বিরাজনীতি-অতিরাজনৈতিকীকরণের মাঝামাঝি থাকুক আমাদের শিক্ষাঙ্গন - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

বিরাজনীতি-অতিরাজনৈতিকীকরণের মাঝামাঝি থাকুক আমাদের শিক্ষাঙ্গন

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সাংগঠনিকভাবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার নানা মডেল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে। ইউরোপ, আমেরিকায় তা যেমন রয়েছে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান-ভারত তথা উপমহাদেশেও রয়েছে ছাত্র সংগঠন ও ছাত্র আন্দোলনের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। উপনিবেশবাদবিরোধী স্বাধিকার সংগ্রামের কালপর্বে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পৃক্ততা এবং স্বাধীন দেশে ছাত্রসমাজের আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের প্রকৃতি, ব্যাপ্তি ও গভীরতায় পার্থক্য হওয়ার কথা। স্বাধীন বাংলাদেশের শাসন ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় যেমন ঔপনিবেশিকতার সঙ্গে পার্থক্য মৌলিক নয়, তেমনিভাবে রাজনীতির মডেলেও গুণগত পরিবর্তন খুবই সামান্য। তাই ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণও সেই গতানুগতিকতার অনুষঙ্গ বৈ ব্যতিক্রম কিছু নয়। উপমহাদেশের অন্য দুটি দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস ১৯৪৭-এর পর মৌলিকভাবে ভিন্ন একটি ধারায় প্রবাহিত হয়। এ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এ দেশের ছাত্রসমাজ মূলধারার রাজনৈতিক শক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়ে। উপনিবেশবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী সব আন্দোলনে প্রতিটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়ায় একেকটি দুর্গ, যার সর্বোচ্চ পরিণতিপর্ব ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে ছাত্র, যুবক, সৈনিক, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী একাকার হয়ে যান। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনীতি যে ধারা ও প্রক্রিয়ায় বিকশিত হওয়া বাঞ্ছনীয় ছিল, সে ধারায় তা বিকশিত হয়নি। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্র সংগঠনের সহায়তা ছাড়া মাঠের রাজনীতি পরিচালনায় সাহস ও কৌশল কোনোটাই দেখাতে পারেনি। তারা প্রায়ই মাঠ দখলের রাজনৈতিক কৌশলে ছাত্রদের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহারের নীতিকে রাজনীতির একটি ব্যবহারিক কৌশল বলে ধরে নেয়। ফলে সাধারণ রাজনীতি ও ছাত্ররাজনীতি দুটিই দূষিত হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও জানা যায়, বর্তমানে তার একটি ভয়াবহ রূপ হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনের সর্বগ্রাসী অস্থিরতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কমিশন বাণিজ্য, ছাত্র নির্যাতন ইত্যাদি। ঘটনার অন্য পিঠে শিক্ষকদের একটি বড় অংশের নীতি-নৈতিকতাহীন আচরণ। দলের লেজুড় হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক পদ দখল, পরে দলকানা-দলদাসের মতো প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করতে দিয়ে ন্যায়-অন্যায়ের ভেদাভেদ মুছে দেয়ার চেষ্টা করা। এভাবে এ দেশে মূল রাজনৈতিক দল, শিক্ষকসমাজ ও ছাত্রসমাজ তাদের সবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নির্দিষ্ট গণ্ডি বা সীমানা অতিক্রম করা শুরু করে। রাজনীতির সামগ্রিক দুর্বৃত্তায়ন ছাত্ররাজনীতির কাঁধে চড়ে শিক্ষাঙ্গনকে গ্রাস করেছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মডেলটি প্রায় একই রকম। ব্যতিক্রম শুধু পশ্চিমবঙ্গে ছাত্রসংসদের নির্বাচন হয়। বাংলাদেশে ২৮ বছর ধরে নির্বাচন হয় না। বড় মিলটি হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে যখন বামফ্রন্ট রাজ্য সরকারে ছিল, তখন সেখানকার সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ছিল তাদের অঙ্গসংগঠন স্টুডেন্ট ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার দখলে। এখন পশ্চিমবঙ্গের ৫৫০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের মধ্যে ৪৭৮টি তৃণমূলের ছাত্রফ্রন্ট ‘তৃণমূল ছাত্র পরিষদ’ নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশে যারা যখন সরকারে থাকে, তাদের ছাত্রফ্রন্ট কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব বা অরাজকতা সৃষ্টি করে। দেখা গেছে কখনো ছাত্রলীগ কখনো ছাত্রদল কখনো ছাত্রশিবিরের আধিপত্য। অন্যরা ক্যাম্পাস ছাড়া বা অনুগত প্রজার মতো দিনাতিপাত করে। