বুয়েট রক্ষায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

বুয়েট রক্ষায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জরুরি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

জাতীয় অধ্যাপক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য হিসেবে কর্মরত। ২০০১-২০১০ সাল মেয়াদে তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) তিনি ১৯৫৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রথমে শিক্ষার্থী এবং পরবর্তী সময়ে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় একুশে পদক লাভ করেন। তার জন্ম ১৯৪২ সালে সিলেটে। শনিবার (১২ অক্টোবর) সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানা যায়। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন শেখ রোকন। সাক্ষাৎকারে আরও জানা যায়-

প্রতিবেদক : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে শুক্রবার বিকেলের বৈঠকে বুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন উপাচার্য। বুয়েট অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকেও আপনারা একই দাবি জানিয়েছিলেন। এ ঘোষণাকে কীভাবে দেখছেন?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : আমি এ ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদেরও অভিনন্দন জানাই। এর মধ্য দিয়ে তাদের আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের মধ্যে দাবি মানা না হলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। বুয়েট প্রশাসন ১০ দফা দাবির সব মেনে নিয়ে শুভবুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে। এর ফলে বুয়েটের পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আমি প্রত্যাশা করি। এ প্রসঙ্গে আমি আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের আরেকবার নিন্দা জানাই। তার পরিবারের প্রতি আমার সহমর্মিতা জানাই।

প্রতিবেদক : আন্দোলনকারীদের পরবর্তী অবস্থান কী হওয়া উচিত?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : উপাচার্যের ঘোষণা যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, সে ব্যাপারে চাপ বজায় রাখতে হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, চাপের মুখে ঘোষণা দিয়ে পরে পদক্ষেপ বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। সেটা যাতে না হয়, সেদিকে শিক্ষার্থী ছাড়াও নাগরিক সমাজ ও সংবাদমাধ্যমের নজর রাখা উচিত। উপাচার্য আবরার হত্যা মামলার খরচ চালানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটাকে আমি বিশেষভাবে স্বাগত জানাই। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় সমানভাবে সহমর্মিতা দেখাতে হবে। কিছু দাবি উপাচার্য পালন করতে পারবেন না। সেখানে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। যেমন অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করা। চাঞ্চল্যকর অনেক ঘটনায় পরে অভিযুক্তরা খালাস পেয়ে যায়। এটা হওয়া চলবে না।

প্রতিবেদক : আগামী ১৪ তারিখ বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা। সেটা কি সময়মতো হবে?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : আমি মনে করি হওয়া উচিত। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উচিত এ ব্যাপারে সহযোগিতা করা। কারণ, ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকের প্রস্তুতির ব্যাপার থাকে। এ ছাড়া বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাও সম্পর্কিত। কারণ, বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হলে তারপর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। বুয়েটে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী- সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

প্রতিবেদক : শিক্ষার পরিবেশ নিয়েই পরবর্তী প্রশ্ন করতে চাই। দীর্ঘ চার দশক আপনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত ছিলেন। এখন বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। বুয়েটে শিক্ষার পরিবেশ কি ধারাবাহিকভাবে অবনতি হচ্ছে?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : ভর্তি, শিক্ষা ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে বুয়েট প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রশ্নাতীত উচ্চতা বজায় রেখেছে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টি বুঝবেন। বুয়েটের প্রথম উপাচার্য ড. এম এ রশীদের বড় ছেলের ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বেন। পিতাও সেটা চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভর্তি পরীক্ষা দিয়েও ভর্তি হতে পারেননি। তাকে আর্কিটেকচার পড়তে হয়েছিল। ড. রশীদ যখন উপাচার্য, তখন দেশে এক কঠিন সময় ছিল। মোনায়েম খান ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর। সরকার থেকে নানা তদবির আসত, চাপ আসত, তিনি পত্রপাঠ বাতিল করে দিতেন। তখন নকল দূরে থাক, পরীক্ষায় যে কোনো ধরনের অনিয়ম ধরা পড়লেই সোজা দুই বছরের জন্য বহিস্কার। আরেকটি উদাহরণ দিই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান এক অধ্যাপকের পুত্র এবং পরে একজন উপাচার্যের জামাতা আমাদের ছাত্র ছিলেন। শীর্ষস্থানীয় ছাত্র। পরীক্ষার নিয়ম হচ্ছে, পৌনে ৯টার সময় খাতা দেওয়া হবে। পরীক্ষার্থীরা বিষয়, রোল ইত্যাদি লিখবে। ৯টার ৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে। কিন্তু লেখা শুরু হবে ঠিক ৯টায়। ওই ছাত্র প্রশ্ন পেয়ে খাতার পেছন দিকে একটি ফর্মুলার খসড়া করছিলেন। নকল নয়, অনুশীলন মাত্র। তাকে সঙ্গে সঙ্গে দুই বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়।

