বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিক ইতিহাস - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিক ইতিহাস

মো. এনামুল হক |

ব্রিটিশ শাসনামল

প্রাচীনকালে ও মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে আদিবাসী শিক্ষাব্যবস্থা আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক মতবাদে প্রভাবিত ছিল। এই শিক্ষাব্যবস্থাটি সাধারণ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। বর্তমানে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত শিক্ষাব্যবস্থাটির গোড়াপত্তন ও বাস্তবায়ন করেন একজন ব্রিটিশ।

উইলিয়াম অ্যাডাম তাঁর প্রতিবেদনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গুলোর প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছিলেন।

  • জেলাভিত্তিক শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ।
  • নিজ মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তকের প্রচলন।
  • শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিজেলায় ইন্সপেক্টর নিয়োগ।
  • শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ।
  • জমি দাতাকে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োগ দিতে উৎসাহিত করা।
  • প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তির প্রচলন।

১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে উডের ডেসপ্যাচ তত্ত্ব ছিল ব্রিটিশ শাসক কর্তৃক বাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকীকরণ। তিনি ১৮৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দের দিকে তার তত্ত্বের সুপারিশ অনুযায়ী পাবলিক ইন্সট্রাকশন বিভাগ নামে নতুন বিভাগ চালু করা হয়। উক্ত বিভাগে ইন্সপেক্টর মর্যাদার একটি পদ সৃষ্টি করা হয়।

লর্ড কার্জন প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ১৯১০ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য আইন পরিষদে একটি বিল উৎথাপন করেন। তবে বিলটি খারিজ হয়ে যায় এর পরিবর্তে পৌর এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার একটি বিল পাস হয়। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গল (পল্লী এলাকা) প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিক্ষা উন্নয়নের জন্য সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্ট (১৯৪৪) প্রকাশিত হয়। এটাই প্রথম রিপোর্ট যাতে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন বন্ধ হয়ে যায়।

পাকিস্তান আমল (১৯৪৭-১৯৭১)

ভারত বিভক্তির পর সার্বজনীন বাধ্যতামূলক এবং বিনা মূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য একটি রেজুলেশন জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে (১৯৪৭) উপস্থাপন করা হয়। ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সরকার জেলা স্কুল বোর্ড ভেঙ্গে দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক, নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের উপর ন্যস্ত করেন। সাবেক জেলা স্কুল ইন্সপেক্টররা জেলা প্রশাসকের অধীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে বেঙ্গেল পল্লী এলাকা প্রাথমিক শিক্ষা আইন সংশোধন করা হয়।  প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য সরকার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ৫ হাজারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্বাচন করে। বাকি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।

১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দ পযর্ন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ৪ বছর মেয়াদী কোর্স ছিল। ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৫ বছর মেয়াদী কোর্স করা হয়। পরর্বতী সময়ে বাধ্যতামূলক ও অবাধ্যতামূলক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অতঃপর ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ৫ হাজারটি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালনাকারী বিদ্যালয়ের নাম পরির্বতন করে ‘মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়। বাকিগুলো অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হয়। মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান করতে পারতেন।

প্রথম পঞ্চবাষির্ক পরিকল্পনায় সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগকে গুরুত্ব দেয়া হয়। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। উক্ত কমিশন পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর মেয়াদী কোর্সে উন্নীত করার সুপারিশ করেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক, অভিভাবকদের মাঝে মডেল ও অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। ফলে মডেল এবং অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ ফ্রি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়। ঐ প্রকল্পের আওতায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি প্রশাসনের আওতায় অধীনস্ত করা হয় এবং শিক্ষকদের তাদের নিজ নিজ যোগ্যতা অনুসারে বেতন-ভাতাদি প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ আমল

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবল নেতৃত্বে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ জয়লাভ করে। স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রাষ্ট্রের বিধানগুলো হলো:

  • একটি অভিন্ন জনসম্পৃক্ত ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং সকল ছেলে-মেয়ের জন্য বিনা মূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার যা আইন দ্বারা নির্ণয় করা যেতে পারে।
  • শিক্ষাকে সমাজে চাহিদা সাথে পূরণে সক্ষম প্রশিক্ষিত ও প্রনোদিত নাগরিক তৈরি করা।
  • একটি নিদির্ষ্ট সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা আইন দ্বারা নির্ধারণ করা যেতে পারে। সরকার জাতীয় দায়িত্ব হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বীকার করে এবং শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। যা বাংলাদেশে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। স্বাধীনতার সূর্য উদয়ের পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে পুনর্জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তারই আলোকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৬ হাজার ১৬৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭২৪ জন শিক্ষককে সরকারি করে প্রাথমিক শিক্ষায় গতির সঞ্চার করেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বাধীন জাতি হিসাবে বাংলাদেশ আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

