please click here to view dainikshiksha website

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইচ্ছেমাফিক ভর্তি ও টিউশন ফি আদায় চলছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ১৬, ২০১৭ - ৭:২৪ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকপক্ষ কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া ভর্তি ও টিউশন ফি আদায় চলছেই। একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। কিন্তু এগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় কোনো নীতিমালা আজ পর্যন্ত তৈরি হয়নি। নীতিমালা না থাকায় ইচ্ছেমতো ফি আদায় করে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রস্তাবিত নীতিমালা গত পাঁচ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি।

ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফি, টিউশন ফি এবং শিক্ষকদের বেতনভাতাসহ অন্য বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। এ ছাড়া ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট ও প্রশংসাপত্র ইত্যাদি সরবরাহ করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চহারে ফি নেওয়ায় হাজার হাজার অভিযোগ আসে। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রতিবছরই সব ফি বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এসব অভিযোগের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জরুরি উল্লেখ করে ২০১৩ সালের অক্টোবরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সুপারিশ পাঠানো হয়। কিন্তু তা আজ পর্যন্ত চূড়ান্ত করা হয়নি।

এ বছরের উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়েছে গত ২৩ আগস্ট। ইতোমধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ নিময়তান্ত্রিক হলেও নিয়মনীতি নেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি, সেমিস্টারসহ আনুষঙ্গিক সব ফি আদায়ে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় মনগড়া ফি ধার্য করছে। ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণেই নীতিমালাটি ফাইলবন্দি। একটি শিক্ষাবান্ধব নীতিমালা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের হিসাবে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা বিষয়গুলোয় পড়াশোনার খরচ মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। এই বছর এ খরচ আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ) পড়তে খরচ ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, মাস্টার্স অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ) ১ লাখ থেকে ৫ লাখ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) ৩ লাখ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইসিই) ৩ লাখ থেকে ৭ লাখ ও সাংবাদিকতায় স্নাতক পড়তে ২ লাখ থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। তবে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর চেয়ে কম খরচেও লেখাপড়ার সুযোগ আছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিব জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এ ভর্তি ফি সহনীয় পর্যায়ে রাখার কথা উল্লেখ আছে। তার পরও একটি পৃথক নীতিমালার কাজ চলছে। তবে কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার মান ভিন্ন, খরচও ভিন্ন। এ ক্ষেত্রে নীতিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা অনেকটা কষ্টসাধ্য। দুই দশক ধরে বিভিন্ন সরকারের আমলে ধারাবাহিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিচ্ছে। কিন্তু এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য ফি নির্ধারণে কোনো নীতিমালা করতে পারেনি সরকার। এ কারণে ইচ্ছামতো ফি আদায় করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, কমিশনে তার যোগদানের আগে একটি নীতিমালা নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। সেটা বাস্তবায়ন হয়নি। সবার সহযোগিতা না থাকলে এমন নীতিমালা করাও অসম্ভব।

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় ৪ লাখের মতো শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। দেশে ১৯৯২ সাল থেকে এ যাবৎ ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৩ শতাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন