please click here to view dainikshiksha website

রাজউক কলেজে ফেসবুক বন্ধের সিদ্ধান্ত

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য ঃ | আগস্ট ৬, ২০১৭ - ৯:১৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

‘শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করছেনা’-এমন অভিযোগ তুলে ফেসবুক, কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, আইপড, ইন্টারনেট বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে রাজধানীর অন্যতম শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। শনিবার অভিভাবকদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ নাজনীন বেগম এমন নির্দেশনা দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভাল ফলাফল পেতে চাইলে আগামী ছয় মাস তাদেরকে অবশ্যই এসব প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে হবে। কারণ ফেসবুক ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা থেকে মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে। এতে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারছে না।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ এইচএসসি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৭ জন পরীক্ষার্থী ফেল করে। ১৩৭০ জনের মধ্যে পাস করে ১৩৬২ জন। এই কারণে ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় যাতে শতভাগ পাসের হার হয় সেজন্য অভিভাবকদের নিয়ে এই বৈঠক হয়েছে। এবং সেই বৈঠকে ফেসবুক বন্ধের কথা বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রায় দেড় ঘন্টা ব্যাপী আয়োজিত এই বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ নাজনীন বেগম অভিভাবকদের বলেন, ফেসবুক শিক্ষার্থীদের মাথা নষ্ট করছে। স্কুলে ফেসবুক বন্ধ। বাসায়ও বন্ধ করতে হবে। শুধু ফেসবুক বন্ধ করলে চলবে না, স্মার্ট ফোন, ইন্টারনেট সব বন্ধ করতে হবে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে কাজী তোফায়েল আহমেদ নামের একজন অভিভাবক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে লেখেন, ‘বড় ছেলে ইতকান উত্তরা রাজউক কলেজ থেকে এসএসসি দেবে। আজ (শনিবার) অভিভাবক-শিক্ষক মিটিং হল। ভাইস প্রিন্সিপাল বললেন, আজ থেকে বাসায় ফেসবুক, কম্পিউটার, স্মার্টফোন, আইপট, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে হবে। আপনি কি একমত???’ জানতে চাইলে কাজী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কর্তৃপক্ষ মনে করেন এগুলো পড়ালেখার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এজন্য এসব বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, দরজা-জানালা খুলে দিলে ধূলো-বালির সঙ্গে মুক্ত বাতাসও আসে। এখন ধূলো-বালির ভয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিলে-তো মুক্ত বাতাসও আসবে না। যেখানে তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ঘটানো হচ্ছে সেখানে পরীক্ষাকে সামনে রেখে তথ্য প্রযুক্তি থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে রাখার মূল কারণই তিনি বুঝতে পারছেন না বলে জানান।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বিষয়টিকে স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে বলেছেন, কী কারণে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমার মনে হয়, একাডেমিক কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আর এতে শিক্ষার্থীদের মঙ্গলই হবে।

এরআগে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে সর্বশেষ ২৩শে মার্চ মতামত জানতে চাওয়া হয় যে, মধ্যরাত থেকে পরবর্তী ছ’ঘণ্টা ফেসবুক বন্ধ রাখা যায় কিনা। শিশু, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই এ মতামত চাওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা রাত জেগে ফেসবুক ব্যবহার করলে পড়াশুনা এবং স্বাস্থ্য দু’টোরই ক্ষতি হয়। এর জবাবে বিটিআরসি জানায়, শুধুমাত্র শিশুদের জন্য আংশিকভাবে ফেসবুক বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ ফেসবুক শুধু শিশুরা ব্যবহার করে না। তাদের বাবা-মাও ব্যবহার করেন। তবে বিটিআরসি শিশুদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কিছু সুপারিশ করেছে। তার মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ এবং পাসওয়ার্ড বাবা-মা অথবা অভিভাকদের হাতে রাখা। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে পর্যন্ত ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট খুলতে না দেওয়া। শিশুদের তদারকির মধ্যে রাখতে হবে। আর এর জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৮টি