বাংলাদেশের শিক্ষা কমিশন:

১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিম্নলিখিত উদ্দেশ্যাবলী নির্ধারণ করা হয়:

(১) শিশুদের নৈতিক মানসিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব বিকাশের উন্নয়নে শিক্ষাদান।
(২) শিশুকে দেশ প্রেম, দায়িত্বশীল, অনুসন্ধিৎসু ও আইন পরায়ন নাগরিক হিসেবে তৈরি করা এবং তাদের সততা, সঠিক আচরণ, শ্রম, মর্যাদা, ন্যায় বিচারের প্রতি দয়ালু এমনভাবে বিকাশ সাধন।
(৩) মাতৃভাষায় লিখতে ও পড়তে পারবে এবং গণনা ও হিসাব করতে সক্ষম হবে।
(৪) ভবিষ্যৎ নাগরিকের চাহিদা পূরণে মৌলিক জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।
(৫) পরবর্তী পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তত করা। এছাড়াও নতুন একটি জাতির আশা থাকা লক্ষ্য পূরণে শিক্ষা অত্যাবশ্যকীয়। এই লক্ষ্যে শিক্ষা কমিশন পূর্বেই প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে সরকারকে নিম্ন লিখিত সুপারিশ করেন:

  • অষ্টম শ্রেণি পযর্ন্ত সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা চালু।
  • অধিক ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে অধিক মহিলা শিক্ষক নিয়োগ করা। প্রয়োজনে বালিকা বিদ্যালয় নির্মাণ করা।
  • ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বস্তাবায়ন এবং ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীতকরণ।
  • ঝরেপরা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। আর্কষণীয় পাঠক্রম চালু, যথোপযুক্ত পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন এবং বিদ্যালয় পরিবেশ উন্নয়ন।
  • অভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থা চালু, যা বৈজ্ঞানিক, বাস্তবভিত্তিক সামাজিক অবদানের সাথে মানানসই এবং পরিবেশের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু।
  • শিক্ষক প্রশিক্ষণ পদ্ধতির সম্প্রসারণ এবং যথোপযুক্ত পাঠ্যপুস্তক উন্নয়ন।
  • প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড স্থাপন।

অত:পর সরকারি পৃষ্ঠ পোষকতা ও দিক নির্দেশনার মধ্য দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গতিশীল হয়।

প্রাথমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা:

একটি দেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:

  • জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার আদর্শের ধারাবাহিকতায় ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ৯ জানিুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ এবং ১ লাখ ৩ হাজার ৮৪৫ জন শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণ করেন।
  • প্রাথমিক শিক্ষাখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে বাজেটে বরাদ্দ বেশি রাখা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি ৪ এর মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছেন।
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা।
  • বিদ্যালয়ে গমনোপযোগী শিশু ভর্তির হার প্রায় শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
  • বছরের ১ম দিনেই বিনা মূল্যে শতভাগ নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে।
  • ঝরেপড়া রোধ উপবৃতি প্রদান এবং স্কুল ফিডিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
  • শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার জন্য ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে কারিকুলাম রিভিশন করা হয়েছে।
  • ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ থেকে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। এই কার্যক্রমটি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী সাফল্য। অধিকাংশ অভিভাবক এই কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছে।
  • ‘ভিশন-২০২১’ অর্জনের লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরসমূহে ইন্টারনেট সংযোগসহ কম্পিউটার বিতরণ করা হয়েছে।
  • পিটিআইসমূহে আইসিটি ল্যাব স্থাপন করে শিক্ষকদের আইসিটি ইন এডুকেশন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যাতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা লাভ করতে পারে।
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে পাঠদান নিশ্চিত করা হয়েছে।
  • ই-মনিটরিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে।
  • পিটিআইসমূহে ভিডিও কনফারেন্স করার জন্য ডিভাইস স্থাপন করা হয়েছে।
  • মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পিটিআইসমূহে ১৮ মাসব্যাপী ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন(ডিপিএড) কোর্স চালু করা হয়েছে।
  • উপজেলা রিসোর্স সেন্টারসমূহে শিক্ষকদের জন্য বিষয়ভিত্তিকসহ দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • শিক্ষকদের প্রয়োজন মাফিক নিড বেসড সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষায় বিভিন্ন অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উপজেলা, জেলা বিভাগ এবং জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করা হচ্ছে।
  • শিশুদের শারীরিক মানসিক বিকাশের জন্য প্রতি বছর আন্তঃপ্রাথমিক ক্রীড়াও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা গোল্ড কাপ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
  • শিশুদের মধ্যে যাতে নেতৃত্বের মনোভাব জাগ্রত হয় এবং গণতান্ত্রিক মনোভাব গড়ে উঠে সে জন্য ২০১০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে স্টুডেন্টস কাউন্সিল চালু এবং সেবামূলক মনোভাব গড়ে তোলার জন্য ক্ষুদে ডাক্তার টিম গঠন করে জাতীয় টিকা দিবস, কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো হচ্ছে। শিশুদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
  • ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ হতে স্লিপ কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোকে শিশু-বান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
  • সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আনন্দ স্কুল এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে।
  • প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও সহযোগী উপকরণ প্রদান করে একই ধারায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য মেরামত ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।
  • জাতীয় শিক্ষানীতি -২০১০ এর আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা স্তর ৮ম শ্রেণি পযর্ন্ত উন্নীত করা হয়েছে।
  • জেলা পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের বিদেশে ভ্রমণ এবং দক্ষতা সম্পন্ন শিক্ষকদের বিদেশে মার্স্টাস ডিগ্রি অর্জন করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
  • শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণ এবং পদ বৃদ্ধি জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে প্রতিবছর নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করে শিশুদের শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
  • শিশুদেরকে বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহী করার জন্য শাস্তিমুক্ত পাঠদান  ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

