please click here to view dainikshiksha website

শিক্ষকের ঠ্যাং ভাঙার হুমকি, অভিযোগ অস্বীকার শিক্ষা কর্মকর্তার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি | জানুয়ারি ২১, ২০১৮ - ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) সাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ৮০ জন শিক্ষক একটি লিখিত অভিযোগ গত সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছেন। নানা অভিযোগের একটি হচ্ছে একজন শিক্ষকের ঠ্যাং ভাঙার হুমকি।

তবে, ওই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি শিক্ষকরা। তাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, সাহেদুল শিক্ষকদের ক্লাস্টারের আওতায় শিক্ষকদের ডেকে নিয়ে তারিখ ও শিডিউলবিহীন কাগজে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। শিক্ষকরা নৈমিত্তিক ও চিকিৎসা ছুটির আবেদন করলেও সুপারিশ করেন না। বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে ভুয়া পরিদর্শন প্রতিবেদন দেন। শ্রেণি পাঠদানে কোনো পরামর্শ দেন না।

উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্লিপ কার্যক্রমের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের সময় দুর্নীতি করেন। এ কার্যক্রমের আওতায় ওজন ও শব্দ যন্ত্র পুরনোগুলো ব্যবহারে বাধ্য করেন। পরিকল্পনার ছক নিজের মতো করে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে জোর করে এক হাজার টাকা করে নেন, যেখানে ছক তৈরি বা কম্পোজ করতে খরচ হয় মাত্র ৩০ টাকা। কাবস্কাউট প্রতিজ্ঞা আইন ও মটো একটি ব্যানার ১০০ টাকায় খরচ করে প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা করে। বিদ্যালয়ে এসএমসি গঠনের ব্যয়ভার বহনের নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন তিনি।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখান। সম্প্রতি মিথ্যা অভিযোগে সহকারী এক শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেন। মাসিক সমন্বয় সভা নিয়ম অনুসারে হয় না। ১০ জানুয়ারি সহকারী এক শিক্ষকের ঠ্যাং ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘ওই কর্মকর্তার অন্যায়-অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ।’

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছেন, তা মোটেও সত্য নয়। তাঁরা মিথ্যা আর বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। শিক্ষকরা সবাই এক হয়ে আমার বিরুদ্ধে নেমেছেন।’

রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকরা যেসব অভিযোগ করেছেন, তার কিছুটা সত্যতা রয়েছে। বিষয়গুলো আমি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার চৌধুরী বলেন, ‘এখনো অভিযোগ হাতে পাইনি। তবে শুনেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৭টি

  1. আবদুল মোতালেব, প্রভাষক অর্থনীতি, ঝলম কলেজ,বরুড়া, কুমিল্লা। says:

    সঠিক বিচার হওয়া দরকার নতুবা শিক্ষকরা অপদস্থ হতেই থাকবে।

  2. মোঃ দিদারুল আলম চৌধুরী,চট্টগ্রাম says:

    এখনও এই কর্মকর্তা কীভাবে বহাল আছেন?

  3. ো: চান মিয়া says:

    জনৈক একজন শিক্ষক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন । তাহার প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য উক্ত কর্মকর্তাকে হেনস্থা করার পায়তারা করছেন। উক্ত খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। শিক্ষক অপদস্থ হয়না পক্ষান্তরে কর্মকর্তা হেয় প্রতিপন্ন হয়।

  4. নাসরিন বসুনিয়া says:

    উক্ত অভিযোগ যে মিথ্যা তাহা প্রমানিত কারণ যে আশি জন শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাহারা উক্ত কর্মকর্তার ক্লাস্টারের অধীনস্থ নন। কয়েকজন দুর্নীতিগ্রস্থ শিক্ষক এই অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন।

  5. মিলি says:

    অপরাধি যতো শকতিশালি হোক না কেন প্রকৃত সত্য বেড়িয়ে আসবে এবং তার শা্সতি তাকে পেতে হবে

  6. দুখে: কইতাছি says:

    নরম ঠ্যং, ভাংতে কষ্ঠ হবে না।

  7. মোঃ ইহতিশাম- উল- মুলক প্রভাষক ,চৌহালী এস ,বি,এম কলেজ সিরাজগঞ্জ । says:

    উভয় পক্ষ সংযত আচরন কাম্য ।মালিক মনিব নিজেদের না ভাবা উচিত ।

আপনার মন্তব্য দিন