please click here to view dainikshiksha website

শতাধিক শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ১৩, ২০১৭ - ৭:৩০ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে রাজধানীর স্বনামধন্য এমন ৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ও সরেজমিনে অনুসন্ধান করে এসব তথ্য সংগ্রহ করে সংস্থাটি।

তবে এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে জানা গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ভিকারুননিসা নুন স্কুল এ্যান্ড কলেজ, গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কু‹ল, ধানমন্ডি সরকারী বালক স্কু‹ল এ্যান্ড কলেজ মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কু‹ল এ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল মডেল স্কু‹ল, ও খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২০ জুন কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে নীতিমালা তৈরি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

কিন্ত কিছু শিক্ষক সরকারের নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। দুদকের অনুসন্ধান দল প্রাথমিকভাবে এসব শিক্ষকদেরকে মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ভঙ্গ করায় সতর্ক করে দেয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে যারা কোচিং বাণিজ্যে লিপ্ত থাকবেন তাদের বিরুদ্ধে দুদক নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

কোচিং বাণিজ্য নিয়ে নিজেদের করা অন্তর্বর্তীকালীন অনুসন্ধান প্রতিবেদন পেশ করার পর দুদক কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনটি খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়। বিষয়টি অনুসন্ধান করতে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়-১-এর উপপরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের টিম গঠন করে অনুসন্ধান কাজ শুরু হয়। কমিটির অপর সদস্যরা হচ্ছেন দুদকের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল ওয়াদুদ, মনিরুল ইসলাম, ফজলুল বারী ও উপ সহকারী পরিচালক আতাউর রহমান।

দুদক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে অভিযুক্ত সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ও সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছে দুদকের অনুসন্ধান দল। তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষে অনুসন্ধান দলটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কমিশনের কাছে সুপারিশ করবে। এরই প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ৫ আগস্ট দুদকের ১০ সদস্যের একটি টিম রাজধানীর মতিঝিল, সিদ্ধেশ্বরী ও শাহজাহানপুর এলাকায় কোচিং সেন্টার বা বাসা ভাড়া করে প্রাইভেট পড়ানোর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। অভিযানে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় ও ভিকারুননিসা নুন স্কু‹ল এ্যান্ড কলেজের বেশ কয়েকজন শিক্ষককে কোচিং সেন্টারে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান অবস্থায় পাওয়া যায়। অভিযানে কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিকভাবে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও এসব শিক্ষক পেছন দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযানের সময় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের ইংরেজীর শিক্ষক নিজাম কামাল শাহজাহানপুরে একটি ছয় তলা ভবনের চার তলা পর্যন্ত ভাড়া নিয়ে কোচিং ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। দুদকের অভিযান চালিয়ে তার সত্যতা খুঁজে পায়। এ সময় তিনি কোচিং সেন্টারেই অবস্থান করছিলেন। ভবনের একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করলে দুদক কর্মকর্তারা অনেক অনুরোধ করলেও তিনি তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করেননি বলে জানা গেছে। অভিযানে ওই একই স্কুলের বাংলার শিক্ষক আফজাল গনী ও গণিতের শিক্ষক আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে কোচিং ব্যবসার সত্যতা পায় দুদকের অনুসন্ধান দল। তাদের প্রত্যেকের কোচিং সেন্টারে কমপক্ষে অর্ধশত ও শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি পাওয়া যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ২৩টি

  1. Sayed says:

    দুদক কি ডাক্তার‌দের বিরু‌দ্ধে কোন প্রমান পায় না না‌কি শিক্ষকরা দূর্বল ব‌লে সব দোষ কেবল শিক্ষক‌দের। তবে যে সকল শিক্ষক ( প্রধাণত সরকারী কলেজের
    দুই একজন শিক্ষক) নিজ প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের
    জিম্মি করে নিজের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

  2. শামসুদ্দীন আলতামাস says:

    কোচিং বানিজ্য থাকার কারনে ছাত্র/ছাত্রীদের মেধা সুন্য হচ্ছে। এর কারন, সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৭-৮ পর্যন্ত বিদ্যালয়ে থাকতে হয়, স্বাধীন ভাবে নিজের চেস্টায় লেখা পড়া করার সময় পায়না ছাত্র ছাত্রীরা। এদের একই জায়গায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করার কারনে ব্রেনের উপর চাপ্ সৃষ্টি হচ্ছে।

    • Mofiz says:

      সম্ভবত আপনার বংশের কেউ বা আপনার পরিচিত কেউ বা আপনার কলেজ বা আপনার আশেপাশের কলেজের কেউ বুয়েট বা মেডিকেলে পড়ে না। পড়লে জানতেন তারা কোথাও না কোথাও কোচিং করেই ভালো জায়গায় পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আর আপনার যদি কেউ বুয়েট বা মেডিকেলে পড়েই থাকে তাহলে বলব আপনি একটা মিথ্যাবাদী। কারণ আপনি এমন কোন উদাহরণ দিতে পারবেন না যে কোচিং না করেই কেউ বুয়েট বা ভালো কোন মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

  3. মাহমুদুল হক, লেকচারার, কুলকান্দি অালিম মাদ্রাসা। says:

    ৫% দেয়া হোক।

  4. সাইফুল ইসলাম says:

    দুদকের দুর্নিতি করে কিনা সেটা কে দেখে…?

