ১৪ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা - dainik shiksha ১৪ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা জারি কারিগরিতে ভর্তির নীতিমালা জারি - dainik shiksha কারিগরিতে ভর্তির নীতিমালা জারি প্রাথমিকের চতুর্থ ধাপের লিখিত পরীক্ষা ১ জুন - dainik shiksha প্রাথমিকের চতুর্থ ধাপের লিখিত পরীক্ষা ১ জুন জেডিসিতে ৯৫০ নম্বরে পরীক্ষা হবে - dainik shiksha জেডিসিতে ৯৫০ নম্বরে পরীক্ষা হবে একাদশে ভর্তির আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website