মগজ ধোলাই - মতামত - Dainikshiksha

মগজ ধোলাই

আবুল কাসেম ফজলুল হক |

প্রচার মাধ্যম, রাজনৈতিক দল, সিএমও, এনজিও, শিক্ষাব্যবস্থা, সামাজিক পরিবেশ ইত্যাদি প্রতিনিয়ত এমনভাবে কাজ করছে যে, আমাদের ইচ্ছার স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, পছন্দ-অপছন্দের স্বাধীনতা হারিয়ে যাচ্ছে। ঔচিত্য-অনৌচিত্য ও কর্তব্য-অকর্তব্যের বোধ আমরা হারিয়ে চলছি। আমাদের মগজ ঠিক থাকছে না। আমাদের যেটুকু স্বকীয়তা, মগজ বদলে যাওয়ার ফলে তা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চলছি অন্যদের ইচ্ছা অনুযায়ী- অন্যদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। স্বাধীনতাহীনতার এই ব্যাপারটি আমাদের গভীরভাবে বোঝা দরকার। আমাদের স্বকীয় সত্তা বজায় রেখে জীবনযাপন করা দরকার। পরিবেশের প্রভাবে, বিশেষ করে কোনো কোনো মহলের পরিকল্পিত কার্যক্রমের কারণে, যে পরিবর্তন আমাদের সত্তার হয়ে যাচ্ছে, তাকে মগজ ধোলাই বলা যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের ধারণা যাতে স্পষ্ট হয় তার চেষ্টা করব। প্রাসঙ্গিক বিবেচনা করে প্রথমে প্রমথ চৌধুরীর একটি দীর্ঘ উক্তি উদ্ধৃত করছি। এই উক্তি আজ থেকে ১০৬ বছর আগের : “অতিনিন্দা ও অতিপ্রশংসা উভয়ই সমান জঘন্য। কারণ অত্যুক্তির ‘অতি’ শুধু সুরুচি ও ভদ্রতা নয়, সত্যেরও সীমা অতিক্রম করে যায়। এক কথায় অত্যুক্তি মিথ্যোক্তি। মিথ্যা কথা মানুষে বিনা কারণে বলে না। হয় ভয়ে না হয় কোনো স্বার্থসিদ্ধির জন্য লোকে সত্যের অপলাপ করে। সম্ভবত অভ্যাসবশত মিথ্যেকে সত্যের অপেক্ষা অধিক মাত্রায় কেউ কেউ চর্চা করে। কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে মিথ্যা কথা বলা চর্চা করলে ক্রমে তা উদ্দেশ্যবিহীন উদ্দেশ্যে পরিণত হয়। বাংলা সাহিত্যে আজকাল যেরূপ নির্লজ্জ অতিপ্রশংসার বাড়াবাড়ি দেখতে পাওয়া যায়, তাতে মনে হয় যে তার মূলে উদ্দেশ্য এবং অভ্যাস দুই জিনিসই আছে। এক একটি ক্ষুদ্র লেখকের ক্ষুদ্র পুস্তকের যে সব বিশেষণে স্তুতিবাদ করা হয়ে থাকে সেগুলো বোধহয় শেক্সপিয়রের কিংবা কালীদাসের সম্বন্ধে প্রয়োগ করলেও একটু বেশি হয়ে পড়ে। সমালোচনা এখন বিজ্ঞাপনের মূর্তি ধারণ করেছে। তার থেকে বোঝা যায় যে, যাতে বাজারে বইয়ের ভালো রকম কাটতি হয় সেই উদ্দেশ্যে আজকাল সমালোচনা লেখা হয়ে থাকে। যে উপায়ে পেটেন্ট ওষুধ বিক্রি করা হয় সেই উপায়েই সাহিত্যও বাজারে বিক্রি করা হয়। লেখক-সমালোচক হয় একই ব্যক্তি, নয় পরস্পরের একই কারবারে অংশীদার। আমার মাল তুমি যাচাই করে পয়লা নম্বরের বলে দাও, তোমার মাল আমি যাচাই করে পয়লা নম্বরের বলে দেব- এই রকম একটা বন্দোবস্ত পেশাদার লেখকদের মধ্যে যে আছে, এ কথা সহজেই মনে উদয় হয়। এই কারণেই পেটেন্ট ওষুধের মতোই এ কালের ছোটগল্প কিংবা ছোট কবিতার বই মেধা হ্রী ধী শ্রী প্রভৃতির বর্ধক এবং নৈতিক বলকারক বলে উল্লিখিত হয়ে থাকে। কিন্তু এরূপ কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে পাঠক নিতান্তই প্রতারিত এবং প্রবঞ্চিত হন। যা চ্যাবনপ্রাস বলে কিনে আনা হয় তা দেখা যায় প্রায়ই অকালকুষ্মাণ্ডমাত্র।”

