শিক্ষকদের সঙ্গে কানামাছি খেলার কোনো অর্থ হয় না - মতামত - Dainikshiksha

শিক্ষকদের সঙ্গে কানামাছি খেলার কোনো অর্থ হয় না

ড. এএইচএম কামাল |

নতুন ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আগে শিক্ষকদের আশ্বস্ত করা হয় যে, বাজেটে বরাদ্দ পেলেই এমপিওভুক্তির কাজ শুরু হবে। দেশের ৫২৪২টি স্কুল ও তাদের শিক্ষক-কর্মচারীরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। বাজেটে সে লক্ষ্যে আলাদা বরাদ্দ ও দিকনির্দেশনা থাকবে। কিন্তু তারা হতাশ হন যখন দেখতে পান যে, তাদের চাহিদামতো বাজেটে আলাদা করে এ বিষয়টি উল্লেখ নেই। ফলে তারা আবার আন্দোলনে নামেন। সরকার তাদের আন্দোলনের সঙ্গে তাল রেখে সম্প্রতি 'বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০১৮' জারি করে। তাতেই শিক্ষকরা আশ্বস্ত হতে না পেরে তাদের আন্দোলন চলমান রাখেন। এদিকে সরকারও তাদের এমপিওভুক্তিকরণের লক্ষ্যে নীতিমালার ধারা-১৬ মোতাবেক কমিটি করে দেয়। একই সঙ্গে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের জন্য আরও একটি কমিটি করে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করা হয় যে, হাজারখানেক স্কুল-কলেজকে এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে কাজ চলছে। শিক্ষকদের আশার অঙ্কে সম্ভাব্যতা ঢুকে গেল। কারণ কে পাবে কে পাবে না অগ্রিম বোঝার উপায় নেই। ফলে আমরণ অনশনের ডাক এলো। 

পাতলা গামছায় চোখ বেঁধে শিক্ষকদের সঙ্গে এই কানামাছি কানামাছি খেলার কোনো অর্থ হয় না। শিক্ষকদের কিছু দেওয়ার আগেই কেবল প্যান্ট-পকেট বা মানি ব্যাগে না হাতিয়ে বুক-পকেটে হাতানো হয়। এবার অজুহাত উঠেছে, টাকা নেই। মাত্র মাসে ১৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের সামর্থ্য একটি রাষ্ট্রের নেই। টাকার পরিমাণ সামান্যই বটে। কেননা এ টাকার জন্য যদি ১৬,৩৬৪ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা যায় এবং পোস্ট অফিসেও সঞ্চয়পত্র কিনে রাখা যায়, তাহলে মাসে ১৫০ কোটি টাকা মুনাফা হবে। প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার হিসাব দেখলে অর্থমন্ত্রী হয়তো বলবেন, এত টাকা নেই। কিন্তু বড় নির্মম সত্য হলো যে, তার চেয়েও বড় বড় অঙ্কের টাকা গাছেই ছিল, চুরি হয়ে যাচ্ছে। যেমন- খেলাপি ঋণ। এগুলো সংগ্রহ করলেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতার আজীবন জোগান-সূত্র হবে। এমনকি চাইলে স্বল্প পরিসরে পেনশন স্কিম পর্যন্ত চালু করা সম্ভব। 

এলটিইউ কর্তৃপক্ষের দাবিমতে, এখন পর্যন্ত আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন, এয়ারটেলের মতো দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলো ৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে, যা আদায়ের জন্য মামলা চলছে। রাজস্ব আদায় পলিসিতে দুর্বলতা না থাকলে এসব বহুজাতিক কোম্পানি এত বড় অঙ্কের রাজস্ব না দিয়ে আদালতে যাওয়ার সুযোগ পায় কী করে? যেখানে এত বড় বড় অঙ্কের টাকা দু'একটি প্রতিষ্ঠান মিলে ফাঁকি দিয়ে মারছে, সেখানে এত এত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন জোগাতে এত হিসাব কেন?

রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে ঝামেলার দরুন বন্দরে মাঝেমধ্যেই কোটি কোটি টাকার আমদানি ফল ও কাঁচামাল পচে নষ্ট হয়। গত ৪.১২.২০১৭ তারিখে মানবজমিনে প্রকাশ, চট্টগ্রাম বন্দরে কয়েকশ' কোটি টাকার কমলা, আপেল, আঙুর, মাছ, রসুন-পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ পচে-গলে নষ্ট হয়ে যায়। যেখানে দেশের সিংহভাগ মানুষ কমলা, আপেল, আঙুর খাবার সুযোগ পায় না, সেখানে সেসব জিনিস বন্দরে থেকে পচে। এসব পচন রোধ করুন। টাকা আসবে। বেতন জোগান হবে।

এ রকম আরও শত উৎস মিলবে, যেখান থেকে এই অল্প ১৫০ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব। দরকার হলে লটারির টিকিট বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করুন। কিন্তু এসব সাদাসিধে গ্রাম্য শিক্ষকদের সঙ্গে পাতলা গামছা পরে আর কানামাছি খেলবেন না। তাদের প্রতিটি পরিবার ক্ষুধার্ত। তারা একটু সম্মান নিয়ে খেয়ে-পরে বাঁচতে চায়। তারা সম্মানিত হলে দেশ সম্মানিত হবে। দেশের মর্যাদা উন্নয়নে উদ্যমী হয়ে তারা কাজ করার মনোবল পাবে।

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

সূত্র: সমকাল

জেডিসি ও ইবতেদায়ি জন্মসনদ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক - dainik shiksha জেডিসি ও ইবতেদায়ি জন্মসনদ অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক অর্থাভাবে দুই বোনের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম - dainik shiksha অর্থাভাবে দুই বোনের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম অবসর সুবিধার আবেদন শুধুই অনলাইনে, দালাল ধরবেন না(ভিডিও) - dainik shiksha অবসর সুবিধার আবেদন শুধুই অনলাইনে, দালাল ধরবেন না(ভিডিও) দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website