শিক্ষকদের আন্দোলন আবেগের নয় বিবেকের - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

শিক্ষকদের আন্দোলন আবেগের নয় বিবেকের

মোস্তাফিজুর রহমান শামীম |

সক্রেটিসের ভাষায় ‘শিক্ষা হল মিথ্যার অপনোদন ও সত্যের বিকাশ। এরিস্টটলের মতে ”সুস্থ দেহে সুস্থ মন তৈরি করাই হল শিক্ষা’’। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় ‘শিক্ষা হল তাই যা আমাদের কেবল তথ্য পরিবেশনই করে না, বিশ্বসত্তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের জীবনকে গড়ে তোলে’।

এ থেকে স্পষ্ট শিক্ষা কোনও সাধারণ বিষয় নয়। আর একটি আসাধারণ বিষয়কে সাধারণ, সাবলিলভাবে যিনি তুলে ধরেন তিনিই শিক্ষক। এই শিক্ষকই যখন তাদের অধিকার আদায়ের জন্য স্বোচ্চার হন তখন হয়ে যান পাগল। কারণ, শিক্ষকরাতো শুধু দিয়েই যাবেন। তারা চাইবেন কেন?!

একটি উন্নয়নশীল দেশের উন্নতি নির্ভর করে প্রথমত সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। আমাদের দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষকদের ত্যাগের উপর। দয়াকরে ভুল বুঝবেন না। আমি আপনাদের কথা বলিনি। আপনারা অনেক ভালো আছেন তা দেশবাসী জানেন। আমি শুধু বলতে চেয়েছি বেসরকারী এমপিও, ননএমপিও শিক্ষকদের কথা। ছোটবেলায় শিক্ষক বাবাকে দেখেছি তাদের বেতনের জন্য আন্দোলন করতে। এখন দেশ এগিয়ে গিয়েছে। সবার মাথাপিছু আয় বেড়েছে। অষ্টম পে-স্কেলে শিক্ষদের বেতন বেড়ে দ্বিগুন হয়েছে। তবুও কেন আন্দোলন? হতাশার শুরু ঐখান থেকেই। অষ্টম পে-স্কেলের আওতায় শুরু হলো বৈশাখী ভাতা। পহেলা বৈশাখের বাজারে সরকারি চাকরিজীবীদের হাতে ঝোলানো রূপালি ইলিশের ঝলকানিতে শিক্ষকরা চোখে ঝাপসা দেখছেন প্রতিবছর। বৈষম্যের বেড়াজালে শুধু একপক্ষকে বৈশাখী ভাতা প্রদান করে বেসরকারি শিক্ষকদের ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন!আর কি চাই তাদের?

অষ্টম পে-স্কেলের আওতাধীন সবাই বার্ষিক শতকরা পাঁচ ভাগ প্রবৃদ্ধি পাচ্ছেন। আর বেসরকারি শিক্ষকেরা পাচ্ছেন বঞ্ছনা। করতে হচ্ছে আন্দোলন, ক্লাস বর্জন, আমরণ অন্বেষণ ইত্যাদি। প্রেস ক্লাবের সামনে পড়ে থাকছে পলিথিনে মোড়ানো বিবেকের লাশ। কেউ দেখার নেই, কেউ শোনারও নেই। বুদ্ধিজীবী সুশীল সমাজ বুদ্ধি বিক্রি করেন টেলিভিশনের টকশোতে। শিক্ষকদের নিয়ে ভাববার সময় কোথায়?!

শুরু হয়েছে জাতীয়করণ আন্দোলন। চলছে আমরণ অনশন। জাতীয়করণ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। নতুন করে আর লিখতে চাই না। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় একটি স্কুল ও কলেজ  জাতীয়করণের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ায় বেড়েছে দ্বিমত, সংঘাত, আন্দোলন, হাইকোর্টে রিট এবং প্রাণ গিয়েছে শিক্ষকের। এভাবে বিক্ষিপ্ত জাতীয়করণ শিক্ষাক্ষেত্রে আসলেই কি সুফল বয়ে আনতে পারে?!  দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতেই হবে। দৈনিক শিক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরণ অনশন থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন একশ পঞ্চাশ জন শিক্ষক। আরও হয়তোবা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যাবেন। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? মারা তো জাননি! মারা গেলে হয়তোবা বিষয়টি নিয়ে ভাবা শুরু করবেন।

শিক্ষা নামক মৌলিক অধিকারটি আজ পণ্যে পরিণত হতে চলেছে। সরকারীকরণের বর্তমান প্রক্রিয়া চলতে থাকলে শিক্ষা সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাবে। বিরাজমান শিক্ষার মানের বৈষম্য আরও বেড়ে যাবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে গোটা জাতি। এমতাবস্থায়, সরকারিকরণের বর্তমান ধারা থেকে বের হওয়াটাই দেশ ও জাতীর জন্য মঙ্গলজনক হবে। এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ। নিশ্চিত হবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বন্টন। আর জনগনই তো রাষ্ট্রের মালিক!

আপনাদের শিক্ষা, জ্ঞান যদি কোন শিক্ষক দিয়ে থাকেন তবে দয়াকরে সেই মহান শিক্ষকের উছিলায়, বেসরকারি শিক্ষকদের কথা ভাবুন। আমাদের গাছে তুলে দিয়ে মই টান দিবেন না। মই না থাকলে দেশের নব্বই শতাংশ শিক্ষার্থীও গাছে উঠতে পারবে না। এই শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলে একটি সুন্দর জাতী গঠন করে দেশকে সমৃদ্ধ করায় আমরাও অঙ্গিকারবদ্ধ। আমরা আবেগ দিয়ে বিবেক বিসর্জন দিতে চাই না। শিক্ষকরা যদি জাতি গড়ার কারিগর হয়ে থাকেন তবে এই আন্দোলন জাতির বিবেকের আন্দোলন।

 

মোস্তাফিজুর রহমান শামীম, প্রভাষক,ইংরেজি বিভাগ, ভেড়ামারা কলেজ, কুষ্টিয়া।
এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ৮৯০ শিক্ষক, বিএড স্কেল ৬০ জনের - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন আরও ৮৯০ শিক্ষক, বিএড স্কেল ৬০ জনের কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেনশন স্কিমে বিনিয়োগের সুযোগ চান শিক্ষকরা - dainik shiksha কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেনশন স্কিমে বিনিয়োগের সুযোগ চান শিক্ষকরা আলিমে ভর্তি নিশ্চায়নের সুযোগও ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত - dainik shiksha আলিমে ভর্তি নিশ্চায়নের সুযোগও ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন - dainik shiksha ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংসদ টিভিতে মাধ্যমিকের ক্লাস রুটিন হাটহাজারী মাদরাসা থেকে শফীর পদত্যাগ - dainik shiksha হাটহাজারী মাদরাসা থেকে শফীর পদত্যাগ ৫৭ ও ৩৯ দিনের পৃথক দুই পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ - dainik shiksha ৫৭ ও ৩৯ দিনের পৃথক দুই পাঠ পরিকল্পনা প্রকাশ হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা - dainik shiksha হাটহাজারী মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সভা ২৪ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে বোর্ড চেয়ারম্যানদের সভা ২৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভায় আসতে পারে নতুন মুখ - dainik shiksha মন্ত্রিসভায় আসতে পারে নতুন মুখ প্রশংসাপত্রের ফি নিয়ে সরকারি আদেশ জরুরি - dainik shiksha প্রশংসাপত্রের ফি নিয়ে সরকারি আদেশ জরুরি please click here to view dainikshiksha website