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের অন্যত্র অবস্থা কিছুটা ভিন্ন। সর্বভারতীয় চিত্রটি দেখলে দেখা যায়, ভারতে প্রায় আটটি বিভিন্ন ধরন বা টাইপের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। যেমন সর্বভারতীয়, রাজ্যভিত্তিক, ধর্মভিত্তিক (মুসলিম ও খ্রিস্টান), কাস্ট বা গোত্রভিত্তিক (দলিত, এসটি, এসসি), বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক (যাদের কোনো শাখা নেই, আবার কোনো দলের সঙ্গেও সংযুক্তি নেই), বিশেষায়িত বিষয়ভিত্তিক (যেমন  কেরল মনোবিজ্ঞান ছাত্র সমিতি), সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণমূলক ইত্যাদি। এভাবে নানা ক্যাটাগরিতে সর্বভারতীয় পর্যায়ে ৩১টি সংগঠন দেখা যায়, যার মধ্যে পাঁচ-ছয়টির কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ নেই। রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে নানা বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে প্রায় ১০টি সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন। পাঁচ-সাতটি মুসলমান, খ্রিস্টান ও পশ্চাত্পদদের গোত্রীয় সংগঠন। কংগ্রেসের ছাত্র অঙ্গসংগঠন ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া ১৯৭১ সালে ইন্দিরা গান্ধীর আমলে গঠিত হয়। বিজেপির সরাসরি ছাত্র সংগঠন দেখা যায় না। ছাত্রদের মধ্যে বিজেপির মিত্র আরএসএসের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বড় ছাত্র সংগঠন সিপিআইয়ের (এম) অঙ্গসংগঠন স্টুডেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া ১৯৭০ সালে গঠিত। ২০১৪-১৫ সালে সদস্য সংখ্যা ৪৩ লাখ ৪০৫ দাবি করা হয়। ভারতের প্রায় সব গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি ক্যাম্পাসে মুক্তভাবে তর্ক-বিতর্কের পরিবেশ বিরাজ করে। বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ক্যাম্পাসে হয় না তা নয়, তবে তা শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশবিধ্বংসী নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্প্রতি ছাত্ররাজনীতির বাড়াবাড়িতে ক্ষুব্ধ হয়ে তা নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম-নীতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজ্য শিক্ষামন্ত্রী যে আভাস দিয়েছেন, তাতে সম্ভাব্য একটি রূপরেখা কল্পনা করা যায়। মোটামুটি সব ক্যাম্পাসে দলভিত্তিক অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হতে পারে। ছাত্রসংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নানা সংগঠন করতে পারবে, তবে তা হবে ক্যাম্পাসভিত্তিক। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মকাণ্ডে খুবই বিরক্ত। তাই হয়তো আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এরূপ সিদ্ধান্ত তৃণমূল সরকার নিতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় রাজনৈতিক মত বা দল সমর্থক ছাত্র গ্রুপ থাকে। কিন্তু তাদের সার্বক্ষণিক কোনো অস্তিত্ব বা অবস্থান টের পাওয়া যায় না। তারা নিজ নিজ শহরের কনজারভেটিভ ক্লাব, লেবার ক্লাব, লিব-ডেম ক্লাব, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট ক্লাবে যাতায়াত করে। নির্বাচনের সময় স্বেচ্ছাসেবক, বেতনধারী কর্মী হিসেবে এবং দলীয় তহবিল সংগ্রহে কাজ করে। তবে সবসময় তারা মূল দল থেকে কিছু সম্মানী বা পারিশ্রমিক নিয়ে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থক শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মূল দলের সদস্য সংগ্রহ করে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংগঠনগুলোর প্রায় সবাই অদলীয় সামাজিক, শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক, বিনোদন ও কল্যাণমুখী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থাকে। নির্বাচিত ছাত্রসংসদের কিছু