মোট কথা শিশুদের আগামী দিনের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই সরকারের পাশাপাশি শিক্ষা সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরা হতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ:

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন সফল হতে চলেছে। এমতাবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন অত্যন্ত আবশ্যকীয়। কেননা প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগতমান অর্জন হলে সর্বক্ষেত্রে এর সফল প্রভাব পড়বে। অন্যথায় দেশের অগ্রগতি বাধার সম্মুখীন হতে পারে। এমতাবস্থায় নিম্নবর্নিত চাহিদাসমূহ পূরণ করণ জরুরি:

  • প্রতিটি বিদ্যালয়কে এক শিফটের রূপান্তরকরণ।
  • শিক্ষক ঘাটতি পূরণ।
  • প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ র্নিমাণ।
  • শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন স্কেল প্রদান করা।
  • বিদ্যালয় পরিদর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি করে বেশি বেশি পরিদর্শনকরণ।
  • যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষকদের বিভাগীয় পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতির ব্যবস্থাকরণ।
  • দক্ষ এবং পরিশ্রমী শিক্ষকদের প্রণোদনা প্রদান।
  • প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন আয়া, একজন হিসাব সহকারী নিয়োগ প্রদান।
  • ধর্ম, চারুকারু ও সঙ্গীত বিষয়ক শিক্ষকের নিয়োগ।
  • প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রদান করে পাঠদান চালুকরণ।
  • বস্তি শিশু, ভাসমান শিশু, যৌনকর্মীর শিশু, নিম্নজাতের শিশু, বেদে শিশু এবং বিভিন্ন কলকারখানায় নিয়োজিত শিশুদের শিক্ষার আওতায় এনে শিক্ষাদান।
  • প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আবাসিক প্রতিবন্ধী স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
  • অভিভাবকগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করে বর্ণিত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবয়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। ফলে আজকের শিশুরাই, ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

এভাবেই গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ।

লেখক: মো. এনামুল হক, প্রধান শিক্ষক, ময়দানদিঘী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড়।

[মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন।]

শিক্ষক নিয়োগ কমিশন আইনের খসড়া প্রস্তুত - dainik shiksha শিক্ষক নিয়োগ কমিশন আইনের খসড়া প্রস্তুত আটকে যাচ্ছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (ভিডিও) - dainik shiksha আটকে যাচ্ছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া (ভিডিও) এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের তিন প্রস্তাব - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানদের তিন প্রস্তাব মাদরাসার স্বীকৃতি ও বিভাগ খোলার প্রস্তাব মূল্যায়নে মন্ত্রণালয়ের কমিটি - dainik shiksha মাদরাসার স্বীকৃতি ও বিভাগ খোলার প্রস্তাব মূল্যায়নে মন্ত্রণালয়ের কমিটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত - dainik shiksha ঋণের কিস্তি পরিশোধ স্থগিত ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জালসনদেই ৭ বছর এমপিওভোগ! - dainik shiksha জালসনদেই ৭ বছর এমপিওভোগ! কবে কোন দিবস, কীভাবে পালন, নতুন নির্দেশনা জারি - dainik shiksha কবে কোন দিবস, কীভাবে পালন, নতুন নির্দেশনা জারি শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর - dainik shiksha শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর please click here to view dainikshiksha website