please click here to view dainikshiksha website

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক উপবৃত্তি বিতরণের সুফল

দৈনিক শিক্ষা ডেস্ক: | সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭ - ১২:১০ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

ডিজিটাল পেমেন্টের আওতায় এসেছেন দেশের প্রায় এক কোটি মা। কোনও সার্ভিস চার্জ ছাড়াই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করার মধ্য দিয়ে এই অসাধ্য সাধন করছে রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ।

জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি সারাদেশে বিতরণ করা হচ্ছে। দেশব্যাপী ৮০ হাজার গ্রামের ৬০ হাজার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রায় এক কোটি মা তাদের নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে এই উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছেন এবং নিকটস্থ এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সুবিধামত সময়ে এই টাকা তুলে নিচ্ছেন। এ উপবৃত্তি তুলতে কোন সার্ভিস চার্জ নেই অর্থাৎ মায়েরা নির্ধারিত পুরো টাকাই পাচ্ছেন।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি বিতরণ বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বড় পেমেন্ট ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ মিলিতভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এক্ষেত্রে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকদের ভূমিকা উল্লেখ করা বাঞ্ছনীয়। সারাদেশে ৬০ হাজার বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ এই ডাটাবেজ তৈরিতে কাজ করেছেন। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও মাঠ পর্যায়ের মনিটরিং অফিসারবৃন্দ এই ডাটা যাচাই বাছাই কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যে এক কোটি পরিবারের ডাটা সম্বলিত এই ডাটাবেজ প্রস্তুত করা ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য একটি অসামান্য সাফল্য।

এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি মা একটি করে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট পেয়েছেন, যা উপবৃত্তির টাকা পাওয়া ছাড়াও টাকা পাঠানো, জমানো, গ্রহণ, মোবাইল রিচার্জ ও বিল দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১ মার্চ ‘মায়ের হাসি’ নামক এ প্রকল্প উদ্বোধন করার সময় বলেন, ‘আমরা এখন এক ক্লিকে সারাদেশে এক কোটি মায়েদের ফোনে উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে দিচ্ছি। গ্রামের মায়েরাও এখন ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা পাচ্ছে।‘

এ বিষয়ে যশোর জেলার সদর উপজেলার পীরেরহাট গ্রামের পীরেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মা সাজেদা বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি তার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে উপবৃত্তির টাকা পেয়েছেন। কাছের বাজারে এজেন্ট থেকে টাকা তুলতে পেরেছেন কোন ফি ছাড়াই।

অন্য আরেক উপবৃত্তি সুবিধাভোগী রাজিয়া খাতুন জানান, প্রথম বার তিনি উপবৃত্তির টাকা পেয়ে সাথে সাথেই তুলতে পেরেছেন। পরেরবার সব টাকা না তুলে যতটুকু দরকার, ততটুকুই তুলেছেন।

একইসঙ্গে সারাদেশে বাজার পর্যালোচনার ভিত্তিতে রূপালী ব্যাংক শিওরক্যাশ তাদের এজেন্টদেরকে সর্তক করে দিয়েছে যাতে উপবৃত্তির টাকা তোলার সময় যেন কোনও ধরণের চার্জ না রাখা হয়। যদি কোনও এজেন্ট উপবৃত্তির টাকা তোলার সময় চার্জ কাটে সেক্ষেত্রে ওই এজেন্টের বৈধতা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থাও নেবে শিওরক্যাশ কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যেক মা প্রথমবারের মতো একটি মোবাইল অ্যাকাউন্ট পেয়েছে, এতে মায়েদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ক্ষমতায়নের পথ সুগম হলো। এর মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জন্য সঞ্চয়, স্বাস্থ্য-সেবা এবং বীমা ইত্যাদি সেবা সমূহ চালু করার জন্যও কাজ করা হচ্ছে।

এছাড়া তৈরিকৃত ডাটাবেজ বই ছাপানো, বিদ্যালয়ের ফলাফল পর্যালোচনাসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের কারণে উপবৃত্তি বিতরণ এখন অনেক সহজ হয়েছে এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বেড়েছে।‘

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান বলেন, ‘রূপালী ব্যাংক দেশের প্রান্তিক জনগণের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেয়া এবং ঘরে বসে সহজে লেনদেনের সুবিধার জন্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে।”

শিওরক্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শাহাদাত খান বলেন, “শিওরক্যাশ পেমেন্ট সিস্টেমে ব্যবহৃত সকল সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে প্রস্তুত। এই দেশের তরুণ-তরুণীরা তৈরী করেছে বিশ্বমানের সফটওয়্যার।”

এই উপবৃত্তি সাধারণত তিন মাস পর পর ছাত্র-ছাত্রীদের মায়েদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। আগে যেখানে ১৫ হাজার কেন্দ্র ব্যবহার করে নির্দিষ্ট দিনে উপবৃত্তি নিতে হতো এবং নানারকম ঝামেলা পোহাতে হতো, এখন সেখানে লক্ষাধিক এজেন্ট থেকে যে কোন সময়ে এ টাকা তোলা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১০টি

  1. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক says:

    শিওর ক্যাশে উপবৃত্তির টাকা তুলতে কোন টাকা নিচ্ছেন না কথাটা ১০০% সত্য নয়। পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের সুবিধা ভোগী প্রতি অভিভাবকে জিজ্ঞেস করলে এর উত্তর পেয়ে যাবেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে এজেন্টগন ২০/৩০ টাকা করে নিয়েছেন।

  2. জুলকার নাইন, কুটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুটি কসবা, ব্রাহ্মণ বাড়িয়া। says:

    শিওর ক্যাশ একাউন্ট এর মেনু পাসওয়ার্ডটি দেশের মানুষকে জানালে উপকৃত হত।

  3. sozol says:

    এজেন্ট পয়েন্ট থেকে উপবৃত্তি টাকা তুলতে সার্ভিস চার্জ 10-15 taka নেই অর্থাৎ মায়েরা নির্ধারিত পুরো টাকা পাচ্ছে —– Na .

