please click here to view dainikshiksha website

শিক্ষককে মারধর স্কুল সভাপতির

দৈনিক শিক্ষা ডেস্ক | আগস্ট ১৮, ২০১৭ - ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

স্কুলে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ। আর তার জেরে স্কুলের মধ্যেই চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে চড়-থাপ্পড়, ঘুষি মারা হল পঞ্চাশোর্ধ্ব টিচার ইনচার্জকে। ফাটিয়ে দেওয়া হল তাঁর নাক।

খানাকুলের কেদারপুর হাইস্কুলের টিচার-ইনচার্জ অনির্বাণ রায়ের ‘অপরাধ’, তিনি নতুন পরিচালন সমিতির দাবিমতো ইস্তফা দেননি। সেই কারণে বুধবার বিকেলে ওই হামলার সময়ে জোর করে তাঁকে দিয়ে পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। গোটা ঘটনায় অভিযুক্ত স্কুলের সভাপতি অভিজিৎ দলুই-সহ চার জন। গোলমালের কথা শুনে ওই বিকেলে স্কুলে পুলিশ যায়। পুলিশই অনির্বাণবাবুকে উদ্ধার করে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাতে গ্রেফতার করা হয় কানাই সিংহ নামে পরিচালন সমিতির এক সদস্যকে।

গোটা ঘটনায় স্তম্ভিত পড়ুয়ারা। তারা ভেবে পাচ্ছে না, কী কারণে এ ভাবে তাঁদের ‘স্যার’ মার খেলেন! মানসিক ভাবে পুরোপুরি বিধ্বস্ত অনির্বাণবাবুর খেদ, ‘‘নতুন পরিচালন সমিতির স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে কিছু আপত্তি তুলেছিলাম। তাই ওরা আমাকে সরিয়ে নতুন কাউকে টিচার ইনচার্জ পদে বসাতে চায়। এ জন্য বারবার ইস্তফা দেওয়ার কথা বলছিল। কিন্তু তার জন্য যে গায়ে হাত তুলবে ভাবিনি।’’ পক্ষান্তরে, মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে গিয়ে স্কুল সভাপতি অভিজিৎবাবুর দাবি, ‘‘স্কুলে নানা দুর্নীতি রুখতেই টিচার ইনচার্জ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাঁকে মারধর করা হয়নি।’’ দুর্নীতির কথা মানেননি অনির্বাণবাবু।

খানাকুল-১ ব্লকের বিদ্যালয় পরিদর্শক আবিদ হাসান বলেন, ‘‘নিন্দনীয় ঘটনা। বিভাগীয় তদন্তের প্রয়োজন। গোটা বিষয়টি জেলা স্কুল পরিদর্শককে জানানো হয়েছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, বাকি তিন অভিযুক্ত পলাতক। তাঁদের খোঁজ চলছে। ধৃতকে বৃহস্পতিবার আরামবাগ আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁকে ১৪ দিন জেল-হাজতে রাখার নির্দেশ দেন।

পুলিশ ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল পরিচালিত আগের পরিচালন সমিতি অনির্বাণবাবুকে টিচার ইনচার্জ হিসেবে মনোনীত করেছিল। তিনি বছর দুয়েক ওই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সম্প্রতি স্কুলে নতুন পরিচালন সমিতি গঠন হয়েছে। নানা বিষয় নিয়ে দুই সমিতির নেতাদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। বুধবার তা বড় আকার নেয়। এ দিন বেলা দেড়টা নাগাদ জনা কুড়ি লোক নিয়ে অভিজিৎবাবু স্কুলে আসেন। বিকেলের দিকে অনির্বাণবাবুর ঘরে ওই ঘটনা।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘এই সরকার আসার পরেই রায়গঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর করা হয়েছিল। ছ’বছর পরে সেই মারধর তো আছেই, জোর করে ইস্তফাপত্রও লেখানো হচ্ছে।’’ এবিটিএ-র রাজ্য সম্পাদক কৃষ্ণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘শিক্ষাঙ্গনে নৈরাজ্যের নতুন নজির।’’

 গোটা ঘটনায় শাসকদল কড়া হওয়ারই বার্তা দিয়েছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি তপন দাশগুপ্ত জানান, দলের যে মাপের নেতাই হোন, ওই শিক্ষকের গায়ে যাঁরা হাত দিয়েছেন, তাঁদের রেয়াত করা হবে না। পুলিশ সুপারকে অভিযুক্ত সকলকে গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১২টি

