বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে আসছে অভিন্ন নীতিমালা - বিবিধ - Dainikshiksha

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে আসছে অভিন্ন নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, পদায়ন ও প্রশিক্ষণের জন্য একটি অভিন্ন নীতিমালা হচ্ছে। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষক সমিতি ও রাজনৈতিক চাপের কারণে প্রায় দেড় যুগ আটকে থাকার পর এ নীতিমালা আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এ নীতিমালা চূড়ান্ত করতে বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশন কার্যালয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে। দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্নিষ্টদের এ কর্মশালায় উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন। কর্মশালার সুপারিশের পর মঞ্জুরি কমিশনের পূর্ণ কমিশন সভায় প্রস্তাবটি পাস হবে।

এ ব্যাপারে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, অনেক দিন ধরে আলোচনা হলেও নানা কারণে এ অভিন্ন নীতিমালা করা যাচ্ছিল না। অনেক দিনের চেষ্টার পর সেটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। শিক্ষার মান বজায় রাখতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের একই মানে উন্নীতকরণের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে। এটা হয়ে গেলে চূড়ান্তভাবে শিক্ষার মানই উন্নত হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্যও দূর হবে।

কী আছে নীতিমালায় :অভিন্ন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার খসড়ায় বলা হয়েছে, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ১৫ থেকে ১৬ বছর। আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র ১১ বছরেই অধ্যাপক হয়ে যায়। কোথাও প্রভাষক পদে যোগ দিতে সংশ্নিষ্ট বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম শ্রেণি বাধ্যতামূলক। আবার কোথাও যে কোনো একটিতে প্রথম শ্রেণি থাকলেই চলে। স্বায়ত্তশাসিত চারটি বড় ও পুরনো বিশ্ববিদ্যালয় সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করে থাকে। এই অভিন্ন নীতিমালা হলে তা বন্ধ হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের নেতারা  জানান, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় বেতন স্কেলে বৈষম্যের প্রতিবাদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠকে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বৈষম্যের বিষয়টি তোলা হয়। তখনই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে একটি মানসম্মত অভিন্ন নীতিমালা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। মন্ত্রণালয় ইউজিসিকে এ দায়িত্ব দেয়। ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ আলী মোল্লাকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। 

কমিটি দীর্ঘ সময় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতির নীতিমালা, কমিশনের বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেশন ও বিভিন্ন শিক্ষক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বসে কমিটি। এরপর কমিটি একাধিক বৈঠক করে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। 

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, থিসিসসহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদোন্নতি পেতে গেলে ন্যূনতম ১০ বছর সক্রিয় শিক্ষকতাসহ মোট ২২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর এমফিল প্রার্থীর ক্ষেত্রে সাত বছর সক্রিয় শিক্ষকতাসহ মোট ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় চাকরি থাকতে হবে। পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ন্যূনতম পাঁচ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসহ মোট ১২ বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। 

সহকারি থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতিতে একজন শিক্ষককে কমপক্ষে সাত বছরের ক্লাসরুম শিক্ষকতাসহ ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থিসিসসহ এমফিল প্রার্থীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছয় বছর শিক্ষকতাসহ মোট নয় বছরের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে। পিএইডি ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের সক্রিয় শিক্ষকতা থাকতে হবে। সকল প্রার্থীরই স্বীকৃত জার্নালে কমপক্ষে সাতটি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে চারটি প্রকাশনা থাকতে হবে। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে একজন শিক্ষককে ন্যূনতম তিন বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থিসিসসহ এমফিল ডিগ্রিধারীদের জন্য দুই বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রি থাকলে এক বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর স্বীকৃত কোনো জার্নালে ন্যূনতম চারটি প্রকাশনা থাকতে হবে।

এ ছাড়াও বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা ও মানবিক, বিজনেস স্টাডিজ, চারুকলা ও আইন অনুষদভুক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী থেকে সহযোগী এবং সহযোগী থেকে অধ্যাপক নিয়োগে জন্য একটি অভিন্ন শর্তাবলি যোগ করা হয়েছে নীতিমালায়। একইভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়, মেডিসিন, কৃষি ও কৃষি প্রাধান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা নিয়োগ শর্তাবলি করা হয়েছে। 

ববির রেজিস্ট্রারের নৈতিক স্খলন, কাজে যোগদানের ব্যর্থ চেষ্টা - dainik shiksha ববির রেজিস্ট্রারের নৈতিক স্খলন, কাজে যোগদানের ব্যর্থ চেষ্টা আইনি জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রকাশ পেছালো - dainik shiksha আইনি জটিলতায় শিক্ষক নিয়োগের তালিকা প্রকাশ পেছালো কোচিংয়ে লিপ্ত উইলসের ৩০ শিক্ষকের নাম - dainik shiksha কোচিংয়ে লিপ্ত উইলসের ৩০ শিক্ষকের নাম রকেটের জটিলতায় উপবৃত্তিবঞ্চিত রাজশাহীর শত শত শিক্ষার্থী - dainik shiksha রকেটের জটিলতায় উপবৃত্তিবঞ্চিত রাজশাহীর শত শত শিক্ষার্থী স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে না - dainik shiksha স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচন ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে না প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ শুরু - dainik shiksha প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ শুরু ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার খবর সবার আগে পেতে ‘দৈনিক শিক্ষা ব্রেকিং নিউজ’ ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha শিক্ষার খবর সবার আগে পেতে ‘দৈনিক শিক্ষা ব্রেকিং নিউজ’ ফেসবুক পেজে লাইক দিন please click here to view dainikshiksha website