বউ পেটানো সেই আকতারুজ্জামানই শারীরিক শিক্ষার ডিডি! - কলেজ - Dainikshiksha

বউ পেটানো সেই আকতারুজ্জামানই শারীরিক শিক্ষার ডিডি!

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বউ পেটানো, প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে, কর্মস্থলে অনুপস্থিতসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান ভূঞার বিরুদ্ধে। সেই আকতারুজ্জামানকেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে বদলিভিত্তিক পদায়ন দেয়া হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ তিনটি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হয়ে জেলও খেটেছেন। বিভাগীয় কঠোর শাস্তি হওয়ার কথা থাকলেও আলোচিত বাড়ৈ সিন্ডিকেটের সহায়তায় তার নামমাত্র শাস্তি ‘বেতনস্কেল এক ধাপ নিচে’ নামানো হয়। সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতিও পেয়েছেন তিনি। 

সর্বশেষ গত ২৪ মার্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক পদ বাগিয়েছেন তিনি। নতুন পদায়নে বাড়ৈ সিন্ডিকেটে খুশির জোয়ার বইলেও শিক্ষা ক্যাডারের সৎ ও আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তারা যারপরনাই বিস্মিত হয়েছেন। আকতারুজ্জামান গংদের প্রকৃত তথ্য ও রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ছুটেছেন ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতা। আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং ধানমন্ডির অফিসেও পৌঁছানো হয়েছে আকতারুজ্জামানের প্রকৃত পরিচয় ও তথ্য। শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তক্কে তক্কে থাকা দৈনিক শিক্ষার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য। 

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে তৎকালীন শিক্ষাসচিব মো: নজরুল ইসলাম খানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আক্তারুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী। বিভাগীয় মামলার নির্দেশ দেন সচিব। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, তথ্য গোপন করেছেন আকতারুজ্জামান। নিজ হাতে লেখা পার্সোনাল ডাটা শিটে (পিডিএস) বরখাস্তের তথ্য উল্লেখ করেননি তিনি। ২০০৯ থেকে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত ছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এসিআরও নেই। ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ অক্টোবর তার বেতন স্কেল একধাপ নিচে নামিয়ে দেয়ার তথ্যও নেই। শিক্ষা অধিদপ্তরের এসিআর-ডোসিয়ারেও তথ্য নেই।   

আকতারুজ্জামানের পিডিএসে বদলি ও পদায়নের বিবরণে লেখা রয়েছে, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ ডিসেম্বর তিনি ভোলা সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। শেষ কবে তা উল্লেখ নেই। তার আগে ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই থেকে ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই পর্যন্ত রামগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রভাষক পদে ছিলেন। তারও আগে মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে একই বছরের ১৩ জুলাই পর্যন্ত প্রভাষক হিসেবে ছিলেন। সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ মে। একই দিনে ওই পদে যোগদান করেছেন লিখলেও কোথায় যোগদান করেছেন তা উল্লেখ করেননি।  

বিএনপি-জামায়ত শাসনামলে তিনি ঢাকায় ভালো পদে থাকলেও সেই তথ্য চেপে রেখেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও  বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো: সেলিম ভুইয়ার সাথে অবসর সুবিধা বোর্ডে  চাকরি করেছেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি সন্তান থাকলেও তাদের খোঁজ-খবর নেন না বলে প্রথম স্ত্রী মামলা করেছেন। সেলিম ভুইয়া সম্পাদিত পত্রিকায় ছদ্মনামে নিবন্ধ লিখেছেন তিনি। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান ভূঞা দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, এখন আমি একটি প্রশিক্ষণে আছি। এ বিষয়ে কথা বলতে পরে যোগাযোগ করুন। 

উল্লেখ্য, শারীরিক শিক্ষার উপপরিচালক পদটি অন্যতম লোভনীয় পদ। শিক্ষা বোর্ডগুলোর অঢেল টাকায় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের যাবতীয় কেনাকাটা আর লুটপাটের সু-ব্যবস্থা রয়েছে। 

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে কাল - dainik shiksha ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে কাল পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যা বললেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (ভিডিও) - dainik shiksha পরবর্তী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যা বললেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (ভিডিও) পাবলিক পরীক্ষায় আসছে বেশ কিছু পরিবর্তন - dainik shiksha পাবলিক পরীক্ষায় আসছে বেশ কিছু পরিবর্তন কামিল ও ফাজিলের ফল প্রকাশ - dainik shiksha কামিল ও ফাজিলের ফল প্রকাশ বুয়েট ভিসির কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তালা - dainik shiksha বুয়েট ভিসির কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তালা রাজধানীর সকল ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে: হাইকোর্ট - dainik shiksha রাজধানীর সকল ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে: হাইকোর্ট ডিগ্রি ২য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো - dainik shiksha ডিগ্রি ২য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো ফলমূলে রাসায়নিক পদার্থ মেশানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ - dainik shiksha ফলমূলে রাসায়নিক পদার্থ মেশানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টের নির্দেশ পাবলিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ করার উদ্যোগ - dainik shiksha পাবলিক পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০ করার উদ্যোগ সার্টিফিকেট ছাপার আগেই ২ কোটি টাকা তুলে নিলেন ছায়েফ উল্যাহ - dainik shiksha সার্টিফিকেট ছাপার আগেই ২ কোটি টাকা তুলে নিলেন ছায়েফ উল্যাহ ৫ বছরে পৌনে দুই লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে - dainik shiksha ৫ বছরে পৌনে দুই লাখ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে প্রাণসহ ৫ কোম্পানির নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি, সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা - dainik shiksha প্রাণসহ ৫ কোম্পানির নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি, সাত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website