  4. রিয়া says:

    পাগল নাকি?
    ৫০০ টাকা তুলতে ৩০ টাকা লাগে আর যাতায়াত খরচ ২০ টাকা।

  5. সালেহ আহমদ,বিয়ানী বাজার ,সিলেট । says:

    ১. এক কিস্থির টাকা তুলতে ২০/৩০ টাকা লাগে । না হলে ক্যাশ নেই, পরে আসেন ।
    ২. শিক্ষক বলছেন টাকা পাবেন ৩০০/- ( তাঁর ডকুমেন্ট মতে ), মোবাইলে ম্যাসেজ আসছে ১০০/-টাকার, দায় নেবে কে ?
    ৩. কোনো কোনো মোবাইলে ম্যাসেজই আসে নাই,টাকা এলো কি-না তার কোডটাও কাজ করে না ।
    অভিযোগ আর ও অনেক ।আগে নিখুত কাজ দেন,পরে বাহবা নেন ।

  6. আকাশ says:

    শিওর ক্যাশে উপবৃত্তির টাকা তুলতে কোন টাকা নিচ্ছেন না কথাটা ১০০% সত্য নয়।

  7. ziauddin..hatiya noakhali says:

    madrashai maddomiker tk ekhono oneke paini

  8. মো. জাকির হোসাইন ইন্দুরকানী , পিরোজপুর । says:

    পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদরাসার ফাজিল 2য় বর্ষের কতিপয় ছাত্র ছাত্রীর অভিযোগ থেকে জানা যায় যে, বতর্মান 2য় বর্ষের ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা পাইয়ে দেওয়ার জন্য 2015 সনের শেষে জনপ্রতি 1500/- 1800/- টাকা পযন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন, ভুক্তভুগি ছাত্রদের অভিযোগ যে আমরা টাকা পাইলে কোন দু:খ থাকত না । কিন্তু আমাদের কষ্টের টাকাও গেল আবার উপবৃত্তির টাকাও অন্য ছাত্রছাত্রী নামে একাউন্ট নতুন করে টাকা হাতিয়ে নিল। অথচ আমাদের কাছ থেকে গত রমযান মাসেও ডাচ বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট খোলার কথা বলে পুনরায় 600/- টাকা করে হাতিয়ে নেয়।
    অনুসন্ধান করে দেখা গেছে প্রতিদিন এই উপবৃত্তির টাকার জন্য অভিযোগ নিয়ে ছাত্র ছাত্রীরা মাদরাসার অফিসে এসে লেখা পড়ার পরিবেশ নষ্ট করছে ঝগড়া করে এতে শিক্ষকরা বিব্রত হচ্ছেন তবে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে নারাজ কারন তিনি শংকরপাশার হওয়ার কারনে প্রায়ই তিনি শিক্ষকদের সাথে অশালিন আচারন করেন। তিনি শিক্ষকদেরকে কমর্চারীর মত মনে করেন।যেখানে তিনি শিক্ষকদের সাথে এরুপ আচরন করেন সেখানে ছাত্র ছাত্রীদের সাথে তার আচরনের ব্যাপার সহজেই অনুমান করা যায়,ভুক্তভোগি কতিপয় ছাত্রছাত্রীর নাম আরিফ, রাসেল,সোহেল, আশিক ,হালিমা,শারমিন সাদিয়া ,নুসরত সহ আরো অনেক। অধিকাংশ শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানাগেছে তিনি অধ্যক্ষ সাহেবের গাড়ী চালক ছিলেন বিধায় তিনি নিজেকেই অধ্যক্ষ মনে করেন, কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন এমন কোন অপরাধ নেই যা তার দ্বারা হয় না এমনকি তিনি মেয়েদের সাথেও যৌনউত্তেজক মুলক কথাবার্তা বলে থাকেন কোন মেয়ে অফিসে আসলেই তিনি তাদেরকে পার্শ্বের বা উপরের নির্জন রুমে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেন। অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে যে অত্র মাদরাসাটি ফাজিল ও কামিল এর পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ার দরুন তিনি আরো বেপরোয়া কারন ছাত্ররা তার কাছে জিম্মি।পরীক্ষায় বহিস্কারের হুমকি দেয়। এবং পরীক্ষায় পাশ করানোর চুক্তি করে নেয় দুর্বল ছাত্র ছাত্রীদের সাথে । আর পরীক্ষায় সহযোগিতা ও হল ঠান্ডা রাখার নামে তো টাকা উত্তলোন আছেই । এই মাদরাসাটিকে ধ্বংশের হাত থেকে বাচানোর জন্য সকলের সহোযোগিতা কামনা করছি।

  9. sanjib says:

    নোয়াখালী সুবর্ন চর উপজেলায় সকল এজেন্ট এর নিকট থেকে উপবৃত্তির ৩০০/-টাকা উঠাতে ১০/- টাকা দিয়ে দিতে হয়।

  10. Rasel Ahmed says:

    আমি কোনো টাকা নেইনাই কেনো সাভির্স চাজর্ নেবেন

আপনার মন্তব্য দিন