please click here to view dainikshiksha website

শিক্ষকদের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা লুটপাটের প্রমাণ মিলেছে

বদরুল আলম শাওন: | ডিসেম্বর ২০, ২০১৬ - ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

কয়েকটি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাইমারি স্কুল শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে। দুর্নীতি বন্ধে উপবৃত্তি বিতরণ পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নেছার আহমেদ স্বাক্ষরিত ২৯ নভেম্বরের একটি চিঠিতে এসব তথ্য জানা যায়।

সম্প্রতি কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় উপবৃত্তির টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। ১১ জন উপ-সচিব পৃথক জেলায় পৃথক তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন।
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার নবগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রানী বালা সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। একইভাবে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার জামতৈল উত্তর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু শামা-এর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার মেটাংঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ও হোসনাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মাসুমা সারোয়ারের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অসৎ উদ্দেশ্যে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ৩৬নং নবগ্রাম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ৩৬৪ ছাত্রছাত্রীর মাঝে এক হাজার ২০০ টাকা করে দেয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকা অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ৬০০ টাকা করে প্রদান করেন এবং বাকি টাকা তিনি আত্মসাত করেন বলে অভিভাকরা লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্তের সময়েও তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন। ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকরা ডিজি, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জনরোষের পরে প্রধান শিক্ষক দায় স্বীকার করে কিছু টাকা ফেরতও দিয়েছেন। তবে তার অপসারণসসহ কঠোর শাস্তির দাবিতে অসন্তোষ বাড়ছে এলাকাজুড়ে।

তদন্ত কমিটি বলছে, কুমিল্লায় জেলার মুরাদনগর উপজেলার মেটংঘর ও হোসনাবাদ গ্রামের পৃথক দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছিলেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে ওই এলাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। জেলার মুরাদনগর উপজেলার মেটংঘর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ১২শ’ থেকে ৬শ’ টাকা করে কেটে রাখেন। হোসনাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাসুমা সারোয়ারের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ ওঠে। তদন্তে তাদের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার অসৎ উদ্দেশ্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।

গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নেছার আহমেদ স্বাক্ষরিত ২৯ নভেম্বরের একটি চিঠিতে বলা হয়, “ভবিষ্যতে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের সময় প্রতি জেলায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ২ জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করে উপবৃত্তির টাকা বিতরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।”

চিঠিতে বলা হয়, “উপবৃত্তি প্রকল্পের ‘প্রকল্প পরিচালককে’ আরো সক্রিয় হওয়ার জন্য বলা যেতে পারে, যাতে প্রতি জেলায় কর্মরত মনিটরিং কর্মকর্তা স্ব-স্ব দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন।”
প্রকল্প পরিচালককে আরো নিবিড়ভাবে তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বিতরণ কার্যক্রম তদারকির জন্য আরো জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, যে জেলায় সুষ্ঠুভাবে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ হবে, সেই জেলার কর্মকর্তাদেরকে দেশে/বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
আরো বলা হয়, যেখানে উপবৃত্তি বিতরণে অনিয়ম হবে, সেখানে সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ মনিটরিং কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা যেতে পারে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম খান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে। আবার অনেকের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যাদের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছি। অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না। অধিদফতর অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এখানে গাফিলতির আর কোন সুযোগ নেই।

নজরুল ইসলাম খান জানান, যেহেতু অভিযোগ আসছে তাই এখন থেকে আমরা উপবৃত্তি বিতরণ প্রক্রিয়া শতভাগ স্বচ্ছ রাখতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি। যেখানে ভাল শিক্ষক-কর্মকর্তারা পুরস্কার হিসেবে বিদেশ সফরেরও সুযোগ পাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন: