বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মান আমাদের করণীয় - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মান আমাদের করণীয়

ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী |

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নাই যে, স্বাধীনতার পর থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মানের ক্রমশ অবনতি হয়েছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষা লাভের প্রধান মাধ্যম হলো কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর সাধারণত একজন শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে চার বছরের অনার্স ও এক বছরের মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কলেজগুলোতেও চার বছরের অনার্স কোর্স এবং এক বছরের মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে।

বর্তমানে দেশে প্রায় ২০০০ কলেজ, ৪০টি সরকারি (পাবলিক) বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৯৫টি বেসরকারি (প্রাইভেট) বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূলত আন্ডার গ্রাজুয়েট এবং মাস্টার্স কোর্স পড়ানো হয়। তবে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রিও প্রদান করা হয়। আমাদের উচ্চশিক্ষার মান ও ভূমিকা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও প্রশ্ন মূলত এইসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।

আধুনিক বিশ্বে উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। উচ্চশিক্ষার প্রসারের সাথে সাথে জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্ঞানের জগতে বহু নতুন জ্ঞানের সংযোজন হয়েছে; সমৃদ্ধ হয়েছে বিশ্ব-জ্ঞানভা্লার। উন্নত দেশে বিশেষ করে পশ্চিমা দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসারের কারণে জ্ঞানের বিস্ফোরণ ঘটেছে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশেও এর ঢেউ লেগেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার উত্কর্ষ, উঁচু মান এবং অধুনা সৃষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞান থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন থাকতে পারি না। এ যুগ বিশ্বায়নের যুগ। সমগ্র বিশ্বকে একটি বৃহত্ পল্লীর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অতএব, এ বৃহত্ পল্লীর এক অঞ্চলের উন্নয়নের প্রভাব অন্য অঞ্চলে পড়তে বাধ্য। তাছাড়া জ্ঞানের জগতে কোনো সীমারেখা নেই। জ্ঞান প্রবাহমান, এক থেকে বহুর মধ্যে সঞ্চারিত হয়, যদি না কেউ জ্ঞানবিমুখ হয়।

আমাদের দেশে সীমিত আকারে উচ্চশিক্ষার প্রচলন বহুকাল আগেই শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে অবিভক্ত ভারতে ইংরেজি শিক্ষার প্রবর্তন হয়; তারপর থেকেই ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে পৃথিবীর এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রসার ঘটতে থাকে। তদানীন্তন পূর্ব বাংলায় হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি কলেজ ছিল, যেখানে উচ্চশিক্ষা প্রদান করা হতো। এই সীমিত সুযোগ গ্রহণ করেছিল এ অঞ্চলের এক উঠতি মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি মুসলমানরা ছিল পশ্চাত্পদ ও অনগ্রসর। এর কারণ ছিল ঐতিহাসিকভাবে ইংরেজি শিক্ষার প্রতি তাদের অনীহা এবং উচ্চশিক্ষার অত্যন্ত সীমিত সুযোগ। তাই উচ্চশিক্ষার প্রসারকল্পে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। স্যার নওয়াব সলিমুল্লাহ, নওয়াব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, এ.কে.ফজলুল হক প্রমুখ নেতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। এ পটভূমিতে ১৯২১ সালে ঢাকা শহরের রমনার মনোরম পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় এবং সেই বছরের জুলাই মাস থেকে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

ফলে এ দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। ১৯৭০ সাল নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকরণে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠিত হয় একমাত্র কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় Bangladesh University of Engineering and Technology (BUET) এবং এই সময়ের মধ্যে প্রায় প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি কলেজ ও বেশ কিছু বেসরকারি কলেজও প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজগুলো ছিল মূলত ঢাকা, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত। গত শতাব্দীর ‘৩০ থেকে ‘৬০-এর দশকের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক জ্ঞানী-গুণীর সমাগম ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় তার মানসম্মত শিক্ষার ও গবেষণাকর্মের জন্য সুখ্যাতি অর্জন করে। বহু গুণী শিক্ষক এই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কর্মের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এইচ টার্নার, জিএইচ ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, রমেশচন্দ্র মজুমদার প্রমুখ। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন প্রখ্যাত গবেষক ও বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বোস। বোস আইনস্টাইন তত্ত্বের জন্য তিনি সারা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হন এবং এর সাথে ছড়িয়ে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনেক জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। বলাবাহুল্য, এ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মাধ্যম ছিল ইংরেজি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের গ্রন্থাগারগুলো ছিল ইংরেজি বইতে সমৃদ্ধ।

