রাকসু নির্বাচন: গঠনতন্ত্র সংশোধন চায় ছাত্র সংগঠনগুলো, প্রশাসনের না! - বিশ্ববিদ্যালয় - Dainikshiksha

রাকসু নির্বাচন: গঠনতন্ত্র সংশোধন চায় ছাত্র সংগঠনগুলো, প্রশাসনের না!

রাবি প্রতিনিধি |

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের সংলাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। গত ৬ মে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সঙ্গে সংলাপের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় রাকসু নিয়ে দীর্ঘ চার মাস ধরে চলতে থাকা এ সংলাপ। সংলাপে অংশ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে রাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে। তবে প্রশাসন গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

জানতে চাইলে রাকসু সংলাপ কমিটির আহ্বায়ক প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘ছাত্রসংসদ নির্বাচন নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে প্রশাসনের যে সংলাপ তা প্রাথমিকভাবে শেষ হয়েছে। সংলাপে সংগঠনগুলো যেসব দাবি জানিয়েছে সেগুলো বিচার-বিশ্লেষণ করে একটি খসড়া তৈরি করা হবে। পরে আমরা হলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে সংলাপ করবো। এছাড়া, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের জানানো হবে। সবকিছু বিচার বিবেচনা করে উপাচার্য পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।’

প্রক্টরের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে রাকসু নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে প্রশাসন। দীর্ঘ চার মাসব্যাপী ১২টি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন এবং ১১টি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে সংলাপ করে প্রশাসন। সংলাপে হাতে গোনা দুই একটি সংগঠন ব্যতীত ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সুষ্ঠুভাবে রাকসু নির্বাচন আয়োজনে যেসব দাবি জানিয়েছে তা রাকসুর গঠনতন্ত্রের বিরোধী। ছাত্র নেতারা বলছেন, তারা যেসব দাবি জানিয়েছেন সেগুলো বর্তমানের নিরিখে খুবই প্রয়োজন।

তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠগুলোর মধ্যে নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে বেশ মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। তাদের কেউ পিএইচডি, এমফিল, সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীদের প্রার্থিতা রাখার পক্ষে, আবার কোনও কোনও ছাত্র সংগঠন বলছে, রাকসুর ফি প্রদানকারী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া, সংলাপে যে দাবিগুলো উঠেছে তার মধ্যে, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করা, অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র স্থাপন, ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা, কার্যকরী ছাত্রসংসদ গঠন করতে রাকসুর সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, সর্বদলীয় শিক্ষকদের সমন্বয়ে পরিবেশ পরিষদ গঠন, ক্যাম্পাসে সব রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মকাণ্ডের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে ভোটার তালিকা ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়ন, ভোট কেন্দ্রে সাংবাদিকদের অবাধ বিচরণের সুযোগ, কোনও বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে নির্বাচনে বিশেষ সুবিধা প্রদান না করা উল্লেখযোগ্য।

এসব দাবির মধ্যে পিএইচডি, এমফিল, সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থীদের প্রার্থিতা, অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র স্থাপন, রাকসু সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনাসহ বেশ কয়েকটি দাবি রাকসুর গঠনতন্ত্রের বিরোধী। 

সংলাপ কমিটির সূত্রে জানা গেছে, রাকসু নির্বাচন হবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং কারা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে, গঠনতন্ত্রে তা সব লিপিবদ্ধ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাকসুর সংলাপ কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করতে চায় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ রকম দিক-নির্দেশনা রয়েছে। যদি সর্বশেষ ছাত্রসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে গঠনতন্ত্র সংশোধনে জোর দাবি উঠে, তবে ডাকসুর মতো রাকসুতে কয়েকটি বিষয়ে (প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বয়স, ছাত্রত্ব) শিথিল করা হতে পারে। কবে নাগাদ রাকসু নির্বাচন হতে পারে এমন প্রশ্নে ওই সদস্য বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচন কেবল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে না। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেতেরও প্রয়োজন পড়ে।

তিন দশক ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ সময়ে সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অথচ রাকসুর গঠনতন্ত্র রয়ে গেছে অপরিবর্তনীয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ৩০ বছরের পুরনো গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কতটা কার্যকর হবে, এ নিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষকের সঙ্গে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগরে সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘ছাত্রসংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ছাত্রদের একটি সামাজিক মালিকানা তৈরি হয়। গত ৩০ বছরে সমাজ বাস্তবতা ও অ্যাকাডেমিক শিক্ষার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে ছাত্রসংসদের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। হলগুলোকে রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে মুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ, মানুষের থাকা-খাওয়ার জায়গায় কোনও ভাবে রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে না। এজন্য হল সংসদের জন্য ভিন্ন চিন্তা করা প্রয়োজন।’

রাকসু নির্বাচন হবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে বলে মনে করেন ফোকলোর বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম কনক। তিনি বলেন,  ‘রাকসু নির্বাচন আদৌ হবে কিনা? কবে নাগাদ হবে এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। কারণ, প্রশাসনের কার্যক্রম দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তারা রাকসু নির্বাচন আয়োজনে আন্তরিক। যদি শেষ পর্যন্ত রাকসু নির্বাচন হয়ও তবে প্রশাসন চাইলে গঠনতন্ত্রের মধ্যে থেকেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যকর রাকসু তৈরি করা সম্ভব।’

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বশেষ রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৮৯-৯০ সেশনে। এরপরে দীর্ঘ তিন দশক ধরে রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সম্প্রতি ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পর ফের আলোচনায় এসেছে রাকসু নির্বাচনের বিষয়টি।

মেয়েদের কর্মসংস্থানে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha মেয়েদের কর্মসংস্থানে কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর ৮৪১ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে ২৫ কোটি টাকার চাহিদা - dainik shiksha ৮৪১ তৃতীয় শিক্ষক এমপিওভুক্তিতে ২৫ কোটি টাকার চাহিদা সরকারি চাকরি মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে - dainik shiksha সরকারি চাকরি মেধাবীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ছে স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মে মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মে মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website