চার্টার্ড দায়িত্ব থাকে। ছাত্র উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে তারা ছাত্রসংসদে সেইসব দায়িত্ব পালন করে। ব্রিটেনের বিখ্যাত অক্সফোর্ড ইউনিয়ন মূলত একটি ডিবেটিং সোসাইটি। অনুরূপভাবে ব্রিটেনের বেশির ভাগ ছাত্র সংগঠনই মূলত বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক করার ফোরাম। তবে প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত ছাত্রসংসদ থাকে। তারা সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত এবং কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ ছাত্রদের সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনের নিজস্ব ইতিহাস এবং সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ পাকিস্তান আন্দোলন পর্বে মুসলিম ছাত্রলীগ, পাকিস্তান সময়ে ১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, ১৯৫০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্র সংঘ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সীমাবদ্ধ না রেখে  জাতীয় রাজনৈতিক বিষয়ে অনেক বেশি সমর্পিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে ছাত্ররাজনীতি ক্রমাগতভাবে সহিংস হয়ে ওঠে। সে সহিংসতায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিছু ব্যতিক্রম বাদে সবসময় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন এগিয়ে থাকত। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গনে প্রকৃত অর্থে কোনো রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নেই। রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় এখন যা হয়, তার বেশকিছু নিকৃষ্ট নমুনা জাতি এরই মধ্যে দেখেছে। পত্রিকান্তরে জানা গেল, স্বাধীনতার পর থেকে ক্যাম্পাসে প্রায় ১৫১টি মরদেহ পড়েছে, জখমের সংখ্যা নির্ণয় হয়নি। তবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, পাঠদান বিঘ্নিত হওয়া, হল-হোস্টেল খালি করা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রনেতাদের ক্যাম্পাস ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য, বখরা-কমিশন, নেশা ও মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসা, সর্বোপরি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে সমান্তরাল প্রশাসন পরিচালনা সময়ের বাস্তবতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। উত্কণ্ঠিত জাতি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চায়। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, বিশেষত উচ্চশিক্ষার মেরুদণ্ড প্রায় ভেঙে পড়েছে। এর একটি প্রধানতম কারণ অতি রাজনীতিকরণ এবং তারই সূত্র ধরে দলীয়করণ।

পদক্ষেপগুলো এককভাবে সবই সরকারের কাছ থেকে আসতে হবে তা নয়। সম্মিলিতভাবে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে দায়িত্ব নিয়ে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হতে হবে। প্রথম দায়িত্ব বর্তায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের ওপর। সর্বপ্রথম মৌলিক একটি বিষয়ে দেশের সব শিক্ষকের ঐকমত্য সৃষ্টি করতে হবে। তা হচ্ছে, শিক্ষকদের আত্মমর্যাদাবোধ ও শিক্ষকসুলভ ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার এবং দলকানা ও দলদাসসুলভ মানসিকতা পরিহারের প্রতিশ্রুতি। অপেশাদার, দলকানা, দলদাস-দলদাসী শিক্ষকদের যে শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্য থাকবে, সেখানে ছাত্ররাজনীতি ও শিক্ষকরাজনীতি সবটাই কলুষিত হতে বাধ্য। এ মৌলিক বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক হয়ে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান তাদের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে পারে।

