ভিন্নমত থাকলেই কি পিটিয়ে মারা যায়? - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

ভিন্নমত থাকলেই কি পিটিয়ে মারা যায়?

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। ভিন্নমত প্রকাশ এবং বিরোধীদের অধিকার চর্চার পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুযোগ প্রদান এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই গণতন্ত্র পুরোপুরি বিকশিত হতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দেশে কোনো সরকারের আমলেই জনগণ ভালোভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করার সুযোগ পায়নি। পাশাপাশি বিরোধীদের অধিকার চর্চার পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুযোগও সুনিশ্চিত করা হয়নি, যা প্রকৃত গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য নয়। এ দেশে ভিন্নমত প্রকাশকারীদের সব সরকারের আমলেই নানাভাবে নির্যাতিত-নিপীড়িত ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং এখনো হতে হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এ দেশে ভিন্নমত প্রকাশ করার কারণে অনেককে বিভিন্ন সরকারের আমলে হত্যারও শিকার হতে হয়েছে। আর এ ধরনের হত্যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে। গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টার দিকে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একতলা থেকে দোতলায় ওঠার সিঁড়ির মধ্য থেকে আবরারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিভিন্ন গণমাধ্যম মারফত জানা যায়, ওই রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে পিটিয়ে মারা হয়। উদ্ধারকৃত ভিডিও ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক সব আলামতে এটি স্পষ্ট যে খুনটা করেছে বুয়েট ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আবরারকে কেন নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হলো? তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভারত-বাংলাদেশের অসম সম্পর্ক নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলার কারণে? সরকারপন্থী দলের সমর্থক না হয়ে ভিন্ন দলের সমর্থক হওয়ার কারণে, নাকি ভিন্নমত প্রকাশ করার কারণে? এসব কারণে কি কাউকে হত্যা করার সুযোগ কোনো দেশের কোনো আইনে এবং কোনো দলের গঠনতন্ত্রে আছে? এসব কারণে ছাত্রলীগকে কি কাউকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে? শুক্রবার (১১ অক্টোবর) কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ তথ্য জানা যায়।

নিবন্ধে আরও বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহাজোটের সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য, দখলদারি, চাঁদাবাজি, ত্রাস ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আর মহাজোটের সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও যে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, তা নয়। বরং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের মতো ঠিক ওই একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ যেন মুদ্রার এপিঠ আর ওপিঠ। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের আগে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা শূন্যের কোঠায় বিরাজ করে। স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনীতি, ভিন্নমতকে সহ্য করতে না পারা আর রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভাব—এসব অস্থিতরতার মূল কারণ। এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯, ২০১০ ও ২০১১—এই তিন বছরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছে ১৮ জন ছাত্র। অন্য এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ৪৫ বছরে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩২ জন শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, রাজনৈতিক কারণে এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। রাজনৈতিক ক্ষমতার জোরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেও ‘ছাত্র’ নামধারী সন্ত্রাসীরা বারবার রেহাইও পেয়ে গেছে। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র হত্যা হলেও শেষ পর্যন্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বিচার না হওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধারাবাহিক এসব অস্থিরতা কিসের আলামত বহন করে? এসব অস্থিরতার মাধ্যমে দেশ-জাতিকে মেধা ও নেতৃত্বশূন্য করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি কোনো অশুভ চক্র বা অশুভ কোনো শক্তির যোগসূত্রতা রয়েছে কি না, তা সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের ভালোভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যথার্থই বলেছেন, ‘ভিন্নমত থাকলেই কাউকে পিটিয়ে মারা যায় না। যারাই অপরাধী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীরা শেষ পর্যন্ত শাস্তি পাবে কি? অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ যেভাবে ছাড় পেয়ে গেছে, ঠিক তেমনিভাবে আবরার ফাহাদের হত্যাকারীরাও শেষ পর্যন্ত ছাড় পেয়ে যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ড. কুদরাত-ই-খুদা বাবু : সহযোগী অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি; অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক সদস্য।

কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? - dainik shiksha কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত - dainik shiksha ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত বিশেষ সম্প্রদায়ের শনিবারের জেএসসি পরীক্ষা সন্ধ্যায় - dainik shiksha বিশেষ সম্প্রদায়ের শনিবারের জেএসসি পরীক্ষা সন্ধ্যায় এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন - dainik shiksha এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন বেতন বৈষম্য নিরসন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন - dainik shiksha বেতন বৈষম্য নিরসন দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন বাবার কাছে লেখা শিক্ষা উপমন্ত্রীর বোনের শেষ চিঠি - dainik shiksha বাবার কাছে লেখা শিক্ষা উপমন্ত্রীর বোনের শেষ চিঠি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২০ অক্টোবর - dainik shiksha ভোকেশনাল নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু ২০ অক্টোবর পুলিশ যেভাবে আটকে দিল ননএমপিও শিক্ষকদের পদযাত্রা (ভিডিও) - dainik shiksha পুলিশ যেভাবে আটকে দিল ননএমপিও শিক্ষকদের পদযাত্রা (ভিডিও) ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় তদারকিতে কঠোর হতে ইউজিসিকে বললেন প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয় তদারকিতে কঠোর হতে ইউজিসিকে বললেন প্রধানমন্ত্রী please click here to view dainikshiksha website