বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে প্রস্তাবিত অভিন্ন নীতিমালা ‘সাংঘর্ষিক’ - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে প্রস্তাবিত অভিন্ন নীতিমালা ‘সাংঘর্ষিক’

নিজস্ব প্রতিবেদক |

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘প্রস্তাবিত অভিন্ন নীতিমালাকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ ও ‘কালাকানুন’ আখ্যায়িত করেছে ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরাম’।

ফোরামের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নীতিগত অনুমোদনের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে; তা সঙ্গত কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী বলে আমরা মনে করছি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অনুমোদিত ’৭৩ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ী তৎকালীন চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার যে যুগান্তকারী সূচনা হয়েছিল, তার অনুসরণে দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উক্ত স্বায়ত্তশাসন চর্চার পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু বর্তমান নীতিমালার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই স্বায়ত্তশাসনের বিষয়টি দুর্ভাগ্যজনকভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। অভিন্ন নীতিমালার নামে যা করা হচ্ছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। অভিন্ন নীতিমালা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানরক্ষা ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি কালাকানুন হতে যাচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। ভৌগলিক অবস্থান, ইতিহাস-ঐতিহ্য, বিদ্যমান অবকাঠামো ইত্যাদির দিক থেকে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। অথচ নীতিনির্ধারকদের মাঝে অনেকেই এই স্বাভাবিক বিষয়টাকে অস্বাভাবিক ভাবছেন এবং এই অভিন্ন নীতিমালার প্রস্তাব করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের প্রধান-সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পৃথিবীতে সর্বমোট ২৬ হাজারের মতো বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এরমধ্যে মানের ক্রম অনুযায়ী একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান একেক। সব বিশ্ববিদ্যালয় যদি সমমানের হতো তাহলে অযথা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের ক্রম নির্ণয় করা হতো না। সব বিশ্ববিদ্যালয় একই মানের না এই ভেবে, পৃথিবীর কোথাও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে মানের সমতা আনার জন্য অভিন্ন নিয়োগ প্রমোশন নীতিমালা চালু করা দরকার বলে মনে করেনি।’

শিক্ষাক ফোরাম মনে করে, ‘যৎসামান্য শিক্ষা ও গবেষণার সুবিধা নিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণায় অবদান রাখছে এবং নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব নির্মাণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বকীয় অবস্থান তৈরি করতে গবেষণা-সুবিধা এবং প্রণোদনা না দিয়ে বরং একটা গড়পড়তা অবস্থানে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টার জন্য এই নীতিমালা প্রণয়ন! শিক্ষার পরিবেশবিরোধী এই অবস্থান তাই ভীষণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’

প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষকদের মান ও সুযোগ-সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পদে শিক্ষক নিয়োগের শর্ত ঠিক করবে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, আবার একই অনুষদের বিভিন্ন বিভাগেরও শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন নীতি ভিন্ন হতে পারে। অভিন্ন নীতিমালা না করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনার মাধ্যমে একটি যুগোপযোগী বাস্তব নীতিমালা প্রণয়নের জন্য অনুরোধ করা যেতে পারে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘শিক্ষক নিয়োগ মানে যেহেতু মানুষ গড়ার কারিগর নিয়োগ, সেহেতু এটিকে হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। একে আরও কঠোর করে শিক্ষকদের মানমর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করলে মেধাবীদের এই পেশায় আগ্রহী করা সম্ভব। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই নীতিমালায় গবেষণায় সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষকদের মানমর্যাদা বৃদ্ধির কোন কথা বলা হয়নি। সর্বোপরি যে নীতিমালাটি প্রণয়নের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে পত্রিকা মারফত বাংলাদেশের শিক্ষক সমাজ অবহিত হয়, সেই প্রস্তাবনাটির ব্যাপারে ইতোমধ্যেই শিক্ষক সমাজের বৃহৎ একটি অংশ জোটবদ্ধ প্রতিবাদ জানিয়েছে। শিক্ষকদের জন্য করা একটি নীতিমালা, যেটির ব্যাপারে শিক্ষক সমাজের অনেকেরই আপত্তি আছে; তা কী করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে না নিয়ে এবং কতিপয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিরা সেসব আমলে না নিয়ে, বরং স্বেচ্ছাচারী হয়ে অভিন্ন নীতিমালার নামে এই কালাকানুন পাশ করিয়ে আনার মতো নিন্দনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন তা আমাদের বোধগম্য নয়।’

অভিন্ন নীতিমালার নামের কালাকানুনকে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার স্বার্থে, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এবং শিক্ষক সমাজের একান্ত দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে এই অভিন্ন নীতিমালা অবিলম্বে বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছি।’

উপরোক্ত বিবৃতিতে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদবীর ২ হাজারের অধিকসংখ্যক শিক্ষক ইতোমধ্যেই স্বাক্ষর প্রদান করেছেন। স্বাক্ষরকারী শিক্ষকদের নাম, পদবি, বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় সরবরাহযোগ্য বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

করোনায় আরও ২৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩ হাজার ২৮৮ - dainik shiksha করোনায় আরও ২৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩ হাজার ২৮৮ এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৭৩ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৭৩ শিক্ষক সরকারি স্কুল-কলেজ কর্মচারীদের অনলাইনে পিডিএস পূরণের নির্দেশ - dainik shiksha সরকারি স্কুল-কলেজ কর্মচারীদের অনলাইনে পিডিএস পূরণের নির্দেশ শ্রান্তি বিনোদন ভাতা তুলতে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ তিন শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে - dainik shiksha শ্রান্তি বিনোদন ভাতা তুলতে চাঁদা নেয়ার অভিযোগ তিন শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতিতে ১৭ স্কুল মেরামতের সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা ফেরত - dainik shiksha শিক্ষা কর্মকর্তার গাফিলতিতে ১৭ স্কুল মেরামতের সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা ফেরত পলিটেকনিকে ভর্তিতে বয়সসীমা থাকছে না - dainik shiksha পলিটেকনিকে ভর্তিতে বয়সসীমা থাকছে না সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদের আবেদন শুরু - dainik shiksha সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ পদের আবেদন শুরু বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক - dainik shiksha বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে - dainik shiksha শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website