বেরোবিতে অনাবাসিকদের দখলে ছাত্রাবাস - বিশ্ববিদ্যালয় - Dainikshiksha

বেরোবিতে অনাবাসিকদের দখলে ছাত্রাবাস

বেরোবি প্রতিনিধি |

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রাবাস অনাবাসিকদের দখলে থাকায় বৈধ শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। হল প্রশাসন দফায় দফায় অনাবাসিকদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও তা মানছে না তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য তিনটি হল রয়েছে। শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে কোনো সমস্যা না থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ মুখতার ইলাহী হলে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এর আগে রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্নভাবে হলের বেশির ভাগ বৈধ শিক্ষার্থীকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এরপর আর হলে উঠতে পারেনি তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু হল ও ২৮ অক্টোবর শহীদ মুখতার ইলাহী হল উদ্বোধন করা হয়। ওই বছর পুরো মেধার ভিত্তিতে দুই হলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীকে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর হলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বৈধ শিক্ষার্থীদের মারধরসহ বিভিন্নভাবে হল থেকে বের করে দেন কিছু ছাত্রনেতা। এ ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন করে আসন বরাদ্দ দেয়নি হল প্রশাসন।

খাতা-কলমে দুই হলে প্রায় ৪০০ আসন ফাঁকা। কিন্তু বাস্তবে আসন সংখ্যার চেয়ে ওই দুই হলে অবস্থানকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ। সবশেষ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শহীদ মুখতার ইলাহী হলে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অনাবাসিক শিক্ষার্থীরা আসন ছেড়ে না দেওয়ায় নতুনভাবে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকেই হলে উঠতে পারেনি। বর্তমানে ওই হলের ২৪০টি আসনে ১৫০ জন শিক্ষার্থী বৈধভাবে অবস্থান করছে।

বঙ্গবন্ধু হল সূত্রে জানা যায়, হলটিতে ৩৫৫টি আসনের মধ্যে মাত্র ৩২ জন বৈধভাবে অবস্থান করছে। আর নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া ৬৯ জনের মধ্যে ভর্তি হয়েছে ২৩ জন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষার্থীরা জানায়, ছাত্রাবাসে উঠতে হল প্রশাসনের কোনো অনুমতির দরকার হয় না। কয়েকজন ছাত্রনেতাকে আসনপ্রতি নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিলেই হলে থাকার ব্যবস্থা হয়ে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা ভর্তির সময় ফি জমা দিয়েও আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে না। তাই দ্রুত হলে নতুন করে আসন বরাদ্দের দাবি জানায় তারা।

এদিকে হলগুলোতে বৈধ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় হলের ফান্ড শূন্য হয়ে গেছে। এতে প্রায় পাঁচ মাস থেকে বেতন বঞ্চিত রয়েছেন প্রায় ২৫ জন কর্মচারী। এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের কর্মচারী বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘হল থেকে যে বেতন দেয় তার ওপর আমার পরিবার নির্ভরশীল। কিন্তু কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।’

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট (চলতি দায়িত্ব) তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, ‘যাদের মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হয়েছে অথবা ছাত্রত্ব নেই তাদের হল ছাড়ার জন্য এরই মধ্যে তিনবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাত্র ২০ জন শিক্ষার্থী এ নির্দেশনা মানলেও বাকিরা অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সাত দিনের মধ্যে অনাবাসিকদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা এ নির্দেশ অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শহীদ মুখতার এলাহী হলের প্রভোস্ট ফেরদৌস রহমান জানান, অনাবাসিকদের কারণে হলে নতুন করে আসন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এমপিওভুক্তির দাবিতে ফের রাজপথে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু - dainik shiksha এমপিওভুক্তির দাবিতে ফের রাজপথে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু মারধরে অসুস্থ হলে আবরারকে অন্য রুমে নিয়ে গিয়ে পেটাই : রবিন - dainik shiksha মারধরে অসুস্থ হলে আবরারকে অন্য রুমে নিয়ে গিয়ে পেটাই : রবিন কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? - dainik shiksha কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? ৪২ শতাংশই অন্য চাকরি না পেয়ে শিক্ষকতায় এসেছেন - dainik shiksha ৪২ শতাংশই অন্য চাকরি না পেয়ে শিক্ষকতায় এসেছেন ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website