মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষকের বিকল্প নেই - মতামত - Dainikshiksha

মানসম্পন্ন শিক্ষার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষকের বিকল্প নেই

মাছুম বিল্লাহ |

আমরা জানি, ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইউনেস্কোর তৎকালীন মহা-পরিচালক ড. ফ্রেডারিক এম মেয়রের যুগান্তকারী ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ৫ অক্টোবর ’বিশ্ব শিক্ষক দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহীত হয়। ইউনেস্কো প্রতিবছরই এক একটি নতুন থিম নির্ধারন করে। এবছরের(২০১৮) বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য হচেছThe right to education means the right to a qualified teacher. শিক্ষার অধিকার মানে মানসম্পন্ন শিক্ষকের কাছে শিক্ষাগ্রহন করার  অধিকার । চমৎকার থিম। এটিকে আরও একটু ব্যাখ্যা করলে বুঝায় কর্তৃপক্ষ তথা রাষ্ট্রকে তার ভবিষ্যত নাগরিকদের শিক্ষার জন্য প্রকৃত ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে যাতে ভবিষ্যত বংশধরগন  প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও মানসম্পন্ন শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার অধিকার আদায় করা যায় না। বিষয়টি সর্বৈব সত্য। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচেছ, আসছে , বিদ্যালয়ে ভর্তি সংখ্যা বাড়ছে , পাসের হার বাড়ছে হু হু করে, শুধু পাসের হার নয় বাড়ছে জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও। কিন্তু  সাথে সাথে প্রসারিত হচেছ শিক্ষা বাণিজ্যের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা, বিভিন্ন নামে।পাস করা শিক্ষার্থীদের  যে হারে একাডেমিক ও সামাজিক দক্ষতা অর্জন  করার কথা, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার দেখা মেলেনা। তাই পশ্ন উঠছে, শিক্ষার্থীরা কী মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচেছ? মানসম্পন্ন শিক্ষা না পাওয়ার বড় একটি কারণ হচেছ মানসম্পন্ন শিক্ষকের অভাব। সেই প্রেক্ষাপটে এবারকার প্রতিপাদ্যটি একেবারেই সময়েপাযোগী। 

দিবসটি পালনের মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা ও মানসম্মত শিক্ষা বাস্তবায়নে শিক্ষকদের গুরুত্ব, মানসম্পন্ন শিক্ষা তথা সকল শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরনে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা, শিক্ষকদের ভাল ও অপেক্ষাকৃত কম আনন্দের বিষয়গুলো আলোচনা নিয়ে আসা যাতে নবীন শিক্ষকগন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষকদের সব ধরনের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে পারেন , নিজেদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন।কাজেই দিবসটি  সকল দেশের শিক্ষক সমাজের নিকট  গুরুত্বপূর্ন , গৌরবের ও মর্যাদার। আমরা জানি, ১৯৪৫সালে বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির প্রেক্ষাপটে ১৯৪৭সালে ইউনেস্কোর সাধারন অধিবেশনে একটি শিক্ষক সনদ প্রণয়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষক অধিকার সংক্রান্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটে। ১৯৪৮ সালে সম্মিলিত জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ২৬অনুচেছদে শিক্ষা মৌলিক অধিকার এবং ব্যক্তিত্ব বিকাশে এর গুরুত্বের কথা পুনরায় আলোচনা উঠে আসে। তারপর বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কার্যক্রম গ্রহন করা হয়।  সেগুলোর ধারাবাহিকতায়  ১৯৬৬ সালের ৫ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিত বিশেষ আন্ত:রাষ্ট্রীয় সরকার সম্মেলনে ১৩ অধ্যায় বিন্যস্ত এবং ১৪৬টি ধারা উপধারা সম্বলিত শিক্ষকদের অধিকার, কর্তব্য ও মর্যাদা বিষয়ক ঐতিহাসিক ’ইউনেস্কো আই এল ও সুপারিশ- ১৯৬৬ প্রণীত হয়।