  1. মোঃ মিলন হোসেন says:

    প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে কমিটির বাড়াবাড়ি ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে এবং প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে৷ কারন একদিকে অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত কমিটি অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দিনের পর দিন অন্যায় করে চলেছে৷
    চাই সভাপতি অভিজিৎবাবুর দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি৷
    চাই শিক্ষক সুরক্ষা আইন৷

  2. মো: আবুল কাশেম সহকারী শিক্ষক লাকেশ্বর দাখিল মাদ্রাসা ছাতক সুনামগঞ্জ says:

    ক্ষমতার অপব্যবহার জাতিকে হতবাক করেছে। দেশের ৯৭% বেসরকারি শিক্ষক আর কত অবহেলা অবজ্ঞার শিকার হবে এই প্রশ্নের উত্তর কে দেবে?

  3. দিলীপ সিকদার,সহকারী প্রধান শিক্ষক,গংগানগর আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ,শরীয়তপুর। says:

    খুবই ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

  4. এম.সোলায়মান এম.এ says:

    এ রকমের আচারন সভাপতির মোটেও শোভা পাইনি

  5. md.mahabur rahaman says:

    ধিক্কার জানায় good for nothing কমিটিকে।যাদের হাত ছাড়া জীবনেসফল হওয়া কেউ হতে পারেনি তাদের গায়ে হাত তুলা! এই নরপশুদের শাস্তি দাবি করছি। কমিটিতে বি এ পাশের নিচে না রাখায় ভাল।

  6. মোঃ আবুল খায়ের। says:

    ইন্ডিয়ায় এগুলো হতে পারে। কারণ ওরা যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা শিক্ষা বুঝে না। বুঝে টাকা। তবে রাজেনৈতিক দ্বন্দ্ব এরকম স্কুলে থাকা ঠিক নয়।

  7. Md Matiar Rahman khan says:

    বাংলাদেশে পাওগেলে মাথা নেরা করে
    গরম পিচ ও তুলা দিয়ে নষ্ট মাথা ঠান্ডা করাতাম।

  8. রশিদ says:

    শালারে জুতা মারা উচিত। বাংলাদেশে হলে তাই হতো।

  9. মোঃ হেমায়েত উদ্দিন(প্রভাষক)রসায়ন,হাজী আক্কেল আলী হাওলাদার ডিগ্রী কলেজ, পটুয়াখালী। says:

    বেতন দেয় সরকার কিন্তু খবর দারি করে কমিটি তার বাস্তব চিত্র এটি।স্কুল,কলেজ মাদ্রাসা থেকে কমিটি প্রথা বাতিল করে প্রশাসন কতৃক নজোর দারি বাড়ালে হয় তওবা এরকম ঘটনা আর ঘটবেনা আশা করা যায়।

  10. মোঃ রেজাউল করিম ইত্যা আদর্শ মাঃবিঃ মনিরামপুর,যশোর says:

    “বনেরা বনেই সুন্দর
    শিশুরা মাতৃক্রোড়ে” । এই পশু থাকবে জঙ্গলে-স্কুলে ঢুকলো কি ভাবে ? ঐ এলাকায় সব কি পশুর বসবাস ?

  11. MD. SHAH ALAM says:

    কুশিক্ষিত লোক কোমিটির সভাপতি হলে এমন টা তো হবেই

  12. মোঃ মোফাজ্জল হোসেন (মুকুল) says:

    অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী, জুতারে কয় আলমারি…. এই সভাপতি শালার অবস্থা তাই, সত্যি কথা বলতে – “সরকার শিক্ষকদের কোন ক্ষমতা দেননি তাই শিক্ষকদের সাথে ২ টাকা মূল্যের নেতারা অসদাচরণ করতে পারে”
    ছাত্র জীবনে দেখেছি – যারা ক্লাসে সবচেয়ে খারাপ ছাত্র তারা ছাত্র নেতা, তারাই ভবিষ্যৎ জীবনে ২ টাকা মূল্যের নেতা”
    আর তাদের অধীনে ওই ভাল ছাত্রগণ চাকরী করে…. এইতো উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্য…

আপনার মন্তব্য দিন