please click here to view dainikshiksha website

ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষায় অব্যবস্থাপনা: বঞ্চিতরা পরীক্ষা দিতে পারবেন ২০ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ১২, ২০১৮ - ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত আট ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় দুটি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারেননি চাকরিপ্রার্থীরা। পরীক্ষা বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীদের জন্য আগামী ২০ জানুয়ারি নতুন করে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, মিরপুর বাংলা কলেজ কেন্দ্রে চার হাজার এবং মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ১৬০০ চাকরিপ্রত্যাশীর পরীক্ষা দিতে পারেননি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০ জানুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা একই কেন্দ্রে তাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত অন্য কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

এর আগে শুক্রবার(১২জানুয়ারি) আসন না থাকায় ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা হযরত শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। বিকাল ৫টার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম ও ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন খান পরীক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

সরকারি আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘সিনিয়র অফিসার (সাধারণ)’ পদে নিয়োগ পরীক্ষার একটি কেন্দ্র ছিল ওই কলেজ। আসন দিতে না পারায় পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পরীক্ষা স্থগিত করেন কলেজের অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিন।

ঢাকার শাহ আলী মহিলা কলেজের কেন্দ্রে আট হাজার ৪৬৭ জনের পরীক্ষা নেয়ার জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা না রাখায় বিক্ষোভ শুরু করেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষায় না বসে তারা সবাই কলেজের মাঠে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে তারা কলেজ ভবনের জানালা ভাঙচুর করেন। পরীক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, ৪০-৫০ জনের রুমে ১০০-১৫০ জনের বসার ব্যবস্থা করা হয়। তারপরও সবাইকে আসন দিতে পারেনি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এরপর ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা কলেজের জানালা-দরজা ভাঙচুর করেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।

সংক্ষুব্ধ একজন প্রার্থী দৈনিকশিক্ষাকে টেলিফোনে জানান, ঢাকার শাহ আলী মহিলা কলেজের নতুন ভবনের ২০৪ নং রুমে মোট বেঞ্চ ১৪টা, পরীক্ষার্থী ১৫০। এত অব্যবস্থাপনা জীবনেও দেখিনি।পরীক্ষার হল নয় যেন প্রাইমারি স্কুলের ক্লাসরুম। কোনো সিটপ্ল্যান নেই, প্রশ্ন দিয়েছে দেরিতে। যারা দাঁড়িয়েছিল তাদেরকে লাইব্রেরিতে যেতে বলা হল অথচ লাইব্রেরিতেও জায়গা ছিল না।’

মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে পরীক্ষা দিয়েছেন এমন একজন প্রার্থী জানান, ‘কোন সিট প্লান নাই। রুমে ২০ টা ছোট বেঞ্চ ছিল। পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১০০ জন। পরীক্ষা দিয়েছে ৭০ জন। হল গার্ড দিয়েছে একজন মহিলা শিক্ষক। রুম নম্বর ১২৮। হট্টগোল, বিশৃখলা মধ্য দিয়ে পরীক্ষা শেষ। গ্রুপ ডিসকাস করেই এক্সাম দিয়েছে পরীক্ষার্থীর।’

এক রিট আবেদনে এ পরীক্ষা হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতের আদেশে এই পরীক্ষা নেয়ার পথ তৈরি হয়। আগের ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের এই এমসিকিউ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আটটি ব্যাংকে মোট ১৬৬৩টি শূন্য পদে নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৪টি

  1. শেখ তাহের, গোবিন্দগঞ্জ, গাইবান্ধা। says:

    বিনা পয়সায় আবেদন না করে বরং বিসিএসের মত টেলিটকে যদি সাত/আটশত টাকা কেটে নিয়ে তবু, তবুও যদি প্রতিটি #বিভাগ ওয়ারী পরীক্ষা গুলো নিতো তাহলে (০১) এরকম ঝামেলা হতো না। (০২) ঢাকায় গিয়ে প্রার্থী প্রতি গাড়ীভাড়া যাতায়াত দুই/তিন হাজার টাকা নষ্ট হতোনা। (০৩) এমনকি অভাবী, দুস্থ ও গরীব ক্যান্ডিডেটরাও পরীক্ষায় অ্যাটেন্ড করতে পারতো।

    … বাচ্চারা সবই বোঝে, কিন্তু এই সামান্য সহজ বিষয়টা বোঝেনা? বেশি উদারতা নাকি প্রার্থীদের সাথে ফাইজলামি?? শয়তান!!

  2. shoman says:

    প্রতি বিভাগে ব্যাংক পরীক্ষা চাই।।।।।

  3. হিমেল says:

    যারা প্রবেশ পত্র তুলতে পারেনি তাদেরও প্রবেশ পত্র দিয়ে পরীক্ষা দেবার সুযোগ করে দিন।

আপনার মন্তব্য দিন