সরকার ও দেশের দায়িত্বশীল সব রাজনৈতিক দল শিক্ষাঙ্গনের এ অস্থির সময়কে সুস্থির করার জন্য রাজনৈতিক স্বার্থ বা দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে একটি ঐকমত্যে উপনীত হবে, এটি জাতীয় প্রত্যাশা। শিক্ষাঙ্গন ব্যবস্থাপনায় বাইরের হস্তক্ষেপ বন্ধ করে নিরপেক্ষ প্রশাসনকে সব আইনি সহায়তা দিতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে একটি সর্বদলীয় কমিটি করে সম্ভাব্য করণীয়গুলো আলোচিত হতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনকে সন্ত্রাসমুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে দলীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সমসাময়িক রাজনৈতিক, সামাজিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে কূপমণ্ডূকতা পরিহার করে মুক্তভাবে তর্ক-বিতর্ক হবে। শিক্ষার্থীরা অন্তত ক্যাম্পাসের ক্ষুদ্র পরিসরে দলীয় প্রচারণার বদলে মুক্তমনে রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করবে। দলীয় ছাত্রফোরাম দেশে থাকতে পারে, তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজ নিজ দলের জন্য কাজ করবে। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা করলে সরাসরি রাজনৈতিক দলের সদস্যপদ গ্রহণের অধিকারী হবেন। যারা সরাসরি রাজনৈতিক দলের সদস্য হবেন, তারা আর ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। উন্নত ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোয় রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ এবং ক্যাম্পাসের মধ্যে যেভাবে মিথস্ক্রিয়া হয়, আমরা আমাদের রাজনীতিকে সেই সভ্য ও সংস্কৃত পথে প্রবাহিত করতে পারি। এতে বিরাজনৈতিকীকরণ যেমন হবে না, আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশ, নেতৃত্বের বিকাশ উপযোগী ক্যাম্পাসে মানবিক ও উন্মুুক্ত পরিবেশ ফিরে আসবে। বিরাজনৈতিকীকরণ ও অতিরাজনৈতিকীকরণ দুটিই সমাজের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের উচিত দুই চরম অবস্থার মধ্যবর্তী অবস্থানে সমাজকে রাখার চেষ্টা করা। আমরা বর্তমানে অতিমাত্রায় দলীয়কৃত একটি সমাজের বাসিন্দা। দলের প্রধান নেতা-নেত্রীর বিশ্বাস ও বয়ান হতে হয় দলের সবার বিশ্বাস না হলেও অন্তত বুলি। এ এক ভয়ংকর সমাজ। ছাত্রসমাজকে এ ভয়ংকর প্রবণতা থেকে মুক্ত করতে হবে।

ড. তোফায়েল আহমেদ : স্থানীয় শাসন ও সরকার বিশেষজ্ঞ, বর্তমানে কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

মাদরাসা শিক্ষকদের জুন মাসের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha মাদরাসা শিক্ষকদের জুন মাসের এমপিওর চেক ছাড় স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের জুনের এমপিওর চেক ছাড় - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের জুনের এমপিওর চেক ছাড় শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে স্কুলের তথ্য চেয়েছে অধিদপ্তর - dainik shiksha শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে স্কুলের তথ্য চেয়েছে অধিদপ্তর আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে বন্যা দুর্গত এলাকায় স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নির্দেশ - dainik shiksha আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবে বন্যা দুর্গত এলাকায় স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ার নির্দেশ তিন শিক্ষকের ডাবল এমপিও : দৈনিক শিক্ষায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর অধ্যক্ষকে শোকজ - dainik shiksha তিন শিক্ষকের ডাবল এমপিও : দৈনিক শিক্ষায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর অধ্যক্ষকে শোকজ দৈনিক শিক্ষায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর : তথ্য গোপন করে নেয়া অনুদানের টাকা ফেরত - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর : তথ্য গোপন করে নেয়া অনুদানের টাকা ফেরত জটিলতার দ্রুত সমাধান চান এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকরা - dainik shiksha জটিলতার দ্রুত সমাধান চান এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকরা প্রভাষকের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগ - dainik shiksha প্রভাষকের বিরুদ্ধে ভুয়া সনদে চাকরির অভিযোগ শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান - dainik shiksha শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক - dainik shiksha বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে - dainik shiksha শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website