ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে শিক্ষক সংকট, পাঠদান ব্যাহত - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে শিক্ষক সংকট, পাঠদান ব্যাহত

গাজীপুর প্রতিনিধি |

জেলার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজটি বর্তমানে শিক্ষক সংকটসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এতে কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দের ১ জুলাই স্থানীয় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পার্শ্বে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ৬৫ বিঘা জমির ওপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটির উত্তর সীমানায় রয়েছে সুবৃহৎ একটি দিঘি। দিঘির বিস্তৃত পাড় জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ঔষধিবৃক্ষ পরিবেষ্টিত মনমুগ্ধকর নৈসর্গিক পরিবেশ। প্রতিষ্ঠার একযুগ পর ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১ মার্চ কলেজটি জাতীয়করণের পর থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কলেজটি পরিচালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সংসদ সদস্য শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের প্রচেষ্টায় সরকারের শিক্ষা সম্প্রসারণ নীতির আলোকে কলেজটিকে প্রথমে ১০টি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়। বর্তমানে কলেজটিতে ১৭টি বিষয়ে অনার্স ও ১৫টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। কলেজটিতে বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত। বর্তমানে কলেজটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্রের অভাব, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাব, আবাসিক সুযোগ না থাকা, কলেজ লাইব্রেরিতে বইয়ের অপ্রতুলতা, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের পরিবহন সমস্যা, বিজ্ঞানাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব, ক্যান্টিন সমস্যা, খেলাধুলার জন্য কলেজের মাঠটি ব্যবহারযোগ্য না থাকা, কলেজের পশ্চিম পাশে ৩০০ মিটার সীমানা প্রাচীর না থাকা, কলেজে শিক্ষা সহায়ক উপকরণের অভাবসহ নানা কারণে কলেজটিকে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

১৯৯৬-৯৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু হলেও এনাম কমিশনের স্টাফ প্যাটার্ন অনুযায়ী ডিগ্রি কোর্সের শিক্ষক দিয়েই কলেজের শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এনাম কমিশনের স্টাফ প্যাটার্ন অনুযায়ী প্রতি বিভাগে ১২টি করে শিক্ষকের পদ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো বিভাগেই ৫ থেকে ৮টির বেশি পদ নেই। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষকের অভাবে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে পাঠদান কার্যক্রম চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে প্রতিটি বিষয়ে একজন অধ্যাপকের পদ থাকার কথা কিন্তু একমাত্র সমাজ কর্ম বিষয়ে ছাড়া কলেজটিতে দীর্ঘদিনেও অন্য কোনো বিষয়ে অধ্যাপকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তরে অধ্যাপকের পদ সৃষ্টির জন্য আবেদন করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ছাড়া কলেজটিতে দীর্ঘদিনেও ইসলামী স্টাডিজ, মার্কেটিং, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং, মনোবিজ্ঞান, ভূগোল ও পরিবেশ বিদ্যা, পরিসংখ্যান এবং কম্পিউটার বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়নি। এ সকল বিভাগে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি যেন উক্ত বিষয়সমূহে অনার্স ও মার্স্টাস কোর্স চালু করা হয়। এ দিকে, শ্রেণিকক্ষের জন্য নির্মিত ভবনেরই একটি ক্ষুদ্র অংশ অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, লাইব্রেরি ও অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কলেজে প্রয়োজনের তুলনায় কম কর্মচারী থাকায় মাস্টার রোলে ৭৬ জন কর্মচারীকে অস্থায়ী নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। কলেজ লাইব্রেরি কক্ষটিও তেমন বড় নয় এবং কক্ষটিতে যথেষ্ট পরিমাণ ছাত্রছাত্রীর একত্রে বসে পড়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনেও কলেজটিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য কোনো আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়নি। কলেজের অধিকাংশ শিক্ষককে ঢাকা বা দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে এসে ক্লাস নিতে হয়। কলেজের শিক্ষক বা ছাত্রছাত্রীদের নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া, কলেজে কোনো ডরমিটরি এবং অডিটোরিয়াম ভবন না থাকায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

অপরদিকে, কলেজ ক্যম্পাসের পূর্বপাশে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে কলেজ অধ্যক্ষের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি একতলা বাসভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও যে, আজ পর্যন্ত কোনো অধ্যক্ষই সেই বাসভবন ব্যবহার বা বসবাস করেননি। ফলে বছরের পর বছর অধ্যক্ষের জন্য নির্মিত এ ভবনটি অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অধ্যক্ষের জন্যে নির্মিত এ ভবনটি অকেজো ঘোষণা করা হয়েছে।

কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর জেরিনা সুলতানা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি রাজধানী ঢাকার অতিনিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও অবহেলিত। শিক্ষক স্বল্পতা, ভৌত অবকাঠামোর অভাবসহ নানাবিধ সমস্যার মধ্যে কলেজটি পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় - dainik shiksha শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয় হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha হঠাৎ রাজধানীর ৩ স্কুলে প্রতিমন্ত্রী, ৫ শিক্ষককে শোকজ ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের - dainik shiksha ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে কর্মবিরতির হুমকি প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরী নিয়োগের নীতিমালা প্রকাশ এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website