প্রতিবেদক : ছাত্র রাজনীতির পরিবেশ কেমন ছিল? হলের পরিবেশ কেমন ছিল?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : চমৎকার পরিবেশ। রাজনীতির পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলে হলেও স্বাভাবিকভাবে শৃঙ্খলা থাকে। বুয়েট হলের প্রভোস্টরা বরাবরই সক্রিয় থাকতেন হলে যেন সবার সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থাকে। যেমন- ১৯৬০ সালে তখনকার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (সিএসইউ) ভিপি পদে দু'জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এল কে সিদ্দিকী ও এম আর ওসমানী। তারা হলে বা ডিপার্টমেন্টে একসঙ্গে নির্বাচনী প্রচার চালাতেন। দু'জন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নিজেদের পরিচয় দিতেন এবং নির্বাচিত হলে কী কী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন, তা বলতেন। তখন আমিও ডিপার্টমেন্টের ছাত্র সংসদে জিএস ছিলাম। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও সবাই রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনে বুয়েটের শিক্ষার্থীদের, ছাত্রনেতাদের অংশগ্রহণ ছিল জোরালো।

প্রতিবেদক : এমন পরিবেশের অবনতি হওয়া শুরু হলো কখন?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অস্থির সময় বুয়েটকেও স্বাভাবিকভাবেই স্পর্শ করেছিল। রাজনৈতিক অস্থিরতা, উত্তেজনা, সংঘর্ষ দেখা যেত। যেমন- ১৯৭৪ সালে বুয়েটের ইতিহাসে প্রথমবার হলের ভেতর বোমা বিস্ম্ফোরিত হয়। বুয়েটের শিক্ষার্থী ও জাসদ ছাত্রলীগের কর্মী নিখিল চন্দ্র সাহা তার রুমে বোমা বানাতে গিয়ে বিস্ম্ফোরণে নিহত হন, আরেকজন সহযোগীর সঙ্গে। পরে যদিও আবার আমরা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হই। আশির দশকে যদিও ছাত্ররা নিজেদের মধ্যে মারামারি করত, এমনকি একবার বুয়েটের একদল ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গিয়ে মারামারি করে। আমি প্রায় সময়ই ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে থাকতাম। আমরা সেগুলো কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করেছি। শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কাজ করলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা। এখনকার মতো পরিবেশ আমাদের সময় কল্পনাও করা যেত না।

প্রতিবেদক : আপনি সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বললেন। হলে মাস্তানি শুরু হলো কখন থেকে?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : আমাদের সময় ছিল না। আমার ধারণা, ২০০০ সালের পর থেকেই শৃঙ্খলা দুর্বল হতে শুরু করে। আমার মনে আছে, ২০০১ সালেই অভিযোগ আসত যে কক্ষ বরাদ্দ পেয়েছে, কিন্তু আগের বাসিন্দারা তাকে ঢুকতে দিচ্ছে না। বলছে, এই কক্ষে নয়, প্রভোস্টের কাছ থেকে অন্য কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে আসো। এগুলো কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণ করা হলে পরিস্থিতির এতদূর অবনতি হতো না।