  5. Mehedi Hasan komol(জামালপুর) says:

    as teachers they are spot.any good output is not expected to them.they are punished more is right.

  6. Reza SHS says:

    Without training & practise a teacher can not be a good teacher.

  7. অধ্যাপক মোঃ রুহুল আমিন, চলন মহাবিদ্যালয়, জেলা বাকশিস নেতা, কুমিল্লা। says:

    জেলার নামকরা দুটি প্রতিষ্ঠান জিলা স্কুল ও শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজ শিক্ষকরা কোচিং এর সাথে জড়িত থাকতে পারে তাদের অভাববোধ ও স্বভাব থেকে। ডাক্তাররা যেখানে নির্ধারিত ফি এর চেয়ে প্রেসক্রাইব ফি কয়েকগুন বেশি আদায় করে লক্ষ লক্ষ আয় করছে। সে তুলনায় কোচিং বাণিজ্য করে শিক্ষকরা কত টাকাই আয় করছে? যারা কোচিং করে তারা ক্লাশে ছাত্রদের প্রতি নজর কম দেন। কোচিং বাণিজ্য রোধ করতে হলে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সুষ্পষ্ট ঘোষণা শিক্ষকদেরকে আলাদা ইচ্চতর স্কেল প্রদান তথা জাতীয়করণ করা।

  8. মো: জাহিদুল ইসলাম, চুয়ডাঞ্জা says:

    এমপিও শিক্ষক দের কোচিং বন্ধ করা উচিত কিন্তু ননএমপিও শিক্ষক দের আগে এমপিও করা উচিৎ এবং তারপর কোচিং বন্ধ করা উচিত। তা না হলে তারা যাবে কোথায়? এটা সরকারের দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

  9. কল্যাণ says:

    জরিপ শঠিক বলে মনে হয় না। এত কম হতেই পারে না!

  10. মো: জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ )চুয়াডাঞ্জা says:

    এমপিও শিক্ষক দের কোচিং বন্ধ করা উচিত কিন্তু ননএমপিও শিক্ষক দের আগে এমপিও করা উচিৎ এবং তারপর কোচিং বন্ধ করা উচিত। তা না হলে তারা যাবে কোথায়? এটা সরকারের দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

  11. জাহিদ বিশ্বাস (চুয়াডাঙ্গা) says:

    এমপিও শিক্ষক দের কোচিং বন্ধ করা উচিত কিন্তু ননএমপিও শিক্ষক দের আগে এমপিও করা উচিৎ এবং তারপর কোচিং বন্ধ করা উচিত। তা না হলে তারা যাবে কোথায়? এটা সরকারের দেখা উচিৎ বলে আমি মনে করি।

  12. Bipradas shil.Lecturer Ag, BAF Shaheen College,Tangail. says:

    উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার।

  13. Md. Mafizur Rahman (A.T) , P.S.S Secondary School, Daulatpur, Kushtia says:

    দেখা যাক কত দুর কি হয়!

  14. অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ্‌ says:

    মাত্র শতাধিক!!!

  15. হুমায়ুন কবির says:

    এ-তো মাত্র স্বনামধন্যদের কথা! স্বনাম অধন্য যারা তারাতো এখনও বহাল তবিয়তেই! আইন কী শুধুই স্বনাম ধন্যদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ?

  16. মোহাঃ হাসানুজ্জামান, গাংনী স্কুল এন্ড কলেজ, says:

    শিক্ষকরা স্কুল টাইমে স্কুলে থাকলেই হলো। বেশি স্যারদের পিছনে না লাগাই ভাল।

  17. পরমানন্দ ঢালী says:

    শিক্ষকরা ঘুষবাজ নয়। তাই তাদের সংসার,ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পারলে রাতে চুরি করতে যাবে। তাহলে অন্তত দুদকের দাবড় ও দুদকের আইন থেকে বাঁচবে। রোগের কারণ না খুঁজেই শিক্ষকদের দুদক ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে। হায়রে আজব দেশের আজব কাহিনী।

  18. সুশীল চন্দ্র মিস্ত্রী,সভাপতি,বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি,কাঠালিয়া,ঝালকাঠি। says:

    নীতিমালা প্রণয়ণ করার চেয়ে, বাস্তবায়ণ করা বড় কঠিন। তবে স্বদিচ্ছা থাকলে কঠিন নয়।

  19. মোঃ জিয়াউল হক। সহকারি শিক্ষক,পলাশী বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। says:

    কোচিং বাণিজ্য বন্দো করতে যে পদোক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমার মনে হয় লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশী হবে। কারন সকল শিক্ষককে এক পাল্লায় মাপা ঠিক না। এখনো ভালো শিক্ষক আছে তিনাদের মুল্যায়ন করা দরকার।

  20. মো: মনির হোসেন. কাচিয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। মতলব দক্ষিণ. চাঁদপুর। says:

    মরার উপর খরা!!!

  21. Hafijul says:

    ডাক্তারদের কি চোখে পরেনা? শিক্ষকরা নরম তাই সহজ।

আপনার মন্তব্য দিন