ভুয়া কাগজে উচ্চতর স্কেল আবেদনের অভিযোগ - বিবিধ - Dainikshiksha

ভুয়া কাগজে উচ্চতর স্কেল আবেদনের অভিযোগ

রুম্মান তূর্য |

ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে উচ্চতর স্কেল পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট আইডিয়াল কলেজের সহকারী অধ্যাপক সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে। আর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহীম এ আবেদনের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের একটি কপি পেয়েছে দৈনিক শিক্ষা।     

গত ৫ অক্টোবর অধ্যক্ষ সুলতানা রাজিয়া চাকরির ৮ বছর পূর্তিতে উচ্চতর স্কেল প্রদানের জন্য অনলাইন আবেদন করেন। তখন এ সংক্রান্ত কাগজপত্র উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠান তিনি। এ আবেদন চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর উচ্চতর স্কেল মঞ্জুর করে। আবেদনের একাডেমিক যোগ্যতায় সুলতানা রাজিয়াকে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে এসএসসিতে ২য় বিভাগ, ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে এইচএসসিতে কম্পার্টমেন্টাল, ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে অনার্সে ২য় শ্রেণি এবং ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে স্নাতোকত্তোরে ২য় শ্রেণিতে পাস দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে সুলতানা রাজিয়া ডিগ্রি পাস।  

আবেদন অনুযায়ী এসএসসি পাসের দুই বছরের মধ্যে ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে এইচএসসি পাস করেন সুলতানা রাজিয়া। এরপর এইচএসসির দুই বছরের মধ্যে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ২য় শ্রেণিতে অনার্স পাস করেন তিনি। তবে কম্পার্টমেন্টালে এইচএসসি পাসের দুই বছরের মধ্যে কিভাবে তিনি অনার্স পাস করেন তা বোধগম্য নয়। অভিযোগে বলা হয়, এসব ভুয়া কাগজ পত্র তৈরি করে সুলতানা রাজিয়ার উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির কাযকর্ম এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন অধ্যক্ষ। 

২০১৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর টাঙ্গাইলের জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানের অপর এক শিক্ষক। এ প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার ধনবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি জানালে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

অপরদিকে টাঙ্গাইল ধনবাড়ী উপজেলার ভাইঘাট আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুর রহীমের নিয়োগ সঠিক নয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন না করে বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে চাকরি গ্রহণ করেছেন। এছাড়া যোগদান পত্র পেশ করেই কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। 

প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের সময় মো. আবদুর রহীমের চাকরির বিরতিকাল ছিলো ২ বছর ২৭ দিন। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭ আগস্ট তাকে অর্থ আত্মসাৎ দুর্নীতির অভিযোগে টাঙ্গাইলের এইচ এম ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিলো। জানা যায়, এইচএম ইনস্টিটিউটের ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও সরকারি আদেশ না মানায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিলো। 

কিন্তু এইচ এম ইনিস্টিটিউট থেকে নেওয়া মো. আবদুর রহীমের অভিজ্ঞতার সনদে বরখাস্তের কথা উল্লেখ নেই। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর ইস্যু করা এইচ এম ইনিস্টিটিউটের সভাপতি স্বাক্ষরিত অভিজ্ঞতার সনদে বলা হয় মো. আবদুর রহীমের বিরুদ্ধে কোন অর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নেই। অভিযোগ রয়েছে মো. আবদুর রহীম নিজে এ অভিজ্ঞতার সনদ তৈরি করেছেন।  

অভিযোগে আরও বলা হয়, যোগদানের পর থেকে কোন জাতীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন না মো. আবদুর রহীম। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় এলাকাবাসী কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে গত ২২ এপ্রিল অভিযোগ করেন। অভিযোগে জাতীয় অনুষ্ঠান ও সরকারি আদেশ পালন না করার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন করা হয়। 

এর পর অধ্যক্ষ আব্দুর রহীম নোটিস খাতার নোটিস সংশোধন করতে থাকেন। এমনকি নোটিস খাতায় অধ্যক্ষ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ১৭ মার্চের পরিবর্তে ১৭ এপ্রিল বানিয়ে ফেলেন। নোটিস খাতায় ১৭ এপ্রিলকে জাতীয় শিশু দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন লিখে সে অনুযায়ী কাগজপত্র তৈরি করা হয়। 

তবে জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি অধ্যক্ষ মো. মো. আবদুর রহীম।   

ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিতর্ক - dainik shiksha ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিতর্ক প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ৫ দিন আগে অ্যাডমিট না পেলে যা করবেন - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ৫ দিন আগে অ্যাডমিট না পেলে যা করবেন নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website