ঐ ঐতিহাসিক দলিলে শিক্ষাকে দেশ, সমাজ ও জাতি গঠনের শ্রেষ্ট হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার, মর্যাদা ও দায়-দায়িত্বের বিষয়ও বিস্তারিতভাবে বলা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কিত সাফল্যকে সমুন্নত রাখাসহ আরো সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে বিশ্বের ১৬৭টি দেশের ২১০টি জাতীয় সংগঠনের প্রায় তিন কোটি বিশ লক্ষ সদস্যদের প্রতিনিধিত্বকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষক সংগঠন ’ এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল গঠিত হয়। এ আন্তর্জাতিক সংগঠনকি জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত দেশগুলো কর্র্তৃক প্রণীত দলিলটি যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য দেশগুলোকে   ক্রমাগত অনুরোধ ও আহবান করতে থাকে। তারই  পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৪ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম অধিবেশনে গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে  ৫ অক্টোবর ’বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয় এবং  ১৯৯৪সালের পর থেকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেকে দেশেই যথাযোগ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। 

আমাদের দেশে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক প্রণোদনা, বিনমুল্যে বই বিতরণ ও ছাত্রী উপবৃত্তিসহ শিক্ষাক্ষেত্রে নানা পরিবর্তন এসেছে ঠিকই কিন্তু  শিক্ষার  মানের  অগ্রগতি সেভাবে হয়নি। কোন কিছুর সংখ্যা বাড়লে  দ্রুত তার মানের বিষয়টি অ্যাড্রেস করা কঠিন হয়ে পড়ে যাদ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা না হয়। বর্তমানে যে অবস্থা চলছে তাতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবই শুদ্ধভাবে পড়তে পারেনা। এটি এক ধরনের লার্ণিং ক্রাইসিস। পরীক্ষার ফল দেখে এ ক্রাইসিস বোঝা যায়না। শুধু সিলেবাস শেষ করাটা লার্ণিং নয়। এ থেকে বেরিয়ে আসতে পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড়ধরনের পরিবর্তন দরকার।  সৃজনশীল সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনা বিরাজ করছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সমগ্র শিক্ষা মহলে। সৃজনশীল প্রশ্নে শিক্ষার্থীদের নতুন করে তেমন কিছু দেওয়া যায়নি। প্রশ্ন তারা এখনও গাইড বই থেকে, কোচিং থেকে শিখছে। এটিও বিরাট লাণিং ক্রাইসিস। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাই  ফলভিত্তিক । বেশ কয়েকদিন যাবত এক গবেষণার জন্য দশম শ্রেণির ইংরেজি বইটি পড়ছি । বেশ কিছু অধ্যায় আমার কাছে  কঠিন মনে হচেছ। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি উন্নত করা সাধারন শিক্ষকদের দ্বারা কতটা সম্ভব তাই চিন্তা করছি।

কিন্তু শিক্ষার্থীদের পাস তো করতে হবে। তাই তারা প্রশ্ন কিভাবে আসে, তার ওপরেই প্রস্তুতি নেয়। ভাষা শিক্ষা, বিষয় শিক্ষা, চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি ইত্যাদি বিষয়গুলো একেবারেই উপেক্ষিত থেকে যাচেছ। শিক্ষা থেকে শিখণভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। ফলভিত্তিক শিক্ষায় জ্ঞান অর্জন নিশ্চিত হয়না। কিন্তু শিখণভিত্তিক শিক্ষায় ভাল মান নিশ্চিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা  দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ শিখতে পারে।এই জায়গাটিতে রয়ে গেছে বিরাট গ্যাপ। শিক্ষকদের যেভাবে লার্ণিং অ্যাপ্রোচ তৈরি করার কথা, তা হচেছনা। শিক্ষার্থীদের মাঝে মূল্যবোধ তৈরি করে দিতে হবে শিক্ষকদেরকেই। তাদের মধ্যে ভালোবাসার জগৎ তৈরি করতে পারেন শিক্ষকরা। তাদের ¯েœহ করা, তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করা,তাদেরকে কোনভাবে অপমানিত না করা---- এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ন। যে শিক্ষক এগুলো প্রতিষ্ঠিত করবেন, তার ক্লাস করার জন্য শিক্ষার্থীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে।  প্রচন্ড ঘাটতি রয়েছে এখানেও। শিক্ষকরা অধিকাংশ সময় দু-একজন তথাকথিত ভাল ছাত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ফলে অন্যরা ক্লাসরুম পছন্দ না করে চলে যায় কোচিং সেন্টারে কিংবা অন্যত্র কারণ তাদের চাহিদা তো পূরণ করতে হবে।একজন মানসম্পন্ন শিক্ষক তাঁর শ্রেণিক্ষকে শিক্ষার্থীদের জন্য ’নিরাপদ ও আনন্দঘন’ স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন। সেটি ক’জন শিক্ষক পারছন? 
 

