please click here to view dainikshiksha website

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ৩, ২০১৭ - ২:৩২ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকটের মধ্যে ছয়জন শিক্ষার্থী আমরণ অনশন শুরু করেছেন।

আইন বিভাগের এক শিক্ষককে চাকরিচ্যুতির নোটিশের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকটের পঞ্চম দিনে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ছয় শিক্ষার্থী আমরণ অনশনে যান।

অনশনকারী শিক্ষার্থীরা হলেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ইয়াসিনুর রহমান, আইন বিভাগের কামরুন নাহার, ইরফানুল রহমান, সাদিয়া আফরিন, শেখ নোমান এবং ম্যাথমেটিক্স ও ন্যাচারাল সায়েন্স বিভাগের আকাশ আহমেদ।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার থেকেই দুই দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে যেসব পরীক্ষা চলমান রয়েছে, তা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। এর মাঝেই ছয় শিক্ষার্থী অনশন করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজও বিক্ষোভ করছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চুক্তিতে থাকা শিক্ষক ফারহান উদ্দিন আহমেদকে গত ৩০ জুলাই মানবসম্পদ বিভাগ থেকে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানালে রেজিস্ট্রার বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা তাঁর আইডি কার্ড নিয়ে নেন, তাঁকে লাঞ্ছিত করেন। এরপর থেকেই মহাখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

অনশনে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুন নাহার বলেন, ‘আমরা রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ চাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরুষ নিরাপত্তাকর্মীরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের গাঁয়ে বাজেভাবে হাত দিয়েছেন, লাঞ্ছিত করেছেন। এর বিচার আমরা চাই। যতক্ষণ না বিচার হবে, ততক্ষণ আমাদের অনশন চলবে।’

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ১ আগস্ট বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্র-ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করা হয়। এই ঘটনায় তাঁরা সরকারের কাছে বিচার চান।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টা থেকে মহাখালীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের সামনে ও পাশের সড়কে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সড়কে বসে অবস্থান নেন। বেলা ১১টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন ছয় শিক্ষার্থী।

অনশনরত শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের দাবিতে অনশন, তবুও চুপ প্রশাসন’, ‘বোনের গাঁয়ে হাত কেন? বিচার চাই, জবাব চাই’, ‘অনশন অনশন, বিচার চাই, বিচার চাই’ প্রভৃতি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।

এদিকে শিক্ষক ফারহান উদ্দিন মামলা করার জন্য আজ ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালতে গেছেন বলে জানা গেছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা ফারহান উদ্দিনের চাকরির পুনর্বহালেরও দাবি জানিয়েছে।

সংকট সমাধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামসহ পাঁচ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি পুনর্গঠন করেছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন