ববিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যর কাছে শিক্ষার্থীদের ২৮ দফা দাবি - বিশ্ববিদ্যালয় - Dainikshiksha

ববিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্যর কাছে শিক্ষার্থীদের ২৮ দফা দাবি

বরিশাল প্রতিনিধি |

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানের কাছে ২৮ দফা দাবি উত্থাপন করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহষ্পতিবার (১৬ মে) দুপুর দুইটায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাছে লিখিতভাবে দাবিগুলো তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দেয়া দাবিগুলো হচ্ছে- স্নাতক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের আগেই স্নাতকোত্তরের ক্লাস শুরু করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তিরও  সুযোগ দিতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে মেশিন রিডেবল আইডি কার্ড, হেলথ কার্ড, লাইব্রেরি কার্ড প্রদান করতে হবে, বিদ্যমান ব্যাচগুলোর মধ্যেও ১৫ দিনের মধ্যে সবাইকে আইডি কার্ডসহ এই সুবিধা দিতে হবে, সেমিস্টার ফি কমাতে হবে, মাস্টার্সের ভর্তি ফি কমিয়ে ৫ হাজার টাকা করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করতে হবে, সর্বনিম্ন ফিতে মার্কসিট উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে, ল্যাব ফি ২৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করতে হবে এবং ল্যাব সুবিধা বাড়াতে হবে, পুনঃভর্তিতে পুরো টাকা/ভর্তি ফি নেয়া যাবে না। এর জন্য সেমিস্টার ফি’র আদলে পুনঃভর্তি নির্ধারণ করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়কে পর্যায়ক্রমে পূর্নাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বাড়িয়ে ৫০০ একর করতে হবে, শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করতে হবে এবং শিক্ষার্থী অনুপাতে শ্রেণিকক্ষ বণ্টন করতে হবে, দূরপাল্লার (ঝালকাঠী, বাকেরগঞ্জ, গৌরনদী) বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। রূপাতলী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর বাসের ব্যবস্থা করতে হবে, ক্যাম্পাস সবুজায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপনের কর্মসূচি রাখতে হবে এবং ছাত্রদের গাছ লাগানোর অনুমতি দিতে হবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতি ১৫ মি. অন্তর ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাবের জন্য কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে, ছেলেদের জন্য কমন রুমের ব্যবস্থা ও মেয়েদের কমনরুমের পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে, ছাত্রীদের নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে এবং মসজিদে ছাত্রীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে, কেন্দ্রীয় পানি পরিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে, সাপ্লি মেন্টারি ব্যবস্থা সব ব্যাচের জন্য চালু করতে হবে এবং সাপ্লি মেন্টারি ফি ৫০০০ থেকে কমিয়ে ১০০০ টাকা করতে হবে, সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শক্তিশালী ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করতে হবে, পাঠাগারের বিষয়ভিত্তিক বইয়ের সংখ্যা বাড়াতে হবে, পাঠকক্ষের আসন সংখ্যা বাড়াতে হবে এবং একক আসনের ব্যবস্থা করতে হবে, ই-লাইব্রেরির ব্যবস্থা করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের জেরক্স সুবিধা দিতে হবে, কম্পিউটার ল্যাবের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে , সেমিনার রুম ব্যবহারে কোনো ফি নেয়া যাবে না, মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফি ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা করতে হবে, মানোন্নয়ন পরীক্ষা পরবর্তী যে কোনো ব্যাচের সাথে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখতে হবে, স্নাতক সম্পূর্ণ করার সময়সীমা ৬ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭ বছর করতে হবে, সকল প্রকার জরিমানা বাতিল করতে হবে, সেমিস্টারের যে কোনো সময় বা ফরম ফিলাপ এর সময় সেমিস্টার ফি নিতে হবে, সেমিস্টার ফি’র জন্য জরিমানা ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। কোনো বিশেষ কারণে কেউ পরীক্ষা দিতে না পারলে (মিড ও ফাইনাল অনতিবিলম্বে তাদের পরীক্ষা নিতে হবে), আবাসন সংকট সমাধানে একাধিক ছাত্র-ছাত্রী হল স্থাপন করতে হবে। হলের বাৎসরিক ফি কমাতে হবে, ডাইনিং এ ভর্তুকি দিতে হবে। ডাইনিং এ খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে, পুরো ক্যাম্পাসের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দুই মাসের মধ্যে তৈরি করতে হবে, হলে টিউবওয়েল সমস্যা সমাধান করতে হবে, দীর্ঘ মেয়াদী ছুটিতে হল বন্ধ রাখা যাবে না, হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে এবং হাউস টিউটর নিয়োগ করতে হবে, যথাযথ পরিচয় দেয়া সাপেক্ষে ছাত্রী হলে নিকটাত্মীয়দের অবস্থান করতে দিতে হবে, মেয়েদের হল : নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে হলে প্রবেশের সময়সীমা রাত ১০টা করতে হবে, পাঠকক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ চেয়ার ও টেবিলের ব্যবস্থা করা, রমজানে ডাইনিং এ ইফতারের ব্যবস্থা করা, খাবারের মান বৃদ্ধি করা, হলের চারপাশ ও পানির ট্যাংকি নিয়মিত পরিষ্কার করা, নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা করা, আইডি কার্ড দেওয়া এবং হাউজ টিউটরের ব্যবস্থা করতে হবে, এক মাসের মধ্যে ছাত্রীদের জন্য একটি বেবি ডে-কেয়ার কক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে, স্বতন্ত্র অডিটরিয়াম ভবন স্থাপন, স্বতন্ত্র টিএসসি নির্মাণ করতে হবে, টিএসসিতে ক্লাস নেয়া যাবে না, জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুল স্থাপন করতে হবে, এক মাসের মধ্যে ক্যাম্পাসের সড়কগুলো সংষ্কার ও পুনঃনির্মাণ করতে হবে। স্বতন্ত্র শহিদ মিনার স্থাপন করতে হবে (অথবা বর্তমান শহিদ মিনারের আয়তন বাড়াতে হবে), খেলার মাঠ সংষ্কার করতে হবে। উপাসনালয়ের কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে, ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে হবে, ফাইনাল পরীক্ষার পূর্বে সর্বনিম্ন ১৫ দিন প্রস্তুতি ছুটি প্রদান করতে হবে এবং সেমিস্টার ও ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে, ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের মান বৃদ্ধি করতে হবে এবং দাম কমাতে হবে। সপ্তাহের প্রতিদিন ক্যাফেটেরিয়া খোলা রাখতে হবে, রমজানের সময় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া চালু রাখতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে কোনো কাজে গিয়ে আহত হলে তার চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর আর্থিক সমস্যা থাকলে তাকে ছাত্রকল্যাণ তহবিল থেকে বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দুস্থ ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সাহায্য করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কে, সেমিস্টার ও ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহ প্রদানকল্পে বৃত্তি ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দিতে হবে, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ভর্তি পরীক্ষা চালু করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগ খুলতে হবে, সার্বক্ষণিক মেডিকেল সেন্টার খোলা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে, মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করতে হবে, শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক একজন কাউন্সিলিং সাইকোলোজিস্ট নিয়োগ করতে হবে, ফিটনেসবিহীন বাস বাদ দিয়ে পর্যাপ্ত নতুন বাস কিনতে হবে, বাস স্টপেজ বাড়াতে হবে, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জটিলতা কমাতে শুধু প্রক্টর বরাবর অবহিতপত্র প্রদানপূর্বক আয়োজন করতে দিতে হবে, দুপুরে ৩০ মিনিট বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে, আগামী বছর থেকে রমজানে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখতে হবে। 