প্রমথ চৌধুরী কথাগুলো বলেছেন ১০৬ বছর আগের কলকাতা-কেন্দ্রিক সাহিত্য-সমালোচনা ও সাহিত্য-পরিস্থিতি সম্পর্কে। ঢাকা-কেন্দ্রিক আজকের সাহিত্য-সমালোচনা, সাহিত্য ও সাহিত্য-পরিস্থিতি কেমন? ঢাকা-কেন্দ্রিক জাতীয় রাজনীতি ও জাতীয় অর্থনীতি ও জাতীয় সংস্কৃতিই বা কেমন? সমাজের উচ্চস্তরের শতকরা দশ ভাগ লোক বর্তমান অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। বর্তমান অবস্থায় তারা সোনার বাংলা উপভোগ করছেন। সব প্রচার মাধ্যম চলমান আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক ভিত্তি বজায় রেখে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ইত্যাদির অবসান, সুষ্ঠু নির্বাচন আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাইছে। সমাজের নিচের স্তরের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ ঘুমন্ত। কায়েমি-স্বার্থবাদীরা নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিল করে নেয়ার জন্য হুজুগ সৃষ্টি করে। সমাজের নিচের স্তরের শতকরা নব্বইভাগ মানুষ হুজুগে মাতে। হুজুগে সাড়া দিয়ে তারা কিছুই লাভ করে না, কেবল প্রতারিত হয়। তবু তারা হুজুগের পর হুজুগে মাতে। গণজাগরণ তখনই দেখা দেয় যখন জনগণের সামনে মহান লক্ষ্য থাকে, মহান নেতৃত্ব থাকে এবং জনগণের মধ্যে মহান মানবীয় গুণাবলি জাগ্রত ও সক্রিয় থাকে। এখন জনচরিত্র কি উন্নত? হুজুগ আর গণজাগরণ এক নয়। যে জনসাধারণ যখন যেমন নেতৃত্বের যোগ্য হয় সেই জনসাধারণ তখন ঠিক সেই রকম নেতৃত্বই লাভ করে। জনচরিত্র উন্নত হলে নেতৃত্ব উন্নত হয়, জনচরিত্র নিকৃষ্ট হলে নেতৃত্বও নিকৃষ্ট হয়। বাংলাদেশে বর্তমান সর্বত্রই মিথ্যার প্রাধান্য এবং সত্য শক্তিহীন। প্রমথ চৌধুরী পূর্বোক্ত লেখাটিতে আরো লিখেছেন :

“অতি বিজ্ঞাপিত জিনিসের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অতি কম। কারণ মানবহৃদয়ের স্বাভাবিক দুর্বলতার উপর বিজ্ঞাপনের বল এবং মানবমনের সরল বিশ্বাসের উপর বিজ্ঞাপনের ছল প্রতিষ্ঠিত। যখন আমাদের একমাথা চুল থাকে তখন আমরা দেশবর্ধক তৈলের বড় একটা সন্ধান রাখিনে। কিন্তু মাথায় যখন টাক চকচক করে ওঠে তখনই আমরা ‘কুন্তলবৃষ্যে’র স্মরণ করে নিজেদের অবিমৃষ্যকারিতার পরিচয় পাই এবং দিই। কারণ তাতে টাকের প্রসার ক্রমশই বৃদ্ধি পায় এবং সেই সঙ্গে টাকাও নষ্ট হয়। বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য আমাদের মন ও নয়ন আকর্ষণ করা। বিজ্ঞাপন প্রতি শব্দের শেষে প্রশ্ন করে- ‘মনোযোগ করেছেন তো?’ আমাদের চিত্ত আকর্ষণ করতে না পারলেও বিজ্ঞাপন চব্বিশ ঘণ্টা আমাদের নয়ন আকর্ষণ করে থাকে। ও জিনিস চোখ এড়িয়ে যাওয়ার জো নেই। কারণ এ যুগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনের প্রবন্ধের গা ঘেঁষে, মাসিক পত্রিকায় শিরোভূষণ হয়ে দেখা দেয়; এক কথায় সাহিত্যজগতে যেখানেই একটু ফাঁক দেখে সেখানেই এসে জুড়ে বসে। ইংরেজি ভাষায় একটি প্রবচন আছে যে, প্রাচীরেরও কান আছে। এ দেশে সে বধির কিনা জানিনে, কিন্তু বিজ্ঞাপনের দৌলতে মূক নয়। রাজপথের উভয় পাশের্^র প্রাচীর মিথ্যা কথা তার স্বরে চিৎকার করে বলে। তাই আজকাল পৃথিবীতে চোখ কান না বুজে চললে বিজ্ঞাপন কারো ইন্দ্রিয়ের অগোচর থাকে না। যদি চোখ কান বুজে চল তাহলেও বিজ্ঞাপনের হাত থেকে নিস্তার নেই। কারণ পদব্রজেই চল আর গাড়িতেই যাও, রাস্তার লোকে তোমাকে বিজ্ঞাপন ছুড়ে মারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কোনো কথা নেই, ছুড়ে মারাই বিজ্ঞাপনের ধর্ম। তার ভাষা ছুড়ে মারে, তার ভাব ছুড়ে মারে।…”

