মানসম্মত শিক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ - মতামত - Dainikshiksha

মানসম্মত শিক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ

জি এম রাকিবুল ইসলাম |

শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা চিরন্তন। এমন কোনো সময়ের কথা কেউ বলতে পারবে না যেসময় মানুষ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। একদিক দিয়ে ভাবতে গেলে—আমাদের এই অসন্তোষই আমাদেরকে আরো ভালো অবস্থায় যাওয়ার জন্য তাড়না যোগায়। আরেক দিকে সমাজের এই অসন্তোষ গিয়ে পড়ে স্কুলের উপর, সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে শিক্ষকের উপর। শিক্ষকের উপর সমাজের এই অনাস্থা তাদেরকে দমিয়ে দেয়, তারা কর্মস্পৃহা হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে- ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। যে সমাজ তার শিক্ষকগণকে বিশ্বাস করে না, সেই শিক্ষকগণ কিভাবে আমাদের সন্তানকে মানুষ করবে?শিক্ষককে সবাই শিখাতে চায়, কিন্তু কেউই স্কুলে শিক্ষকতা করতে চান না।

মজার ব্যাপার বটে! নীতি-নির্ধারকগণ স্কুলটিচিং এর সরাসরি কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নীতি-নির্ধারণ করেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার লোকজন উন্নত বিশ্বের বিশেষজ্ঞ মানুষের ডিজাইন করা নতুন পদ্ধতি পাইলটিং করেন, কখনো-সখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষা পদ্ধতি নতুন করে ডিজাইন করে শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়, এনসিটিবি পাঠ্যবই ও কারিকুলাম পরিমার্জন করেন। সবশেষে এগুলো বাস্তবায়নের ভার আমরা শিক্ষকের উপর ছেড়ে দিই। আর মনিটরিং ও সুপারভাইজেশনের নামে আমাদের কথা শিক্ষকগণ কতটুকু মেনে চলছেন তার উপর নজর রাখি।অন্যদিকে শিক্ষকগণ এইসব ইনোভেশনের ওভারলোড সামলাতে হিমশিম খান। ইনোভেশনের চাপে শিক্ষকতাকে কোনোভাবেই আর উপভোগ করেন না।

আমরা যেভাবে শিক্ষার্থীর ফলাফলকে শিক্ষার উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করি তাতে স্কুলগুলো পরীক্ষা প্রস্তুতির সেন্টারে পরিণত হচ্ছে, জমজমাট হচ্ছে কোচিং বাণিজ্য। ভেবে  দেখা দরকার যে, এই যে নিত্যনতুন উদ্ভাবন শিক্ষার উন্নয়নে কতটা সহায়ক বলে শিক্ষকগণ মনে করেন? তারা কী চান? শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি এই শিক্ষকগণ শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কী ভাবেন? আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু ক্ল্যাসিক সমস্যা আছে, যেগুলো অতি পুরাতন। এগুলোকে পাশ কাটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে আমার ধারণা। একথা গবেষণায় প্রমাণিত, তাছাড়া পাঠকরাও স্বীকার করবেন যে মানসম্মত শিক্ষার মূল নিয়ামক হলো মানসম্মত শিক্ষক।

এটাকে এড়িয়ে যাবার কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিক্ষাব্যবস্থা, কিন্তু শিক্ষক শিক্ষার অবস্থা এদেশে খুবই করুণ। কিন্তু বিশ্বের নামকরা যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, তাদের শিক্ষা বিভাগ বা শিক্ষা স্কুল অথবা শিক্ষা ইনস্টিটিউট আছে যা দেশের জন্য সেরা শিক্ষক তৈরি করে। ভালো শিক্ষক এমনি এমনি হয় না, ভালো শিক্ষক তৈরি করতে হয়। তাই যারা আমাদের শিক্ষার অবস্থা নিয়ে চিন্তিত, শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে চান তাদের কাছে ৩টি প্রশ্ন রাখছি, যেগুলো
আবার একটা আরেকটার সাথে সম্পর্কিত-

১। বাংলাদেশের শিক্ষক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি প্রশিক্ষিত দক্ষ শিক্ষক তৈরি করতে পারছে?

২। শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থা কি প্রশিক্ষিত দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছে?

৩। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো কি প্রশিক্ষিত দক্ষ শিক্ষককে আকৃষ্ট করতে এবং ধরে রাখতে পারছে?যদি প্রশ্নগুলোর উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে একইসাথে এই তিনটি প্রশ্ন নিয়েই আমাদের কাজ শুরু করা দরকার। দক্ষ শিক্ষক প্রস্তুত করতে হবে, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে কাজের পরিবেশ, স্বাধীনতা এবং আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে যেন ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে অন্য চাকরির জন্য প্রস্তুতি না নিয়ে পরবর্তী ক্লাসের জন্য প্রস্তুতি নেয়।

লেখক : প্রভাষক (শিক্ষা) ও শিক্ষা গবেষক, নায়েম

এইচএসসির ফল প্রকাশ ১৯ জুলাই - dainik shiksha এইচএসসির ফল প্রকাশ ১৯ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই শুরু - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই শুরু ঢাবিতে প্রথম বর্ষ ভর্তির আবেদন শুরু ৩১ জুলাই - dainik shiksha ঢাবিতে প্রথম বর্ষ ভর্তির আবেদন শুরু ৩১ জুলাই জুন মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে - dainik shiksha জুন মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে ঢাকা বোর্ডের জেএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ - dainik shiksha ঢাকা বোর্ডের জেএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ সেপ্টেম্বরে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আসছে - dainik shiksha সেপ্টেম্বরে ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি আসছে দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website