জ্ঞানচর্চার এক উন্নত পরিবেশ বিরাজ করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে। সে সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানের সাথে পৃথিবীর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করা যেত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চমানের শিক্ষার প্রভাব প্রতিফলিত হয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্ব পর্যন্ত এদেশে শিক্ষার মান ছিল সন্তোষজনক। কিন্তু স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে শিক্ষার মান আমরা ধরে রাখতে পারিনি। স্বাধীনতার পর ইংরেজিসহ বাংলা ভাষাকেও উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এ কথা সত্য যে, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা প্রদান করা ছিল তখনকার সময়ের দাবি। তাই এ ধরনের জাতীয় সিদ্ধান্ত তখন গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু এর একটি নেতিবাচক প্রভাবও জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের ক্ষেত্রে লক্ষ করা গিয়েছিল। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক সকল স্তরে শিক্ষার মানের অবনতি হয়েছে যার প্রতিফলন আমরা দেখতে পাই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানের অবনতির ফলে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছে অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শিক্ষার জ্ঞানের অভাব শিক্ষার মানকে নিম্নমুখী করেছে। বাংলা ভাষায় রচিত হয়নি পাঠ্য ও সহায়ক গ্রন্থ; বাংলা ভাষাকেও সমধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এতে অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে। স্বাধীনতার পর যেসব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার প্রত্যাশায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে এসেছে তাদের ইংরেজি ভাষার জ্ঞান খুবই সীমিত। কিন্তু উচ্চশিক্ষার প্রায় সকল গ্রন্থ (পাঠ্য ও সহায়কগ্রন্থ), জার্নাল, দলিল-দস্তাবেজ ইংরেজিতে লেখা। অথচ শিক্ষার্থীরা (ছাত্র-ছাত্রীরা) ইংরেজি ভাষা জ্ঞানের অভাবে এই সকল বই পড়ে আত্মস্থ করতে পারে না। জ্ঞান আহরণ প্রক্রিয়ায় এভাবে বাধা পড়ে। এর ফলে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান সঞ্চারণের সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

এই বাধা অতিক্রম করা যেত যদি বাংলা ভাষায় প্রচুর সংখ্যক পাঠ্য ও সহায়ক গ্রন্থ রচিত হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা এ কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছি। অর্থাত্ বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ গ্রন্থ আমরা বাংলায় রচনা করতে পারিনি এবং বাংলা ভাষায় অনুবাদও করতে পারিনি। ফলে জ্ঞান আদান-প্রদানের যথেষ্ট সুযোগ আজও সৃষ্টি হয়নি। এছাড়াও শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, অস্থিরতা ও রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করেছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নিম্নমানের শিক্ষক নিয়োগ সৃষ্টি করেছে নতুন সংকট। তাছাড়া উচ্চশিক্ষার অপরিকল্পিত প্রসারও সৃষ্টি করেছে নতুন সমস্যার।

নব্বই-এর দশক থেকে উচ্চশিক্ষার প্রসারকল্পে দেশব্যাপী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অনেক কারিগরি ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একমাত্র মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়)। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বহু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এর নিশ্চয়ই একটি ইতিবাচক দিক আছে। দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটানোর জন্য কারিগরি, কৃষি এবং মেডিক্যাল শিক্ষার প্রসার অতীব জরুরি। কিন্তু কৃষি ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। উন্নতমানের কারিগর ও কৃষিবিদ তৈরি করতে হলে যে উন্নতমানের গবেষণাগার; উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ও কলা-কৌশল দরকার তা বলাই বাহুল্য। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সম্পর্কে আমি তেমন একটা অবহিত নই। তবে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলোর অবস্থা মোটেই ভালো নয়।

দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই ঢাকাতে অবস্থিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষার্থীদের এক বিরাট অংশ দেশের মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ লাভ করেছে। এটি সার্বিক বিবেচনায় দেশের জন্য মঙ্গলকর। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষার মান নিয়েও আলোচনা-সমালোচনার অন্ত নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন আছে কিন্তু তার প্রয়োগ আমরা কতটুকু করতে পেরেছি? আমি সারাজীবন বলে এসেছি ভালো শিক্ষক ছাড়া ভালো লেখাপড়া হয় না। উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে অন্যতম প্রধান শর্ত হলো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, যোগ্যতাসম্পন্ন, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক নিয়োগ এবং উন্নত লাইব্রেরি। সর্বোপরি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সে সকল শর্ত আদৌ পূরণ করতে পেরেছে? আড়াই দশক আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনের একজন প্রবক্তা হিসেবে আমি যে স্বপ্ন দেখেছিলাম আমার সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তাছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (এমনকি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েও) দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধস্তন শ্রেণির শিক্ষালাভের সুযোগ কি অত্যন্ত সীমিত নয়? গাঁয়ের ঐ যে রাখাল বালক, তারও মেধা কম ছিল না।