শিক্ষাকে  রাজনীতিকরণের ফলে শিক্ষার মানে প্রভাব পড়েছে, ঘটেছে বাণিজ্যিকীকরণ ।পাঠদানবহির্ভূত অনেক কাজ করানো হয় প্রাথমিক শিক্ষকদের দিয়ে।  তারা যদি জরিপসহ অন্যান্য কাজ নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন  তাহলে ক্লাসরুমের কী হবে? এমনিতেই চরম শিক্ষক সংকট একাডেমিক কার্যক্রমকে মারাত্মভাবে ব্যহত করছে।এভাবে মান রক্ষা করা কঠিন। তাদের যে প্রশিক্ষন হয়, তার কোন ফলোআপ নেই। কাজেই ক্লাসে প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো ব্যবহার করছে কিনা তা দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজন সার্পোটিভ সুপারভিসন। অন্যদিকে শুধু বাজারমুখী শিক্ষা হলেও চলবে না। দর্শন ও দক্ষতার সমন্বয়েই শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শিক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য সত্যিকারের মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাকে বাণিজ্যুৃখী করা হয়েছে, এনজিও এ থেকে কিছুটা দুরে ছিল। তারাও এখন শিক্ষাকে বাণিজ্যিক পণ্য বানাতে চায়। এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে অবকাঠামোগত সমস্যা তবে তাদের গুণাবলী হচেছ পজিটিভ অ্যাপ্যেচ, শিক্ষার্থী বান্ধব পাঠদান পদ্ধতি এবং শিক্ষক ও কর্মীদের একাগ্রতা। রাষ্ট্রপরিচালিত বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো ভাল কিন্তু নেই ব্যবস্থাপনা ও পেশাগত আচরণ। এ দুয়ের সমন্বয় ঘটাতে পারলে চমৎকার শিখন পরিবেশ সৃষ্টি হবে ও ভাল মানের শিক্ষাদান নিশ্চিত করা যাবে।  

উপযুক্ত কারিকুলাম, যোগ্য শিক্ষক ও মানসম্মত পাঠ্যবই---এই তিনটি মানসম্পন্ন শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন উপাদান। এগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেশ, সমাজ ও জনগনসহ সবার। পাবলিক পরীক্ষার ফল যেহেতৃ প্রকৃত মেধা নির্ণয়ের মাপকাঠি নয় তাই উচচতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে । তা না হলে ফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা, জিপিএ-৫ এর পেছনে ছোটাছুটি করা, বৈধ ও অবৈধ উপায়ে সেটি অজর্ন করার প্রবণতা  থেকেই যাবে। সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে ভীতি কাটেনি। এটি শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকদেরও ভীতির কারণ।  প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের বড় অংশই অপ্রশিক্ষিত। এমনকি উচচশিক্ষার ক্ষেত্রেও মানসম্পন্ন ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন শোনা যায় ।বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে দেশের মাধ্যমকি বিদ্যালয়গুলোতে ২৯দশমিক ৬৬ শতাংশ শিক্ষক প্রশিক্ষন ছাড়াই পাঠদান করছেন।প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে না পারা, রাজিৈনতক প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষক নিয়োগ এবং এনটিআর সি-র দুর্নীতি মানসম্মত শিক্ষাপ্রদানের পথে অন্তরায়। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গিয়ে মেধার সাক্ষর রাখছে অথচ দেশে তাদের মেধার পরিস্ফুটন হচেছনা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে । এ প্রতিবন্ধকতাগুলো আমাদের দূর করতে হবে। 

