মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিওতে অসামঞ্জস্য - মতামত - Dainikshiksha

মাদরাসার জনবল কাঠামো ও এমপিওতে অসামঞ্জস্য

মো: ইলিয়াছ হোসেন |

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ প্রকাশ করা হয়েছে। তার গুণগত মান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। তবে তাতে আমার কাছে কিছু অসামঞ্জস্য নজরে পড়েছে। তা হলো, আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে দাখিল মাদরাসার সুপার ও সহকারী সুপার যেতে পারে যাদের প্রাপ্য স্কেল ২৯,০০০ ও ২৩,০০০ টাকা, যা  দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভি পদে ১২ ও ১০ বছর অভিজ্ঞতা থাকার বিধান রয়েছে। 

অথচ আলিম মাদরাসার প্রভাষকরা (আরবি), যাদের স্কেল ২৯,০০০ টাকা তারা আলিম মাদরাসায় উক্ত পদে যতদিন চাকরি করুন, উপাধ্যক্ষ বা অধ্যক্ষ হতে পারবে না--এটা বড়ই নির্মম ও অবমাননাকর এবং অবমূল্যায়ন। দাখিল মাদরাসার সহ-সুপার আলিম মাদরাসার উপাধ্যক্ষ হতে পারবে আর প্রভাষক তার অধীনে চাকরি করবেন, আবার দাখিল মাদরাসার সুপার আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ হতে পারবেন, অথচ আলিম প্রভাষক হয়ে অধ্যক্ষ হতে পারবে না, তার অধীনে চাকরি করবে এটা বড়ই অবমাননাকর। বিষয়টা সুবিবেচনায় নেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। পূর্বে জনবল কাঠামো  ছিল যে, প্রভাষকরা ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে অধ্যক্ষ হতে পারতেন। তাছাড়া সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যে অনুপাত (৫:২) রাখা হয়েছে, তাতে সহকারী অধ্যাপক পদে প্রভাষকদের যাওয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে ১১.৪ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে।

 

আবার পূর্বের জনবল কাঠামোতে প্রভাষকদের ২ বছর চাকরির পর যে উচ্চতর স্কেল দেওয়া হতো, তাও বাতিল করা হয়েছে। যদি তাদের এই উচ্চতর স্কেল রেখে ১০ বছর ও ৬ বছর পরে দুটি টাইমস্কেল দেওয়া হতো, তাহলে তারা ৬ নং গ্রেডেও যেতে পারতেন এবং তাদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া যেত। যেমন সহকারী মৌলভিরা শুরুর স্কেল ১২,৫০০ থেকে বিএমএড অথবা কামিল পাস হলে ফুল ১৬,০০০ স্কেল তারপর দুটি টাইমস্কেল পেয়ে তারা সহসুপার স্কেল অর্থাৎ ২৩,০০০ টাকা পাবেন।

তেমনটি যদি প্রভাষকরা শুরুর স্কেল ২২,০০০ টাকা থাকে দুই বছর পর উচ্চতর স্কেল ২৩,০০০ টাকা পেতেন, তারপর দুটি টাইমস্কেল হলে ওই দাখিল মাদরাসার ধারায় প্রভাষকরা ও আলিম মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ পদের স্কেলে অর্থাৎ ৩৫,৫০০ টাকা পেতেন। তাহলে দাখিল মাদরাসার ধারা ও আলিম মাদরাসার ধারা বহাল থাকত। কিন্তু নতুন জনবল কাঠামোতে দাখিল স্তরে করা হয়েছে, আলিম স্তরে তা করা হয়নি। সহকারী মৌলভি ১৬ বছর পর যে স্কেল অর্থাৎ ২৩,০০০ টাকা পাবেন, প্রভাষকরা সে স্কেলে অর্থাৎ ২৩,০০০ টাকা দশ বছর পর পাবেন। এটা কি একটি বিধান হলো? এটা বড়ই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় এবং বিষয়গুলো অতি জনগুরুত্বপূর্ণ ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিধায় জনবল কাঠামোটি সংশোধনীর বিশেষ দাবি রাখে।  

 লেখক : প্রভাষক, ইসমাইলপুর রহমানিয়া সিনিয়র মাদরাসা, বদলগাছী, নওগাঁ।

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও থাকছে না জিপিএ ৫ - dainik shiksha প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও থাকছে না জিপিএ ৫ প্রাথমিকের প্রতিটি শিশুই হবে ডিকশনারি: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha প্রাথমিকের প্রতিটি শিশুই হবে ডিকশনারি: গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সাধারণ শিক্ষায় কারিগরি ট্রেড ও শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা (ভিডিও) - dainik shiksha সাধারণ শিক্ষায় কারিগরি ট্রেড ও শিক্ষামন্ত্রীর ব্যাখ্যা (ভিডিও) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণ - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ভর্তির যোগ্যতা নির্ধারণ নবজাগরণের অগ্রদূত আহমদ ছফা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন - dainik shiksha নবজাগরণের অগ্রদূত আহমদ ছফা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন মাদরাসায় নবসৃষ্ট পদ পূরণে টাকার হিসেব চেয়েছে মন্ত্রণালয় - dainik shiksha মাদরাসায় নবসৃষ্ট পদ পূরণে টাকার হিসেব চেয়েছে মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তিতে মহিলা কোটার পদ নির্ধারণে শাখাভিত্তিক আলাদা হিসাব নয় - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে মহিলা কোটার পদ নির্ধারণে শাখাভিত্তিক আলাদা হিসাব নয় ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদন ১০ লাখ ৩৫ হাজার - dainik shiksha ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনে আবেদন ১০ লাখ ৩৫ হাজার ঢাকা বোর্ডে এসএসসির ট্রান্সক্রিপ্ট বিতরণ শুরু ২৫ জুন - dainik shiksha ঢাকা বোর্ডে এসএসসির ট্রান্সক্রিপ্ট বিতরণ শুরু ২৫ জুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website