কিন্তু আমরা এমন এক সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে বাস করি যেখানে সে তরুণ স্কুল-কলেজের দ্বার পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেনি। আমাদের মতো শ্রেণি-বিভক্ত সমাজে গরিব মেধাবী তরুণদের শিক্ষালাভের সুযোগ প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার দাবি রাখে। সর্বোপরি আমাদের উচ্চশিক্ষা যদি শিক্ষার্থীকে দেশের মাটি ও মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে, আর তার অর্জিত জ্ঞান দেশের জনমানুষের তথা বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে ব্যবহূত না হয়, তাহলে সে শিক্ষা আমার কাছে অর্থহীন বলে মনে হয়। এসব কারণেই বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। তবে এতে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি মনে করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সকল সমস্যা অতিক্রম করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে খুবই সংক্ষেপে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরছি:

প্রথমত, উচ্চশিক্ষার মান বৃদ্ধিকল্পে আমাদেরকে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি পাঠ্যবই ও সহায়ক গ্রন্থের অনুবাদ এবং বাংলা ভাষায় বই রচনায় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে, ছাত্র-রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্রদের রাজনীতি করার অধিকার আছে, কিন্তু শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসী রাজনীতির প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে হবে। তৃতীয়ত, সেশনজট দূর করতে হবে। চতুর্থত, ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ক্ষেত্রে মেধাই হবে একমাত্র মাপকাঠি। পঞ্চমত, শিক্ষক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একমাত্র মাপকাঠি হতে হবে যোগ্যতা। শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে তাদের একাডেমিক অর্জন, গবেষণা কর্ম, নিরলস চর্চা ও একাগ্রতার মূল্যায়ন করতে হবে। ষষ্ঠত, আধুনিক শিক্ষা উপকরণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে হবে। অর্থাত্ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গ্রন্থাগার ও ল্যাবরেটরিগুলোকে যুগোপযোগী, আধুনিক ও সমৃদ্ধ করতে হবে। সপ্তমত, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পাঠ্যসূচি (শিক্ষাক্রম) হবে আধুনিক, আন্তর্জাতিক ও সমকালীন। পাঠ্যসূচি হতে হবে এমন যেন তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করতে পারে, মাটি ও মানুষের প্রতি মমত্ববোধ সৃষ্টি করতে পারে এবং শিক্ষার্থীকে সত্ ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারে।

লেখক :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানী

 

সৌজন্যে: ইত্তেফাক

স্বামী-স্ত্রী-শ্যালিকা-কন্যা চালিত শিক্ষার্থীবিহীন এমপিওভুক্ত একটি বিদ্যালয়ের গল্প - dainik shiksha স্বামী-স্ত্রী-শ্যালিকা-কন্যা চালিত শিক্ষার্থীবিহীন এমপিওভুক্ত একটি বিদ্যালয়ের গল্প ২৬ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা - dainik shiksha ২৬ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা গ্রেফতারের পরও বহিষ্কার দাবিতে কেন বুয়েটে আন্দোলন, প্রশ্ন শিক্ষা উপমন্ত্রীর - dainik shiksha গ্রেফতারের পরও বহিষ্কার দাবিতে কেন বুয়েটে আন্দোলন, প্রশ্ন শিক্ষা উপমন্ত্রীর সরকারি হচ্ছে আরও দুই কলেজ - dainik shiksha সরকারি হচ্ছে আরও দুই কলেজ কোন বোর্ডে কত শিক্ষার্থী পাবে এসএসসির বৃত্তি - dainik shiksha কোন বোর্ডে কত শিক্ষার্থী পাবে এসএসসির বৃত্তি ছাত্রীকে থাপ্পড় মারায় সহপাঠীর কারাদণ্ড - dainik shiksha ছাত্রীকে থাপ্পড় মারায় সহপাঠীর কারাদণ্ড স্কুলে মাকে অপমান করায় ক্ষোভে অজ্ঞান ছাত্রের মৃত্যু - dainik shiksha স্কুলে মাকে অপমান করায় ক্ষোভে অজ্ঞান ছাত্রের মৃত্যু সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha সরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ এমপিও কমিটির সভা ২৪ নভেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website