  1. মোঃ কাজী জাফর, সহকারি শিক্ষক(কম্পিউটার), সৈয়দ আবদুল মান্নান ডি.ডি.এফ আলিম মাদ্রাসা, বরিশাল। says:

    ধন্যবাদ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের কর্তৃপক্ষকে তারা যে ছাত্র/ছাত্রীদের ফেসবুক, কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, আইপট, ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারের কারনে তরুন ছাত্র/ছাত্রীরা বেশি সময় ব্যয় করছে যার কারনে তারা লেখাপড়ায় বেশি সময় দিতে পারছে না, যার কারনে ফলাফল খারাপ হচ্ছে। অধিকাংশ ছাত্র/ছা্ত্রীরা সারা রাত ফেসবুক নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এই সমস্যা শুধু যে শুধু উক্ত কলেজেরই তাই নয় গোটা বাংলাদেশের ছাত্র/ছাত্রীরই এই করুন অবস্থা। এই করুন অবস্থা থেকে উত্তরনের জন্য অবশ্যই রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ রাখা উচিত।

  2. Md.Farukul islam says:

    ধন্যবাদ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের কর্তৃপক্ষকে তারা যে ছাত্র/ছাত্রীদের ফেসবুক, কম্পিউটার, স্মার্ট ফোন, আইপট, ইন্টারনেট ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে

  3. মোঃ লাল্টু মিয়া,ভাটই মাধ্যমিক বিদ্যালয়। says:

    বন্ধ করার থেকে রাতের একটা সময় থেকে বন্ধ করে দেওয়া ভালো।শুধু একটা কলেজ নয়,সব প্রতিষ্টান এর উপকার হবে।

  4. মোঃ সেলিম/ কেতরাঙ্গাঁ উচ্চ বিদ্যালয় says:

    ফেসবুকের কারনে দেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় ফেল ও অসদুপায় অবলম্বম করে ৷ দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ম করে বিশেষ করে পড়াশোনার সময় ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ট্রেক করে ফেসবুক বন্ধ রাখা প্রয়োজন ৷

  5. মো: রফিকুল ইসলাম,কালিহাতি, টা;গাইল। says:

    যেহেতু NID দিয়েই SIM কেনা হয় তাই জন্ম সনদ থেকে সফটওয়্যার মাধ্যমে ১৮ বছর পর্যন্ত রাত ৭ টা থেকেই ভোর ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থিদের পড়ারসময় বিবেচনা করে ফেইসবুক, ইন্টার্নেট, হোেয়াইস অ্যাপ ·র মতো সামাজিক যোগাযোগ সাইসগুলি বন্ধকরে দিলে তারা মনোযোগী হতো।

  6. রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক পদার্থবিজ্ঞান, আটিয়া মহিলা কলেজ, দেলদুয়ার, টাঙ্গাইল। says:

    NID ছাড়া যেমন কোন সিম কেনা যায় না। তেমনি ফেইজবুক একাউন্ট খোলার জন্য হাতের ছাপ অথবা NID এর স্ক্যান কপি সংগ্রহ করে কেবল ফেইজবুক একাউন্ট খোলা যেতে পারে। আর এর ব্যবহার প্রতিদিন কত ঘন্টা করবে তা একাউন্ট খোলার সময় ঘোষনা করতে হবে যা পরে পরিবর্তনযোগ্য। তাহলে হয়তো শিক্ষার্থীদের একটু উপকার হবে।

  7. mr mukul says:

    কতগুলো মানুষ আছে তারা সব সময় সম্মিলিত মতের বিরুদ্ধাচারণ করবেই করবে যেমন- রাশেদা কে চৌধুরী ।

  8. মোঃজয়নুল আবেদীন says:

    দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ম করে পড়াশোনার সময় ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের আ্ইনী নিষেধাজ্জ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।

আপনার মন্তব্য দিন