 শিক্ষার মাধ্যমে একটি দেশের অন্য মুখ্য বিষয়গুলেওা কোন না কোনভাবে প্রভাবিত হয়।এজন্য সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার উৎকর্ষতার বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে কারণ শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি সত্যি যে, শিক্ষা পূর্বের যে কোন সময়ের তুলনায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচেছ অনেক বেশি। আবার এটিও সত্যি যে, বর্তমান যুগের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থী আমরা অনেক ক্ষেত্রেই তৈরি করতে পারছিনা।  আরোপিত শিক্ষা কাঠামো মানুষের মধ্যে যেমন সীমাবন্ধ চিন্তাশক্তি তৈরি করে, তেমনি মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ধারণা সৃষ্টি করে।ফলে আরোপিত জ্ঞান আহরণ করে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়। কাজেই প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মনকে  প্রস্তুত করতে পারছে কিন সে বিষয়টিও দেখতে  হবে। 

শিক্ষার মান নির্ধারণের সঠিক কোন মানদন্ড নেই। শিক্ষার মান যেখানে পৌঁছানো উচিত ছিল, সেই কাঙ্খিত মানে আমরা পৌঁছতে পারিনি এটি বিভিন্ন লক্ষণ থেকে আমরা বুঝতে পারছি। শিক্ষাবিদ রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ” শিক্ষা মানবাধিকার, পণ্য নয়। সংবিধানে মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা আছে। এটি রার্ষ্টের দায়িত্ব। কনটেন্ট, ক্যাপাসিটি, কমিটমেন্ট-এ তিনটির সমন্বয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হবে।” শিক্ষার্থীদের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবেনা। তারা তো আলু-পেঁয়াজ নয় যে, তাদের প্রোডাক্ট হিসেবে দেখতে হবে। তাদের মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ণ করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলোকে এক্্িরপেরিমেন্টাল স্কুল চালু করা যেতে পারে। নিরাময়মূলক শিক্ষা চালু ও শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করতে হবে, তাহলে শিখণ দুর্বলতা দূর করা সম্ভব হবে।” মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দেশপ্রেমযুক্ত আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষাব্যবস্থা দরকার।এজন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যৌথ মিথস্ক্রিয়া। শিক্ষা কোন যান্ত্রিক এবং ব্যবসায়িক উপকরণ নয়। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরণের জন্য  প্রয়োজন কমিটমেন্ট, নার্সিং, প্রয়োজন স্বল্প ,মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা  ও যুগোপযোগী কারিকুলাম এবং সিলেবাস প্রণয়ন

 আজ আর নতুন করে বলার অবকাশ নেই যে, শিক্ষার মানোন্নয়র জন্য শিক্ষকদের মানোন্নয়ন সবার আগে জরুরি।তাই শিক্ষকদের পড়াশুনা করতে হবে, শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে বসে থাকলে চলবেনা। তাদেরকে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ফোরামে যোগদান করতে হবে, সেমিনার- সিম্পোজয়ামে নিজেদেরকে উপস্থাপন করতে হবে।  শিক্ষার মিন্মমান ও শিক্ষার্থীদের বর্তমানযুগের চাহিদা অনুযায়ী গড়ে তুলতে  দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকের বিকল্প নেই। এই সত্য  প্রাথমিক থেকে উচচশিক্ষা পর্যন্ত প্রয়োজ্য কারণ  শিক্ষার্থীদের শিখন মানের পুরোটা   না হলেও বৃহদাংশ  নির্ভর করে শিক্ষকের যোগ্যতার উপর, মানসম্পন্ন শিক্ষকের  উপর।

 

লেখক: ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিত কর্মরত সাবেক ক্যাডেট কলেজ ও রাজউক কলেজ শিক্ষক

প্রাথমিকের ১০০ প্রধান শিক্ষককে শোকজ - dainik shiksha প্রাথমিকের ১০০ প্রধান শিক্ষককে শোকজ ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে উত্তীর্ণদের নিয়ে পুনরায় বাছাই পরীক্ষা - dainik shiksha ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে উত্তীর্ণদের নিয়ে পুনরায় বাছাই পরীক্ষা বিপিএড পরীক্ষার সূচি - dainik shiksha বিপিএড পরীক্ষার সূচি মাস্টার্স পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ - dainik shiksha মাস্টার্স পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আরও ১৯ প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha আরও ১৯ প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সূচি - dainik shiksha অনার্স ৩য় বর্ষ পরীক্ষার সূচি ৫৫ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha ৫৫ প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website