প্রতিবেদক : এখন তো রীতিমতো 'টর্চার সেল' তৈরি হয়েছে।

জামিলুর রেজা চৌধুরী : আমার ধারণা, টর্চার সেল পর্যন্ত তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল আসলে কথিত র‌্যাগিং দিয়ে। মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়া নিয়ে জোরাজুরি ও মারধরের প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত টর্চার সেলের মতো বর্বরতায় পৌঁছেছে। শুরু থেকে প্রশাসন সচেতন থাকলে এটা হতো না।

প্রতিবেদক : শুক্রবারের বৈঠকে উপাচার্য র‌্যাগিং বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন। এটা কীভাবে সম্ভব? আপনার কোনো পরামর্শ আছে?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : র‌্যাগিং বন্ধ করা অবশ্যই সম্ভব। একই ধরনের অপসংস্কৃতি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে ও এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি বন্ধ করেছি। এর একটাই উপায়। র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ পেলেই, সে যে-ই হোক না কেন, তাকে সঙ্গে সঙ্গে বহিস্কার। এমন কয়েকটি দৃষ্টান্ত তৈরি হলেই আর র‌্যাগিংয়ের সাহস পাবে না কেউ। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীরাই পরে র‌্যাগিং করে। এই ধারা একবার বন্ধ হলেই আর র‌্যাগিং থাকবে না। বিশেষ করে প্রভোস্টকে সক্রিয় হতে হবে। হলে যা-ই ঘটুক, প্রভোস্টের ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে খবর পেতে হবে। এ ব্যবস্থা গড়ে না তুললে হলের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব।

প্রতিবেদক : খোদ শিক্ষকরাও তো রাজনৈতিক বিবেচনায় কাজ করেন। ফলে তাদের পক্ষে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। উপাচার্যের শুক্রবারের ঘোষণা মধ্য দিয়ে কি শিক্ষকদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ হলো?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : হওয়া উচিত। অ্যালামনাইয়ের পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মচারী- সবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিলাম। রাজনীতির কারণে শিক্ষকরা বিভক্ত হন। শিক্ষা ও গবেষণার বাইরে পদ-পদবির জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন। রাজনৈতিক দলের কাছে গিয়ে ধরনা দেয়। বুয়েটের কোনো শিক্ষক আগে কখনও রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে গেছেন বলে আমি দেখিনি। এখন সেটাও দেখছি। দর্শক সারিতে গিয়ে বসে থাকেন কেউ কেউ। আমাকে একজন শিক্ষক বলেছেন, আমাদের সময় শিক্ষক কম ছিল বলে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু এখন শিক্ষক বেশি, প্রশাসনিক পদ সেই তুলনায় কম। ফলে শুধু একাডেমিক তৎপরতা দিয়ে 'ওপরে ওঠা' যাবে না। এই কথিত ওপরে ওঠার অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে।

প্রতিবেদক : বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা, কোর্স পরীক্ষা, শিক্ষক নিয়োগ- এসব ব্যাপারেও কি অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশঙ্কা করেন?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : এখন আগের তুলনায় শিক্ষকদের কনসালট্যান্সি বেড়ে গেছে। কেউ কেউ নিজেই ফার্ম খুলেছেন। বুয়েটে পরীক্ষার জন্য রড, সিমেন্ট ইত্যাদি আসে। অনেকে লোভ দেখায়। আগে এগুলো কল্পনাও করা যেত না। শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু না থাকলে অন্যান্য বিষয়েও অবনতি হয়। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ভর্তি পরীক্ষা, নম্বর দেওয়া, শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়ম শুরু হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদক : বুয়েটে যদি শিক্ষার পরিবেশ অবনতি হতে থাকে, তাহলে তো এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে বহুমাত্রিক।