একশ ছয় বছরের ব্যবধানে প্রায় সব কিছু বদলে গেছে। তবু প্রমথ চৌধুরীর এই পর্যবেক্ষণ আজো পাঠকের চিত্ত আকর্ষণ করে। বিজ্ঞাপন সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ আজো আমাদের সামনে সত্যকে প্রকটিত করে। আমরা বর্তমান বাস্তবতা বুঝতে পারি। তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যেভাবে ইতিহাস বোঝানো হয়, তা অনেকটা প্রমথ চৌধুরী বর্ণিত এই বিজ্ঞাপনের মতো। সাধারণ মানুষ ঘুমন্ত। সাধারণ মানুষ হুজুগে। ‘হুজুগে বাঙালি’- কথাটা অনেক দিন ধরে বলা হয় না বটে; কিন্তু এক সময়ে খুব বলা হতো। এখন কায়েমি স্বার্থবাদীরা হুজুগকে বলে ‘গণজাগরণ’। হুজুগে বাঙালি তাতে খুশি হয় এবং নতুন হুজুগে মাতে। দেশে চিন্তাশীলতা নেই। চিন্তাশীল কিছু ব্যক্তি দেশে থাকলে বলতেন- দেখিয়ে দিতেন যে, হুজুগে বাঙালির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। হুজুগে বাঙালি ইতিহাস বিবৃতিতে যেভাবে সাড়া দেয় তার ফল অবশ্যই খারাপ হয়। বড় রকমের ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে চললে চলমান ইতিহাস এক সময়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে বহু লেখক আছেন। তারা দেশে-বিদেশে পুরস্কৃত হচ্ছেন। পুরস্কার এমনভাবে সাজানো যে, তাতে সৃষ্টিশীলতার প্রতি, জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি, প্রতিজ্ঞার প্রতি কোনো দৃষ্টি নেই। আমি বলতে চাইছি, বাংলাদেশের সাহিত্য ভালো অবস্থায় নেই। বহু বই প্রকাশিত হলে, বহু লেখক থাকলেই কোনো জাতির সাহিত্যের অবস্থা ভালো হয় না। লেখক চরিত্রের প্রতি যদি লেখকদের মনোযোগ থাকত, নিজেদের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থেকে যদি তারা লিখতেন, তা হলে তাদের লেখার প্রভাবে বাংলাদেশে জনমন উন্নত হতো, ইতিহাস এভাবে বিকৃত হতো না, ভবিষ্যৎকে অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হতো না। অন্ধকারের দিকে যাওয়ায় লেখকদের ও বিশিষ্ট নাগরিকদের ভূমিকাও সহায়ক।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত যে পাঠ্যসূচি, পাঠক্রম ও পাঠ্যপুস্তক যেমন, শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা যেমন, উন্নত ভবিষ্যতের দিকে যেতে হলে অবিলম্বে তাতে মৌলিক পরিবর্তন সাধন করা দরকার। আওয়ামী লীগ সরকার এই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। ছেলেমেয়েরা জিপিএ ফাইভ, গোল্ডেন ফাইভ পাচ্ছে, মেয়েদের পরীক্ষার ফল ভালো দেখা যাচ্ছে, শিক্ষায় মেয়েদের সংখ্যাও দ্রুত বেড়ে চলছে, দেশে শিক্ষিতের হার বাড়ছে- সুতরাং সরকারের গর্বের অন্ত নেই। সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি, ক্লাস ফাইভে পাবলিক পরীক্ষা ও ক্লাস এইটে পাবলিক পরীক্ষা সরকার এসব নিয়ে পরম আনন্দে আছে। উচ্চ শিক্ষার পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে চলছে। এমফিল, পিএইচডি প্রতি বছর বাড়ছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অনেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে আসছেন। সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হয়েছে- এসবই সরকারের আনন্দের ও গর্বের কারণ। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সিবিপি, বাসদ- কোনো দলেরই শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই। দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার নয় তো কী?

বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়েও সরকার হিমশিম খাচ্ছে- বলছে যে অনেক জটিলতা আছে, …। সরকার পাকিস্তানপন্থীদের রাজাকারদের অনেক বড় শক্তি মনে করছে এবং তারা প্রবল হয়ে উঠবে- এই ধারণায় যে ধারায় চলছে সেই ধারাতেই চলতে চাইছে, কোনো পরিবর্তন চাইছে না। দেশের মানুষ মনে করছে, সরকার এত শক্তিশালী, সরকারের সামনে দাঁড়াবার মতো কোনো শক্তি তো দেশে নেই। এ অবস্থায় সরকারের ভয়ের তো কোনো কারণ নেই। সরকারি দল আওয়ামী লীগে অন্তর্বিরোধ দেখা যায়। তবে আওয়ামী লীগের একটা মৌলিক বৈশিষ্ট্য এই যে, দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাকে, দলপ্রধানকে নিঃশর্তে মেনে চলে। এ অবস্থায় জনসাধারণ আওয়ামী লীগ থেকে- বর্তমান সরকার থেকে অনেক কিছু আশা করে। যতটা দেখা যায়, সমাজের সব স্তরেই এই ধারণা বিপুল অধিকাংশের মধ্যে প্রবল যে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগই আবার সরকার গঠন করবে। স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগের কাছ থেকে, ক্ষমতাসীন সরকারের কাছ থেকে লোকের আশা খুব বেশি। বিএনপির কাছ থেকেও, জাতীয় পার্টির কাছ থেকে, সিপিবি-বাসদের কাছ থেকে লোকে খুব একটা কিছু কি আশা করে? রাজাকার, আলবদর, পাকিস্তানপন্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের এত ভয়ের কোনো কারণ কি আছে? আওয়ামী লীগ যদি কেবল সমাজের উপরতলার দশভাগ নিয়ে চলে, সমাজের নিচের তলার নব্বই ভাগের প্রতি যথোচিত গুরুত্ব না দেয় তা হলে সমস্যায় পড়তে পারে। অবশ্য নব্বই ভাগ ঘুমন্ত আছে। ঘুমন্তদের জাগালে সমস্যাও সৃষ্টি হতে পারে।

উচ্চ শ্রেণির ও উচ্চ মধ্য শ্রেণির লোকেরা যেভাবে তাদের ছেলেমেয়েদের যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ায় নাগরিক করে চলছেন এবং প্রাইভেট আলাপে বলাবলি করছেন যে, রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ভাইয়েবল নয়, তা কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্র হিসেবে দানা বেঁধে ওঠার প্রতিক‚ল। সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনগুলোর ভূমিকা নিয়ে আওয়ামী লীগ একটু-আধটু মন্তব্য করলেও তাদের নিঃরাজনীতিকরণের ও নিঃরাষ্ট্রকরণের ব্যাপারটি সরকার, আওয়ামী লীগ বুঝতে পারে বলে মনে হয় না। সিএনও এবং এনজিওদের ভূমিকা কি বাংলাদেশের রাষ্ট্র হয়ে ওঠার, রাজনৈতিক উন্নতির অনুকূল?

এই লেখার সূচনাতেই যে মগজ ধোলাইয়ের কথা উল্লেখ করেছি, বিশিষ্ট নাগরিকরা এবং আত্মবিক্রীত বুদ্ধিজীবীরা তা বুঝতে পারবেন না, বুঝতে চাইবেন না। কিছু স্বাধীনচেতা চিন্তাশীল ব্যক্তি কি বাংলাদেশে নেই। ক্ষমতার লড়াইয়ে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে যে বিশিষ্ট নাগরিকরা আছেন তারা চলমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু প্রচলিত ব্যবস্থার কিছু সংস্কারও তো দরকার।

লেখক: প্রগতিশীল চিন্তাবিদ; সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র: ভোরের কাগজ

এমপিওভুক্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের ১১২৪ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের ১১২৪ শিক্ষক নভেম্বরের এমপিওতেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওতেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ - dainik shiksha মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর - dainik shiksha ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ এমপিওভুক্ত হচ্ছেন মাদরাসার ২০৭ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন মাদরাসার ২০৭ শিক্ষক বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ ২৮৮ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত - dainik shiksha ২৮৮ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website