এছাড়াও  শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আন্দোলনের মুখে ভিসি ইমামুল হক স্যারকে মন্ত্রণালয় গত ১১ এপ্রিল থেকে ২৬মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠালেও তিনি ২৭ মে এক দিন তার মেয়াদ থাকায় সেদিন সিন্ডিকেট মিটিং করে আন্দোলনের সাথে জড়িতদের শাস্তি দেয়ার পায়তারা করছেন। ছুটিতে থাকাকালীনও গত ১৮ এপ্রিল ভিসি স্যারের স্বাক্ষরে কিছু  সুবিধাবাদী লোকদেরকে পদোন্নতি প্রদান করেন তিনি। তাই আগামী ২৭ মে ভিসি স্যার যাতে কোনোভাবে সিন্ডিকেট করে আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে  হস্তক্ষেপ করতে না পারেন সে জন্য শিক্ষার্থীরা কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

এ সময় কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপাচার্যের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন দাবি করে তাদেরও একটি তালিকা লিখিত আকারে উপাচার্যের কাছে দেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ড. হাসিনুর রহমান, হাফিজ আশরাফুল, মোহসিনা হোসাইন, শরীফা উম্মে শিরিনা, রাহাত হোসাইন ফয়সাল, মুরশীদ আবেদীন, সুব্রত বাহাদুর, ফয়সাল আহম্মেদ রুমি (পিআরও), হুমায়ুন কবীর, লিয়াজো অফিসের সেকশন অফিসার মিজানুর রহমান, দিদার হোসেন, মনোয়ার হোসেন। এর বাইরে আরও অনেকে রয়েছে বলে দাবি করে শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের ২৮টি যৌক্তিক দাবির মধ্যে তাৎক্ষণিক কিছু দাবি পূরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর কিছু দাবি রয়েছে যেগুলো ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

মেয়েদের কর্মসংস্থানে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha মেয়েদের কর্মসংস্থানে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ৮৪১ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে ২৫ কোটি টাকার চাহিদা - dainik shiksha ৮৪১ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে ২৫ কোটি টাকার চাহিদা সরকারি চাকরি মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে - dainik shiksha সরকারি চাকরি মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মে মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মে মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website