জামিলুর রেজা চৌধুরী : অবশ্যই। আমার আশঙ্কা, বুয়েটের পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার কারণে এরই মধ্যে অনেক শিক্ষক বিদেশে চলে যাচ্ছেন। আগে যারা যেতে চাইতেন না, তারাও এখন যাওয়ার কথা ভাবছেন। অনেক অভিভাবক হয়তো তার মেধাবী সন্তানকে বুয়েটে না দিয়ে বিদেশে পড়তে পাঠাতে পারেন। এর ফলে দেশের প্রকৌশলগত বিষয়গুলোতে মেধার সংকট দেখা দেবে। বাংলাদেশ এখন উন্নত বিশ্বের কাতারে যেতে চায়, তাহলে অবকাঠামোগত উন্নয়নে মেধার নিজস্ব উৎস থাকতেই হবে।

প্রতিবেদক : শেষ করি, তাহলে করণীয় কী? বুয়েট প্রশাসন চাইলেই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারবে?

জামিলুর রেজা চৌধুরী : মূল বিষয়টি রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা। এবারের অঘটনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। আমার ধারণা, সরকারপ্রধানের সবুজ সংকেত পেয়েই বুয়েট উপাচার্য ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। আমি মনে করি, বুয়েটের ঐতিহ্য ও উৎকর্ষ রক্ষা করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিত হবে যে সেখানে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ বজায় থাকবে। হলে কোনো ধরনের আধিপত্য ও সহিংসতা চলবে না। বড় কথা, শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে। তাহলে নতুন নতুন চিন্তা ও গবেষণা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য সেটাই।

প্রতিবেদক : এই অসময়েও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যাবাদ।

জামিলুর রেজা চৌধুরী :সমকালের জন্যও শুভকামনা।

এমপিও কমিটির সভা ২৪ নভেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ নভেম্বর নতুন এমপিওভুক্ত ১ হাজার ৬৫০ প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ - dainik shiksha নতুন এমপিওভুক্ত ১ হাজার ৬৫০ প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ এমপিওভুক্তি নিয়ে সংসদ সদস্যদেরকে দেয়া শিক্ষামন্ত্রীর চিঠিতে যা আছে - dainik shiksha এমপিওভুক্তি নিয়ে সংসদ সদস্যদেরকে দেয়া শিক্ষামন্ত্রীর চিঠিতে যা আছে প্রাথমিক সমাপনীতে পরীক্ষার্থী কমেছে, বেড়েছে ইবতেদায়িতে - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনীতে পরীক্ষার্থী কমেছে, বেড়েছে ইবতেদায়িতে যুদ্ধাপরাধীদের নামের পাঁচ কলেজের নাম পরিবর্তন হচ্ছে - dainik shiksha যুদ্ধাপরাধীদের নামের পাঁচ কলেজের নাম পরিবর্তন হচ্ছে এমপিও নীতিমালা সংশোধনে ১০ সদস্যের কমিটি - dainik shiksha এমপিও নীতিমালা সংশোধনে ১০ সদস্যের কমিটি এমপিওভুক্ত হলো আরও ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হলো আরও ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম সংশোধনের প্রস্তাব চেয়েছে অধিদপ্তর - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম সংশোধনের প্রস্তাব চেয়েছে অধিদপ্তর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাইয়ে ৭ সদস্যের কমিটি - dainik shiksha এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাইয়ে ৭ সদস্যের কমিটি শূন্যপদের তথ্য দিতে ই-রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল - dainik shiksha শূন্যপদের তথ্য দিতে ই-রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ল স্নাতক ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নয়: প্রজ্ঞাপন জারি - dainik shiksha স্নাতক ছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি নয়: প্রজ্ঞাপন জারি প্রাথমিকে প্রশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের বেতন একই গ্রেডে - dainik shiksha প্রাথমিকে প্রশিক্ষিত ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকদের বেতন একই গ্রেডে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website