বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন নৈশপ্রহরী - স্কুল - দৈনিকশিক্ষা

বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন নৈশপ্রহরী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি |

সিরাজগঞ্জ সদরের বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে। আর এমন চিত্র সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলের বেশির ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। কর্মরত শিক্ষকরা অনিয়মিতভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।

নিজেদের ইচ্ছামতো স্কুলে যাতায়াত এবং ক্লাস পরিচালনার কারণে ক্রমেই শিক্ষার মান নিম্নমুখী হলেও কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজরদারি নেই। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার দাবি, এমন গুরুতর অভিযোগ আগে পাওয়া যায়নি। এখন অবগত হলাম, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সপ্তাহে মাত্র দু-একদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলেও ক্লাস না নিয়ে চলে আসেন শহরে। আর শহরে এসে ব্যস্ত হয়ে পড়েন উপজেলা শিক্ষা অফিসে তদবির বাণিজ্য নিয়ে।

তাঁর অনুপস্থিতির কারণে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এমনটি হলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের মতে, বিদ্যালয়ে মাত্র তিনজন শিক্ষক। একজন প্রাইমারি ট্রেনিংয়ে আছেন। অন্য দুজনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান তালুকদার প্রায় দিনই উপজেলা শিক্ষা অফিসে নানা ধরনের কাজের কথা বলে অনুপস্থিত থাকেন।

ফলে মাত্র একজন সহকারী শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে স্কুল। ওই শিক্ষককে সহযোগিতার জন্য বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পাস নৈশপ্রহরী ২২ মাস ধরে তাদের ক্লাস নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত বেদনার ও হতাশাব্যঞ্জক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান তালুকদার মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে যান এবং খাতায় স্বাক্ষর করে শহরে চলে আসেন। সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হলে তিনি চরাঞ্চলের পরিবেশ দেখে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে উেকাচ দিয়ে তাঁর পোস্টিং অন্যত্র স্থানান্তর করান।

মাত্র একজন নারী সহকারী শিক্ষক নিয়মিত উপস্থিত থেকে বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। যার ফলে পড়ালেখার মানও ক্রমে নিম্নমুখী হচ্ছে। তিনি জানান, তাঁর একার পক্ষে একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

শিক্ষার্থীরা বলে, ‘প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এলেও কোনো ক্লাস না হওয়ায় খেলাধুলা করে আমরা বাড়ি চলে যায়। আমাদের শিক্ষক কম থাকা এবং প্রধান শিক্ষক স্কুলে না আসার কারণে আমাদের পড়াশোনা তেমন একটা হয় না।’ এদিকে স্কুলের সহকারী শিক্ষক বেগম শামসুন্নাহার বলেন, ‘বিদ্যালয়ে শিক্ষক না থাকায় আমাকেই প্রতিদিন সব ক্লাস নিতে হচ্ছে। পড়াশোনার মান ভালো করার জন্য আরো শিক্ষক প্রয়োজন। একার পক্ষে এটা সম্ভব নয়।’

এমন অবস্থায় স্কুলের নৈশপ্রহরী ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। নৈশপ্রহরী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষক কম থাকায় দীর্ঘদিন ধরে আমি চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছি। বাংলা, সমাজ এসব বিষয় আমি পড়িয়ে থাকি।’

এদিকে বিদ্যালয়ে সাংবাদিক এসেছেন সংবাদ পেয়ে, শিক্ষক আতিকুর রহমান তালুকদার দুপুর ১টার দিকে ফোন করে জানান, আমি বিদ্যালয়ে এসেছি। তবে তিনি কী কারণে প্রতিদিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন, এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান তালুকদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘এমন অভিযোগ আজকেই জানতে পারলাম। আমার জানা মতে তিনি নিয়মিতই স্কুলে যান।’ তাঁর মতে, একটি বিদ্যালয়ে ন্যূনতম পাঁচজন শিক্ষক থাকার কথা।

কিন্তু ওই বিদ্যালয়ে দুটি পদ শূন্য আছে। একজন পিটিআই ট্রেনিং করছেন এবং দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক থাকার কারণে নৈশপ্রহরী ক্লাস নিচ্ছেন—প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জানা নেই। অভিযোগ সঠিক হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কারিগরি শিক্ষায় আরো অর্থ বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha কারিগরি শিক্ষায় আরো অর্থ বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবছরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha প্রতিবছরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: ভিপি নুর - dainik shiksha সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: ভিপি নুর বিসিএসে সুযোগ ৩২ বছর পর্যন্ত কেন নয় : হাইকোর্ট - dainik shiksha বিসিএসে সুযোগ ৩২ বছর পর্যন্ত কেন নয় : হাইকোর্ট শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ভবিষ্যতে : প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ভবিষ্যতে : প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা আইনের খসড়া : শিক্ষকদের কোচিং-টিউশন বন্ধ হলেও চলবে বাণিজ্যিক কোচিং - dainik shiksha শিক্ষা আইনের খসড়া : শিক্ষকদের কোচিং-টিউশন বন্ধ হলেও চলবে বাণিজ্যিক কোচিং ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসবে প্রায় ১২ লাখ - dainik shiksha ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসবে প্রায় ১২ লাখ ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন - dainik shiksha ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বৃত্তিপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ - dainik shiksha বৃত্তিপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সরকারিকরণ : ১৬ কলেজের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা - dainik shiksha সরকারিকরণ : ১৬ কলেজের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা যেভাবে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা - dainik shiksha যেভাবে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচবেন যেভাবে - dainik shiksha করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচবেন যেভাবে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের কলেজের সংশোধিত ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের কলেজের সংশোধিত ছুটির তালিকা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা ২০২০ খ্র্রিষ্টাব্দে মাদরাসার ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্র্রিষ্টাব্দে মাদরাসার ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website